ব্যাংক হিসাব

ব্যাংক হিসাব খোলার সময় পরিচয়দানকারীর দায়-দায়িত্ব

মনোরঞ্জন দাস একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের চলতি হিসাব গ্রাহক। তিনি ১৯৭২ সালে লোকনাথ আচার্য নামের একজনের চলতি হিসাবের পরিচয়দানকারী হন। লোকনাথ হিসাব খোলার ৬ মাস পর ৩২,০০০/-, ৭৮,০০০/- ও ৯০,০০০/- টাকা মূল্যের ৩টি ডিমান্ড ড্রাফট তার হিসাবে জমা করেন। এবং পরক্ষণেই তিনি একটি চেক দিয়ে ২৭,০০০/- টাকা হিসাব হতে তুলে নেন। পরদিন ১,৪০,০০০/- টাকা নগদ উত্তোলণের জন্য আরেকটি চেক দেন।

এ সময় ব্যাংক ম্যানেজারের সন্দেহ হয় এবং তিনি অনুসন্ধান করে জানতে পারেন ড্রাফট তিনটিই জাল ছিল। ব্যাংকের পক্ষ হতে ম্যানেজার লোকনাথ এবং মনোরঞ্জন দুইজনের নামেই ২৭,০০০/- টাকা উত্তোলন ও জাল ড্রাফট জমা দেয়ার জন্য মামলা করেন। মামলা আদালতে গড়ায় ৩২ বছর। ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত মনোরঞ্জনকে ৩ বছরের কারাদন্ড দেয়। হাইকোর্টে আপীল করলে মনোরঞ্জনের সাজা কমিয়ে ৬ মাসের জেল দেয়া হয়। মনোরঞ্জন সুপ্রীম কোর্টে আপীল করে।

ঘটনাটি ভারতের জামশেদপুরের। সুপ্রীম কোর্ট একই বছর তাকে বেকসুর খালাস দেয় এবং রায় দেয় “হিসাবধারীর জালিয়াতির জন্য পরিচয়দানকারীকে দায়ী করা যাবে না। পরিচয়দানকারীর দায়িত্ব হিসাব খোলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ”। পরিচয়দানকারী হিসাব খোলার দিন পর্যন্ত নিশ্চিত করবেন যে-
১. হিসাবধারী ব্যক্তিকে চিনেন;
২. হিসাবধারীর ছবি ও নাম ঠিক আছে;
৩. পিতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ঠিক আছে;
৪. পেশা ঠিক আছে।

সাধারণত হিসাব খোলার ফরমে ‘পরিচয়দানকারীর তথ্য’ অনুচ্ছেদে পরিচয়দানকারীর স্বাক্ষর থাকে তবে কোন ঘোষণা থাকে না। কোন কোন ফরমে স্বাক্ষরের পূর্বে “আমি হিসাবধারীকে –বছর যাবৎ চিনি” বা “The account holder is known to me” লেখা থাকে। হিসাবধারীকে চিনি তার মানে এই না যে সে ভবিষ্যতে কোন অপকর্ম করতে পারবে না বা অপকর্ম করলে আমিও তার সাথে জড়িত হব। একজন মানুষের চরিত্র তার অতীত দেখে অনুমান করা যায় তবে ভবিষ্যতে তা ঠিক থাকবে একথা কেউ বলতে পারবে না।

ব্যাংক, ব্যাংকার, ব্যাংকিং, অর্থনীতি ও ফাইন্যান্স বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবর, প্রতিবেদন, বিশেষ কলাম, বিনিয়োগ/ লোন, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ফিনটেক, ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারগুলোর আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ 'ব্যাংকিং নিউজ', ফেসবুক গ্রুপ 'ব্যাংকিং ইনফরমেশন', 'লিংকডইন', 'টেলিগ্রাম চ্যানেল', 'ইন্সটাগ্রাম', 'টুইটার', 'ইউটিউব', 'হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল' এবং 'গুগল নিউজ'-এ যুক্ত হয়ে সাথে থাকুন।

● পরিচয়দানকারী তার স্বাক্ষরের পূর্বে কোথাও বলে না যে হিসাবধারীর জালিয়াতির দায়-দায়িত্ব অামি নিব।
● মামলায় জয়লাভ করতে হলে আসামীর নাম, পিতা, মাতা, পেশা, ঠিকানা ইত্যাদি সঠিক হতে হয়। ব্যাংক চাইবে Introducer যেন Account holder এর সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে যাতে ব্যাংক অন্তত মামলা করতে পারে।
● পরিচয়দানের পূর্বে হিসাবধারী অন্য কোন ব্যাংক জালিয়াতির বা কোন ফৌজধারী মামলার আসামী হলে পরিচয়দানকারী এ তথ্য গোপন করার দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন।

কার্টেসিঃ আনোয়ার পারভেজ, এসিসিএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রিলেটেড লেখা

Back to top button