আমি এক ব্যাংকার

0
6478

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ প্রতিদিন নয়টায় বাহির হই। আর বাড়ি ফিরি রাত নয়টায়। পোস্টিং টা বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় গ্রাম থেকেই প্রতিদিন অফিসে যাই। সকাল বেলায় গ্রামের লোকজন কাজে থাকেন বলে যাওয়ার পথে অল্পকিছু লোকের সাথে দেখা হয় কিন্তু আসার পথে অনেকের সাথে দেখা হয়। তারা কেউ মাঠে বসে অথবা চা দোকানে আড্ডা দিচ্ছে।

অফিস শেষ করে প্রায়ই রাত নয়টা বা তার কাছা কাছি সময়ে তাদের সাথে দেখা হয়। অর্থাৎ আমার চাকুরী হল নাইন টু নাইন চাকুরী।

সেদিন এক চাচা আমাকে জিজ্ঞাস করল বাবা তুমি কি চাকুরী কর তোমাকে প্রায় দেখি রাত নয়টা বাজে আস। আমি বললাম চাচা ব্যাংকে। চাচা বলল কেন ব্যাংক না চারটা পর্যন্ত। আমি বললাম চাচা চারটা পর্যন্ত আপনাদের জন্য তার পর আমাদের কাজ শুরু হয়।

আমার কোন সামাজিকতা নাই। সেদিন গ্রামের এক ভাই মারা গেল তার জানাজা ১১টায় কিন্তু জানাজায় অংশ নিতে পারিনি। ম্যানেজার স্যারের কাছে ছুটি চাইনি এই জন্য যে আমাকে যে পরিমান কাজ দেওয়া আছে তা আমাকে অনেক কষ্ট করে শেষ করতে হয় এই জন্য বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে যায়। ছুটিতে থাকলে তা আমার আরেক সহকর্মীকে করতে হবে কিন্তু তাকেও আমার সমপরিমাণ কাজ দেওয়া আছে। যা অমানবিক।

আজ কাল আমাকে অনেকেই বাদ দিয়ে কাজ করে জানে আমি সময় দিতে পারব না। নিজেও কোন কাজের উদ্যোগ নিতে পারিনা জানি আমার হাতে সময় নেই। প্রতিদিন অনেক স্বপ্ন দেখি মানুষের কল্যাণে কিছু কাজ করব। কিন্তু সময় ত নাই।

ব্যাংকে চাকুরী করি অনেকেরই ধারনা মোটা বেতনের চাকুরী করি। সেজন্য টাকা পয়সার সমস্যা হলে আমার কাছে চলে আসে। কেউ আসে সাহায্যের জন্য আর বেশির ভাগই ধার নেওয়ার জন্য। গ্রামের অসহায় মানুষ কি করে তাদের না করি দুই হাজার টাকা ধার চাচ্ছে যদি না দেই বলবে কি চাকুরী করে দুই হাজার টাকা ধার দিতে পারেনা। বাধ্য হয়ে দেই। এই ভাবে দিতে দিতে গত দুই বছরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার দিয়েছি এখন পর্যন্ত এক টাকাও ফেরৎ পাইনি।

প্রতিদিন সকালে পারিবারিক কাজ না করে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার বই নিয়ে যখন পড়তে বসি তখন পরিবারের লোক জন জানতে চায় এত এত ডিগ্রী নেওয়ার পরও কি আমার লেখা পড়া শেষ হয়নি।

তবুও আমি ব্যাংকার। বেঁচে থাকতে চাই কাজের মাঝে।

লেখকঃ আব্দুল বাতেন

Leave a Reply