1. bankingnewsbd@gmail.com : ব্যাংকিং নিউজ : ব্যাংকিং নিউজ
  2. mosharafnbl@yahoo.com : মোশারফ হোসেন : মোশারফ হোসেন
  3. msakanda@yahoo.com : ইবনে নুর : ইবনে নুর
  4. shafiqueshams@gmail.com : Shamsuddin Akanda : Shamsuddin Akanda
  5. surjoopathik@ymail.com : শরিফুল ইসলাম : শরিফুল ইসলাম
  6. tasniapopy@gmail.com : তাসনিয়া তাবাসসুম : তাসনিয়া তাবাসসুম



আয়কর জ্ঞানঃ কর কর্মকর্তা বনাম ব্যাংকার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

অনেকেই ব্যক্তিগত, ব্যবসা বা নানাবিধ কারনে TIN Certificate নেন। একসময় প্রতিবছর TIN Certificate নবায়নের একটি ব্যবস্থা ছিল। ২০১৩ সাল থেকে ইনকাম ট্যাক্স ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে E-TIN দেয়া শুরু হয়। তখন থেকে নবায়নের প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও প্রয়োজন হয় প্রতিবছর রিটার্ন জমা দেয়ার। ডিজিটাল সিস্টেমে প্রদত্ত E-TIN সার্টিফিকেটে কিছু কথা লেখা থাকে ছোট অক্ষরে যা আমরা অনেকেই পড়ি না বা পড়লেও ততটা গুরুত্ব দেই না।

লাইনগুলো হচ্ছেঃ
Please Note:
1. A Taxpayer is liable to file the return on income under section 75 of the Income Tax Ordinance, 1984.
2. Failure to file Return of Income under section 75 is liable to-Penalty under section 124; and
3. Prosecution under section 164 of the Income Tax Ordinance, 1984.

এই লাইনগুলোতে মূলত ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪ এর ধারা ৭৫, দন্ডবিধি ১২৪ এবং ধারা ১৬৪ এর কথা বলা হয়েছে। প্রতি অর্থবছর বাজেট ঘোষণার পর আয়কর পরিপত্র প্রকাশ করা হয়। পরিপত্রতে বেশ কয়েকবারই আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৭৫ ধারা এর সংশোধনী আনা হয়েছে। ৭৫ এর ধারাটি মূলত রিটার্ন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা বিষয়ক ধারা। আজকের এই লেখায় আমরা এই ধারার পরিবর্তনগুলো আলোচনা করব।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সঞ্চয়পত্র খোলার জন্য ই-টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে মুনাফা বেশি হওয়ায় হুজুগে অনেকেই নিজের মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যার নামে ই-টিন খুলছেন৷ ই-টিন খুলে কেউ সঞ্চয়পত্র কিনছেন কেউবা কিনছেন না। ই-টিন খোলার পর কোন কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ফর অল এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

এসব ই-টিনধারীর অনেকেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না বা রিটার্ন দাখিলের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না বা রিটার্ন এর বিষয়টি জানেনই না। কিন্তু রিটার্ন দাখিল না করলে স্ত্রী, কন্যা, মা বা প্রিয়জন পরবর্তীতে কোন জেল জরিমানায় সম্মুখীন হবেন কিনা অনেকেই সেটি বুঝতে পারেন না।

২০১৪ সালে অনেকে মজা করেও ই-টিন খুলতেন৷ ২০১৪ সালের অর্থ আইনে, সংশ্লিষ্ট বছরে করযোগ্য আয় না থাকলে বা আগের তিন বছরেও কর দেয়ার মতো আয় না থাকলে রিটার্ন জমা দেয়ার বাধ্যবাধ্যকতা ছিল না৷ ২০১৫ সালেও ৭৫ ধারার এই বিধি বহাল ছিল।

কিন্তু ২০১৬ সালে আগের শর্ত বাতিল করে বলা হয় সকল ই-টিন ধারীকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। ২০১৬ সালে অনেকগুলো ব্যক্তিখাত চিহ্নিত করার সাথে সাথে চাকুরিজীবীদেরকে ১৬০০০/- টাকা মূলবেতন হলেই বাধ্যতামূলক ই-টিন খুলে আয়কর রিটার্ণ জমার দেয়ার কথা বলা হয়। বলা হয় আয়কর শূন্য হলেও রিটার্ন দিতে হবে৷

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (Banking News Bangladesh. A Platform for Bankers Community.) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

২০১৭ সালে ধারা ৭৫ সংশোধন পূর্বক ২০১৬ সালে চিহ্নিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কোন ব্যবসায় বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) নিয়োজিত বেতনভোগী কর্মীর জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়।

২০১৮ সালে এর আওতা আরো বাড়িয়ে রাইড শেয়ারিং মোটরযান চালককে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধ্যতার আওতায় আনা হয় এবং একই সাথে বাংলাদেশ স্থায়ী এস্টাবলিশমেন্ট নেই এমন অনিবাসীকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধ্যকতা মুক্ত করা হয়।

২০১৯ এ এসে বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা আছে এমন অনিবাসী ব্যক্তি এর ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়।

২০১৬ তে সব ই-টিন ধারীর জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলেও ৭৫ ধারার সংশোধনীর (খ) তে বলা হয়েছে “যদি আয় বছরের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন বছরের কোন একটিতে ঐ ব্যক্তির কর নির্ধারণ ও তার ফলে করদায় সৃষ্টি হয়ে থাকে “(তাকে রিটার্ন দাখিল করতেই হবে)। অর্থাৎ পূর্ববর্তী তিন বছরের কোনটিতেই করযোগ্য আয় না থাকলে রিটার্ন না দিলেও হয়। কিন্তু আগের তিন বছর রিটার্ন অবশ্যই দাখিল থাকতে হবে৷ অর্থাৎ ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালেও আদেশটি বহাল থাকে। এই হচ্ছে মোটামুটি ৭৫ ধারার ইতিহাস।

এ থেকে বোঝা গেল, যারা মা, বোন, স্ত্রী সহ প্রিয়জন এর নামে ই-টিন খুলছেন তাদের অবশ্যই রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আয় না থাকলেও তিন বছর রিটার্ন দিতে হবে। অন্যথায় জেলের তেমন কোন ভয় না থাকলেও জরিমানার ভয় আছে। কেউ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে ১২৪ ধারা মোতাবেক জরিমানার সম্মুখীন হবেন এবং ১৬৪ ধারা অনুযায়ী মোকাদ্দমার মুখোমুখি হবেন।

জরিমানার পরিমাণ রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ তারিখের পর প্রথম দিনের জন্য নূন্যতম ১০০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত করা আছে। “আইনটি জানিনা বা উক্ত বিধি পড়িনি” বলে সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে এই দন্ডবিধি থেকে অব্যহতির সুযোগ নেই৷

আমরা আইন না জানার জন্য চুক্তি আইনে একটি মামলার গল্প বলি —
এই মামলাটি ১৮৮৭ সালের “পার্কার বনাম সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে মামলা” নামে পরিচিত। পার্কার নামে এক ভদ্রলোক অন্যত্র পাঠানোর জন্য রেলেগাড়ীতে একটি ব্যাগ জমা দেন। এর জন্য টাকা দিয়ে রশিদও কাটেন। বিপত্তি বাধে যখন রেল কতৃর্পক্ষ তার ব্যাগটি হারিয়ে ফেলে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দু:খ প্রকাশ করে তাকে ১০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেন।

পার্কার সাহেব ২৪ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবী করেন। তার ব্যাগের মূল্য ছিল ২৪ ডলার। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে রশিদ/টিকেট দেখিয়ে বলেন “উল্টোপাশে বিধিমালা পড়ুন”। পার্কার উল্টোপাশ পড়লেন তাতে লেখা আছে মালামাল হারানো গেলে রেলওয়ে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ। মিস্টার পার্কার বিষয়টি মানতে পারেননি। তিনি বাকী চৌদ্দ ডলারের জন্য আদালতে মামলা ঠুকে বসেন।

তার আইনজীবী যুক্তি দেন পার্কার সাহেব টিকেটের উল্টোপাশ পড়েননি বা তিনি পড়তে পারেন না। কিন্তু আদালত রায় দেন মিস্টার পার্কারকে জানানোর সকল আয়োজন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ করেছিল। মিস্টার পার্কার আইন জানেন না বা পড়েননি সেটার দায় রেলওয়ের নয়, পার্কার সাহেবের৷ তাকে জরিমানা মেনে নিতে হবে।

তাই ই-টিন এর কোনায় লিখা বিধি ‘জানিনা’ বলা কোনভাবেই ধোপে টিকবে না৷ রিটার্ন দাখিল না থাকলে উপ-কর কমিশনার যে কাউকে ই-টিন ধরে রিটার্ন তলব করতে পারেন৷ আইন তাকে সেই ক্ষমতা দিয়েছেন। শুধু উপ-কর কমিশনার নয়, ফৌজদারি দন্ডবিধি ১৮৯৮ এর দ্বিতীয় তফসিল মোতাবেক ব্যাংকাররাও রিটার্ন তলব করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

ব্যাংকাররা ইচ্ছে করলে যে কোন ঋণ গ্রহীতার বা আবেদনকারীর আয়কর ফাইল তলব করতে পারেন, চেক করতে পারেন, পদক্ষেপ নিতে পারেন। রিটার্ন পরিচ্ছন্ন না থাকলে ব্যাংক ঋণ আবেদন ফেরত দিতে পারে। প্রয়োজনে রাজস্ববোর্ডকে অবহিত করতে পারে। আইনানুযায়ী ব্যাংক কে ইনকাম ট্যাক্স ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিও বলা যায়। ফলে নিজে আইন মানার সাথে সমাজের অন্য একটি গোষ্ঠীকে আইন মানানোর দায়িত্বও সরকার ব্যাংকারদের দিয়েছেন৷

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে না দেখানো সকল ডিপোজিট এবং সম্পত্তি অবৈধ। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ব্যাংলাদেশ ভিশন সফল হবে এবং NID, CIB, TIN, BIN, Passport সহ বিভিন্ন ডাটাবেজ পরস্পরের সাথে যুক্ত হবে এবং অধিকতর ডিজিটাল হবে। তখন আর ভুল তথ্য বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোন কাজ করে আইনের চোখ ফাঁকি দেয়া যাবে না।

তাই সচেতন হবার সময় এখনই। আমাদের অসচেতনতা যেন আমাদের প্রিয় মানুষটিকে বিপদে না ফেলে। আসুন সবাই সচেতন হই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে সহযোগিতা করি। নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করি, ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দেই এবং অন্যদেরও উৎসাহ দেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মানে দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করি।

লেখকঃ আল ইমরান, ম্যানেজার (প্রিন্সিপাল অফিসার), সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, আগলা শাখা, ঢাকা।

Leave a Reply



লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন:

এই বিভাগের অন্যান্য লেখা





ইমেইল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের নতুন নতুন পোষ্ট গুলো ই-মেইল এর মাধ্যমে পেতে রেজিষ্ট্রেশন করুন।




আর্কাইভ



বিভাগ সমূহ