আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস

0
235

আজ ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দের সেতুবন্ধ তৈরির জন্য অভিবাসন; সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী অভিবাসীর মর্যাদা ও তার পরিবারের সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে প্রতি বছর এ দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতি বছরের মতো এবারো ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস
আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সকল সদস্যভূক্ত দেশে পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ ডিসেম্বর, ২০০০ সালে দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলতঃ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্যাপক হারে অভিবাসন ও বিপুলসংখ্যক অভিবাসীদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিকে ঘিরেই এ দিবসের উৎপত্তি। ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে সাধারণ পরিষদ অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক চু্ক্তি ৪৫/১৫৮ প্রস্তাব আকারে গ্রহণ করে।

দিবস উদযাপন
বিশ্বের বহু দেশ, সরকারের সংগঠন কিংবা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা, সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পালন করে। তন্মধ্যে আলোচনা সভা, পথসভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মানববন্ধন উল্লেখযোগ্য। এ সকল বিষয়গুলোর সবটুকুই অভিবাসীদের উপজীব্য করে অনুষ্ঠিত হয়। অভিবাসীদের মানব অধিকারের বিষয়ে তথ্যের বিস্তৃতি ঘটানো এবং সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব্ব-সংঘাত থেকে মুক্তি লাভ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, অভিবাসীদের রক্ষার লক্ষ্যে নিশ্চয়তা বিধানে রূপরেখা প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এতে প্রাধান্য পায়।

দিবস উদযাপনের কারণ
১৯৯৭ সাল থেকে ফিলিপিনো এবং অন্যান্য এশীয় অভিবাসী সংগঠনগুলো দিবসটি পালন করতে শুরু করে। শুরুর দিকে তারা ১৮ ডিসেম্বরকে নির্ধারণ করে এবং অভিবাসীদেরকে ঘিরে ‘আন্তর্জাতিক ঐক্য দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ অভিবাসী শ্রমিক ও দেশে রেখে আসা তাদের পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন করেছিল।

এর প্রেক্ষাপটে ১৮ ডিসেম্বর দিনটিকে লক্ষ্য করে মাইগ্রেন্ট রাইটস্‌ ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন মাইগ্রেন্টস রাইটস্‌-সহ বিশ্বের অনেক সংগঠন অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষার্থে বৈশ্বিকভাবে প্রচারণা চালায়। অবশেষে ১৯৯৯ সালের শেষার্ধে অন লাইনে ব্যাপক প্রচারণার ফলে জাতিসংঘের মুখপাত্র এ দিবসটিকে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

প্রতিপাদ্য বিষয়
দিবসটি পালনে বাংলাদেশে এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ ও সম্মান দুই-ই মেলে’। আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসটি পালনের লক্ষ্যে আজ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে বিভিন্ন সনে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সমূহ-
২০১৯-দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে অর্থ সন্মান দুই-ই মেলে;
২০১৮-অভিবাসীর অধিকার মর্যাদা ও ন্যায়বিচার;
২০১৭-নিরাপদ অভিবাসন যেখানে টেকসই উন্নয়ন সেখানে;
২০১৬-উন্নয়নের মহাসড়কে অভিবাসীরা সবার আগে;
২০১৫-বিশ্বময় অভিবাসন সমৃদ্ধ দেশ উৎসবের জীবন;
২০১৪-নিরাপদ অভিবাসন দিন বদলের লক্ষ্য অর্জন;
২০১৩-অভিবাসীর অবদান সমুন্নত দেশের মান;
২০১২-আইন মেনে যাব বিদেশ অর্থ এনে গড়ব স্বদেশ;
২০১১-নিরাপদ অভিবাসন অর্থনীতির উন্নয়ন।

Leave a Reply