প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ঝুঁকিঃ একটি জবাব

0

“করোনাভাইরাস যে কত ভয়ানক তা জানলে মানুষ জানালা দিয়ে উঁকিও দিত না”। ইতালির জনৈক ডাক্তারের এই উক্তি দিয়ে শুরু করতে চাই আমার নাতিদীর্ঘ লিখনি। ব্যাংকার আপনার আমার মত রক্তে মাংসে গড়া সামাজিক জীব। আপনার যেমন জীবন অনুভূতি আছে, ব্যাংকারেরও আছে; মৃত্যুকে অবশ্যম্ভাবী জেনেও আপনি যেমন মৃত্যুকে ভয় করেন, ব্যাংকাররাও করে; আপনার যেমন একটা পেশা আছে তদ্রুপ ব্যাংকারেরও একটা পেশা আছে।

আপনার পেশা জরুরী মনে না হওয়ায় সরকার তা খোলা রাখেনি। ডাক্তারি পেশার পাশাপাশি ব্যাংকিং পেশা গুরুত্ব মনে হওয়ায় জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে তা খোলা রাখা হয়েছে। ব্যাংকার যেহেতু ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত আছে তাদেরকে সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ডার ক্যারি করতে হয়।

বৈশ্বিক ভয়াবহতা, মিডিয়াগুলোর লেখা- ব্যাংকগুলো করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ কেন্দ্র, নিজস্ব উপলব্ধি সব মিলে ব্যাংকাররা এই ক্রান্তিলগ্নে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা ঝুঁকি মনে করে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে আসে।

মানুষ হিসেবে আপনি মৃত্যু ভয়ে সচেতন হয়ে বাসায় থাকতে পারেন, ব্যাংকার চায়লে দোষ কি? তারপরও অর্থনৈতিক যোদ্ধা হিসেবে ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকার মাঠে আছে। রাতে বাসায় এসে স্ত্রী পরিজনের সাথে থাকতে পারে না, আইসোলেশন এ থাকতে হয়। ঝুঁকি, আইসোলেশন এগুলোকে আপনি যদি প্রণোদনা কিংবা টাকার নিরিখে মূল্যায়ন করতে চান তবে বুঝে নিতে হবে আপনার জীবন অনুভূতিতে কোথাও হেরফের আছে।

অবুঝ শিশুটিও বুঝে জীবনের মায়া আর ব্যাংকরা বুঝবে না এ কথা ভাবার কোন উপায় নেই। ব্যাংকার প্রণোদনার বিনিময়ে জীবন বিক্রি করে না। ব্যাংকার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে মাত্র। প্রণোদনা কোনদিন ঝুঁকি কমায় না, ঝুঁকিতে কাজ করার সামান্য আগ্রহ সৃষ্টি করে।

কার্টেসিঃ মোঃ ইকবাল হোসেন সিডিসিএস, ব্যাংকার

Leave a Reply