আমি এক ক্যাশিয়ার (ব্যাংকার)

1
5991

প্রাইভেট ব্যাংকে ক্যাশিয়ার র‍্যাংকে
করি আমি চাকরি
পাবলিক সার্ভিসে সামর্থ যা আছে
সবটুকু ব্যয় করি।

শত শত ক্লায়েন্ট ব্যাংকে করে ইন
করে লেনদেন
কেউ টাকা জমা দেয় কেউবা তুলে নেয়
কেউ নেয় ইনভেস্টমেন্ট।

দশ টাকা পাঁচ টাকা
ছেড়া ফাটা ক্লেইম টাকা
জমা দিতে আসে
দিতে চাইলে নেয় না।

ধরে নানা বায়না
মিটি মিটি হাসে।
দূরে যাব ঢাকা যাব
অনেক দূর ক্যারি করব।

শুনে শুনে কান জ্বালা পালা
দুই টাকার ক্যাশিয়ার
সাবধান! হুশিয়ার!!
বলে বলে জুড়ায় মনের জ্বালা।

ওয়াশরুমে কেন যাবে
ক্যাশিয়ার নাম যার?
দুপুরে লাঞ্চ খেলে
কে করবে কাম তার!

এক গ্লাস পানি পান
নেই তাঁর অধিকার
পানি পানে প্রশ্রাবে
উঠবে যে বারবার!

ভুল করে কম দিলে
গ্রাহক ফিরে আসে
বেশি দিলে ভেরে না
ব্যাংকের পাশে।

কোটি কোটি টাকা গুনি
দিনে ও রাতে
অবশেষে ঘরে ফিরি
শুণ্য হাতে।

টাকাগুলো আমার নয়
পরের ও টাকা
রোজ তাই থাকে মোর
পকেট ফাকাঁ।

চুপচাপ কাজ করি
পারি যত দ্রুত
ওরা চায় কাজ করি
যন্ত্রের মতো।

যন্ত্রেও ত্রুটি থাকে
বুঝতে কেউ চায় না
ওরাই নাকি মালিক মোদের
ওরাই দেয় মায়না।

ওদের টাকায় কেনা
মোর শার্ট টাই
ক্রীতদাস মনে করে
আমাদের তাই।

দাড়াবে না দু’মিনিট
কাউন্টারে এসে
একটু ভুল পেলেই
অভিযোগ শেষে।

বসবাবু সাথে সাথে
দেয় পানিশমেন্ট
জানো উনার কতো টাকা
কতো ইনভেষ্টমেন্ট!

তুমি আমি সকলেই
চাকর যে তার
তার কথায় উঠবে বসবে
দিনে শতবার।

লেখা পড়া করে আজ
হয়ে ডিগ্রিধারী
দোকানের গোমস্তার
খাই মোরা ঝাড়ি!

ঝাড়ি ঝুড়ি যাই খাই
কাজ করি সদা
কেউ কেউ হেসে বলেন
ভালো আছেন দাদা?

ভালো মন্দ নিয়েই আছি
তারা সব জানে!
তাদেরই তো নিয়ে আছি
বুকের মাঝখানে।

লেখকঃ বেলাল হোসেন ফকির
একজন ব্যাংকার।

১টি মন্তব্য

Leave a Reply