বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার সময়সীমা বাড়ল

0

করোনাভাইরাসের কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যে দেওয়া নীতি সহায়তার সময়সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের নির্দেশনায় দেওয়া সব ধরনের সুবিধার মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে। মঙ্গলবার আলাদা কয়েকটি সার্কুলার জারি করে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

এক সার্কুলারে বিদেশি সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় আমদানির ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দায় পরিশোধের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপর এক সার্কুলারে অভ্যন্তরীণ ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের আওতায় ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের এফসি ক্লিয়ারিং হিসাবের মাধ্যমে মূল্য নিস্পত্তির নির্দেশনা শিথিল করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’ হিসাবের মাধ্যমে সম্পাদনের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে বাকিতে পণ্য আমদানি কিংবা সরবরাহকারীর ঠিক করে দেওয়া ঋণের বিপরীতে পণ্য আমদানিকে সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট বোঝায়। নিউজটি আপনি পড়ছেন ব্যাংকিং নিউজ বিডি ডটকম-এ। সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে স্বল্প সময়ের জন্য এ ধরনের ঋণের বিপরীতে পণ্য আমদানি করা যায়। সরবরাহকারী যেহেতু সুদ পান সে কারণে এ ধরনের ঋণে আগ্রহী থাকেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে নানা শর্ত রয়েছে।

করোনার প্রভাব শুরুর পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সার্কুলারের মাধ্যমে নীতি সহায়তা দেওয়া হয়। শুরুতে এসব নীতি সহায়তার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মঙ্গলবার এসব নীতি সহায়তার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এক সার্কুলারের মাধ্যমে আগে দেওয়া ৬টি নীতি সহায়তার মেয়াদ ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনার কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই এক লাখের পরিবর্তে ৫ লাখ ডলার অগ্রিম পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়। অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল, কৃষি উপকরণাদি ও রাসায়নিক সার আমদানির দেনা পরিশোধের সময় ১৮০ দিন থেকে ৩৬০ দিন করা হয়।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (Banking News Bangladesh. A Platform for Bankers Community.) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরেকটি সার্কুলারের মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আমদানির সময় ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা হয়। এছাড়া ব্যাক টু ব্যক এলসির বিপরীতে দেনা পরিশোধের শর্ত শিথিলের সময়সীমাও বাড়ানো হয়। রপ্তানির অর্থ পাওয়া সাপেক্ষে ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা পরিশোধ করা যাচ্ছে। আগে যেখানে রপ্তানি আদেশ বাতিল হলেও ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেনা পরিশোধ করতে হতো।

আরেক সার্কুলারের মাধ্যমে সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের দায় পরিশোধের জন্য রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ থেকে ৯০ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিনের জন্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নিউজটি আপনি পড়ছেন ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ-এ। সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে এসব সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে কেউ কিস্তি না দিলেও খেলাপি না করার সময়সীমা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দফায় গত জুন এবং দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়িয়ে গত সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল। এর আগে গত জুলাই মাসে এক নির্দেশনা জারি করে রপ্তানির অর্থ দেশে আনার সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন এবং দেনা পরিশোধের পর আমদানি পণ্য দেশের আনার সময়সীমাও বাড়িয়ে ১৮০ দিন করার মেয়াদ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এছাড়া স্বল্পমেয়াদী বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময়সীমা আগের চেয়ে ১৮০ দিন বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময়ে কেউ রপ্তানির অর্থ দেশে আনতে ব্যর্থ হলে কিংবা দায় পরিশোধের পর আমদানি পণ্য না আনলে ব্যাংকিং সুবিধা, ভর্তুকী পাওয়াসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হন।

Leave a Reply