এলসি (LC) কিভাবে করতে হয়

2
7439

বিদেশ থেকে পণ্য বা যন্ত্রাংশ আমদানী করার জন্য অবশ্যই ব্যাংকের মারফত LC করতে হয়। এই এলসির মাধ্যমেই সরবরাহকারীরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পন্য আমদানি রপ্তানি করে থাকে। LC করতে হলে সবার আগে আপনার কোম্পানীর TIN, VAT রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। এরপর ব্যাংকে গিয়ে কোম্পানীর নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তারপর ব্যাংক থেকে LCA ফর্ম কালেক্ট করে পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এই ফর্মে কিছু তথ্য প্রদান করতে হয়। যেমন কি পন্য, দাম কত, কোন দেশ থেকে আসবে প্রভৃতি।

ইমপোর্ট রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট (IRC)
ইমপোর্ট রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট পেতে নিম্নলিখিত ধাপসমূহ অনুসরন করতে হয়-
১) আমদানি ও রপ্তানির চীফ কন্ট্রোলারের অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করুন।
২) বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের শাখায় সিডিউল ফি জমা দিন।
৩) প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ আবেদন জমা দিন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
এল সি করতে নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে-
১) ট্রেড লাইসেন্স।
২) পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৩ কপি)।
৩) টিন নম্বর।
৪) চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ বা সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশন হতে মেম্বারশীপ সার্টিফিকেট।
৫) ট্রেজারী চালানের মূল কপি।
৬) পার্টনারশীপ বিজনেস হলে পার্টনারশীপ ডিড এর কপি।
৭) লিমিটেড কোম্পনির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন, আর্টিক্যাল অব এসোসিয়েশন, মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন।

এলসির মাধ্যমে আমদানি: এলসি-এর ধরন নির্ধারন
প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন ধরনের এলসি আপনি খুলতে চান। বর্তমান নিয়ম অনুসারে তিন ধরনের আমাদানিকারকদের জন্য এলসির প্রচলন আছে-
১) বাণিজ্যভিত্তিক আমদানিকারক।
২) শিল্পভিত্তিক আমদানিকারক।
৩) WES (Wage Earner’s Scheme) এর আওতায় আমদানিকারক।

এলসির প্রকারভেদ
বর্তমানে নিম্নলিখিত ১২ প্রকার এলসির প্রচলন আছে-
১) Revocable LC
২) Irrevocable LC
৩) Confirmed LC
৪) Transferable LC
৫) Divisible LC
৬) Revolving LC
৭) Restricted LC
৮) Red-clause LC
৯) Green clause LC
১০) Back to back LC
১১) With Recourse LC
১২) Without Recourse LC

এলসি খোলার জন্য কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন
বাণিজ্যিক এলসি খুলতে ব্যাংক আপনাকে নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট দিবে-
১) এলসি আবেদন ফরম
২) এলসিএ ফরম (Letter of Credit Authorization Application Form)
৩) আইএমপি ফরম
৪) টিএম ফরম
৫) চুক্তি ফরম
৬) চার্জ ডকুমেন্ট
৭) গ্যারান্টি ফরম।

Cash/WES এলসি খোলার জন্য ডকুমেন্ট
Cash/WES এলসি খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে-
১) এলসি খোলার আবেদন
২) এলসি আবেদন ফরম
৩) ইনডেন্ট/প্রোফর্মা ইনভয়েস
৪) লেটার অব ক্রেডিট অথরাইজেশন ফরম
৫) ইমপোর্ট পারমিট
৬) চার্জ ডকুমেন্ট
৭) ইন্সুরেন্স কাভার নোট।

আপনাকে উপরে উল্লিখিত ফরমসমূহ পূরন করতে হবে এবং সত্যতা যাচাই ও স্বাক্ষরের পর নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসমূহ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
১) ট্রেড লাইসেন্স
২) আমদানি রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট
৩) আয়কর বা টিন
৪) ভ্যাট সার্টিফিকেট
৫) মেম্বারশীপ সার্টিফিকেট
৬) মেমোরেন্ডাম অব আর্টিক্যাল
৭) রেজিষ্টারড ডিড (পার্টনারশীপ ফার্মের ক্ষেত্রে)
৮) রেজুলেশন (পার্টনারশীপ ফার্মের ক্ষেত্রে)
৯) ছবি
১০) ইন্সুরেন্স কাভার নোট ও প্রিমিয়াম প্রদানের রশিদ
১১) ইনডেন্ট/প্রোফর্মা ইনভয়েসের কপি।

কোলেটারেল সিক্যুরিটি প্রদান (Collateral Security)
প্রজেক্ট লোনের আওতায় এলসি খুলতে ব্যাংকে কোলেটারেল সিক্যুরিটি প্রয়োজন হয়। ইকুইটেবল মরগেজ দেওয়ার জন্য যে সকল ডকুমেন্ট দিতে হয়-
১) মেমোরেন্ডাম অব টাইটেল ডিড (সম্পত্তির মালিকের)
২) পারসোনাল গ্যারান্টি (সম্পত্তির মালিক দেবেন)
৩) সম্পত্তির মূল দলিল
৪) মিউটেশন রেকর্ড
৫) খাজনার রসিদ (হাল নাগাদ)
৬) সিএস পরচা
৭) এসএ পরচা
৮) আরএস পরচা
৯) নন ইনকামব্রেন্স সার্টিফিকেট (চার্জসহ)
১০) ভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেট
১১) ল’ইয়ার সার্টিফিকেট
১২) অ্যাফিডেভিট প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক
১৩) রেজিস্টার্ড ইরেভোকেবল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে আরও যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন
১) বোর্ড এর রেজুলেশন (পরিচালকবৃন্দের)
২) সকল পরিচালকের পারসোনাল গ্যারান্টি
৩) মেমোরেন্ডাম এবং আর্টিক্যালস অব এসোসিয়েশনের কপি
৪) জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট
৫) জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক চার্জ ডকুমেন্ট।

শিল্প কারখানার মূল মেশিন/পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রাদি (Necessary Documents for Imports of Machinaries)
আমদানিকৃত মেশিন/পণ্য এবং আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি কাস্টমস থেকে ছাড় করতে হলে নিম্নলিখিত দলিলপত্রাদি ব্যাংক অনুমোদিত সিএন্ডএফ-এর নিকট হস্তান্তর করতে হবে-
১) বাণিজ্যিক চালান (Commercial Invoice), মোড়ক তালিকা (Packing list), বিল অব লেডিং (BL) বা এয়ার ওয়ে বিল (AWB) বা ট্রাক রসিদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক Endorsement করতে হবে।
২) যদি বাণিজ্যিক চালান (Commercial Invoice), মোড়ক তালিকা (Packing list), বিল অব লেডিং (BL) বা এয়ার ওয়ে বিল (AWB) বা ট্রাক রসিদ এর মূল কপি পাওয়া না যায় সে ক্ষেত্রে Copy Document Non-negotiable Document -এর সাথে Indemnity Endorsement করতে হবে যা সংশ্লিষ্ট Shipping line থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
৩) এলসি কর্তৃত্ত্বায়ন (LCA) ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদন (Endorsement) করতে হবে।
৪) প্রোফরমা চালান (Proforma Invoice/Indent) আমদানি ঋণপত্র, রপ্তানি ঋণপত্র এবং বীমার ফটোকপি ব্যাংক কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে।
৫) Utilization Declaration (UD) যা বিজিএমইএ কর্তৃক ইস্যু করা হয়।
৬) জেনারেল বন্ড লাইসেন্স এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স লাগবে।
৭) শুল্ক দরখাস্ত ফরম ডক কাস্টমস হাউস হতে সংগ্রহ করে আমদানিকারককে দস্তখত করতে হবে।

মেশিনপত্রের কোন চালান কাস্টমস হতে ছাড়াতে হলে নিম্নের দলিলপত্রাদি সিএন্ডএফ এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে
উল্লিখিত দলিলপত্রাদি থেকে রপ্তানি ঋণপত্র, ইউডি, জেনারেল বন্ড লাইসেন্স ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স বাদ দিতে হবে এবং তদসঙ্গে নতুনভাবে নিম্নলিখিত কাগজপত্রাদি লাগবে-
১) ৫০০ টাকার স্ট্যাম্পে দুইজন সাক্ষীসহ আমদানিকারকের অঙ্গীকারনামা।
২) মূল ক্যাটালগ।
৩) ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র। অর্থাৎ ব্যাংক এই মর্মে সার্টিফিকেট দেবে যে, আপনি ব্যাংকে সন্তোষজনকভাবে লেনদেন করছেন।

মূল যন্ত্রপাতি আমদানি ঋণপত্র খোলা (Opening the LC of Principle Machineries)
যখন কোন ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি কোন নতুন শিল্প ইউনিট স্থাপনের জন্য ব্যাপক ঋণের অনুমতি পান, তখন তিনি মূল প্রকল্পের জন্য মেশিন আমদানির এলসি খুলতে পারেন। যদি উক্ত ব্যবসায়ী শিল্প কারখানা স্থাপন না করে শুধু বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্য আমদানি করতে চান তাকেও ব্যাংকের অনুমতির পর পণ্য আমদানির এলসি খুলতে হয়। এক্ষেত্রে শিল্পের মূল মেশিন আমদানি ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্য আমদানির এলসি খোলার জন্য ব্যাংকের ডকুমেন্ট চাহিদার কিছু পার্থক্য থাকে।

একজন নতুন উদ্যোক্তার শিল্পের জন্য মূল মেশিন আমদানি সংক্রান্ত এলসি খোলার জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্রাদি ব্যাংকে দাখিল করতে হয়-
১) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ব্যাংকের কাছে আবেদন পত্র।
২) এলসি আবেদনপত্র (LC Application Form) যা ব্যাংক হতে সংগ্রহপূর্বক আমদানিকারক কর্তৃক দস্তখত করতে হবে।
৩) আমদানির অনুমতি (Letter of Credit Authorization-LCA) ১ সেট যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহ করা হয় এবং আমদানিকারক কর্তৃক দস্তখত করতে হয়।
৪) চার্জ দলিলপত্র -১ সেট যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহ করা হয়, আমদানিকারক কর্তৃক দস্তখত করতে হয়।
৫) টাকার রসিদসহ ইন্স্যুরেন্স কভার নোট।
এছাড়া কোন আমদানিকারক যদি ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী আমদানি করতে চায় তাহলে উপরোক্ত দলিলপত্রাদিসহ রপ্তানি ঋণপত্র ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার মেশিন বা পণ্য রপ্তানিকারকের ক্রেডিট রিপোর্ট (Credit Report) ব্যাংক কর্তৃক সংগ্রহ করতে হবে।

এলসি পরীক্ষা করা (Examining the LC)
মেশিনের এলসি খোলার পর আপনাকে পরবর্তী কাজে লেগে থাকতে হবে। ব্যাংক যে এলসি আপনার বিক্রেতার নিকট পাঠিয়েছে বা পাঠাচ্ছে তা আপনাকে একবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। অর্থাৎ এলসিতে যে সকল বিষয় থাকা উচিত তা ঠিক মতো রয়েছে কিনা সে বিষয়টা পরখ করতে হবে। এলসিতে যে বিষয়গুলো দেখা দরকার-
১) ক্রেতার নাম, ঠিকানা ঠিক মতো লেখা হয়েছে কিনা।
২) আপনার/আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ঠিক মতো আছে কিনা।
৩) প্রোফরমা চালান (Proforma Invoice/Indent) অনুযায়ী পণ্যের মূল্য।
৪) রপ্তানির পূর্বে পরিদর্শন (Inspection) কে করবে তার নাম, ঠিকানা রয়েছে কিনা।
৫) রপ্তানি কোন বন্দর থেকে হবে এবং কোন বন্দরে আসবে এ বিষয়ে দেখতে হবে।
৬) প্যাকিং রপ্তানি মান (Export Standard) অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে।
৭) পরিশোধ নিয়মাবলি (Payment Clause) স্থাপিত হয়েছে কিনা।
৮) ক্রেতার ব্যাংকের নাম, ঠিকানা ও আপনার ব্যাংকের নাম, ঠিকানা ঠিক আছে কিনা।
৯) এলসি টেস্ট মেম্বার যথাযথভাবে উল্লেখ আছে।
১০) মেরিন ইন্সুরেন্স কভার নোট যথাযথ আছে কিনা।
১১) বিল অব লেডিং (BL) ক্লস যথাযথ আছে কিনা।

রপ্তানি, আমদানি ও মাল খালাস (Export, Import and Unloading of Merchandise)
এলসি’র শর্ত অনুযায়ী রপ্তানিকারক তারিখ অনুযায়ী মালামাল রপ্তানি করবেন এবং এক সেট শিপিং ডকুমেন্ট ক্রেতা এবং এলসি ওপেনিং ব্যাংকে পাঠাবেন। আপনাকে উক্ত ডকুমেন্ট এলসি নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখতে হবে। মূল ডকুমেন্ট ব্যাংক তার নির্দিষ্ট সি এন্ড এফ কে মালামাল খালাস করার জন্য দেবেন। যদি আপনার এলসি ব্যাংক অর্থায়নে না হয় তবে আপনি আপনার ইচ্ছা মতো সিএন্ডএফ কে দিয়ে খালাস করতে পারবেন। সিএন্ডএফ ঠিক করার সময় অবশ্যই ঐ সিএন্ডএফ এর ভালো মন্দ জেনে তাকে মাল খালাস করতে মূল ডকুমেন্ট দেবেন। অন্যথায় নানা অসুবিধা (খারাপ সিএন্ডএফ হলে) সৃষ্টি হতে পারে।

এফওবি মূল্য, সিএফআর মূল্য এবং সিআইএফ মূল্য (FOB, CFR, & CIF Price)
কাঁচামাল এবং শ্রম ব্যয়ের সাথে প্যাকিং, মার্কিং ও লেবেলিং ব্যয় যোগ করে কারখানাপ্রান্ত বা এক্স-ফ্যাক্টরী ব্যয় বের করা হয়। এক্স-ফ্যাক্টরী ব্যয়ের সাথে মূনাফা মার্জিন যোগ করলে এক্স-ফ্যাক্টরী মূল্য পাওয়া যায়। এক্স-ফ্যাক্টরী মূল্যের সাথে আভ্যন্তরীন পরিবহন ব্যয় এবং ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট-এর কমিশন যোগ করে এফওবি.(Free on Board) মূল্য বের করা হয়। এক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তিতে উল্লেখিত সামুদ্রিক বা বিমান বন্দরে জাহাজ বা বিমানে পণ্য তুলে দেয়া পর্যন্ত দায়িত্ব বিক্রেতার। জাহাজ বা বিমানে উত্তোলনের পর পণ্যের ক্ষতি বা বিনষ্টের ঝুঁকি বিক্রেতার পরিবর্তে ক্রেতার উপর বর্তায়।

রপ্তানিকারক যদি সিএফআর (Cost & Freight) ভিত্তিতে পণ্য বিক্রয়ে ইচ্ছুক হন, তাহলে তাকে এফওবি মূল্যের সাথে জাহাজ ভাড়া যোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে পণ্যের গন্তব্য বন্দর পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় এবং জাহাজ ভাড়া বিক্রেতাকে বহন করতে হয়। কিন্তু জাহাজে মাল উত্তোলনের পর পণ্যের বিনষ্ট বা ক্ষয়ক্ষতিজনিত ঝুঁকি বা অপ্রত্যাশিত কোন ব্যয়ভার বিক্রেতার পরিবর্তে ক্রেতার উপর বর্তায়। অনুমোদিত শিপিং কোম্পানি অথবা তাঁদের এজেন্ট-এর কাছ থেকে যে কোন লাইনের জাহাজের প্রকৃত ভাড়া হার সংগ্রহ করা যেতে পারে।

রপ্তানিকারক যদি সিআইএফ (Cost, Insurance & Freight) শর্তে পণ্য বিক্রয় করতে চান, তাহলে তাকে পণ্যে ক্ষয়ক্ষতিজনিত ঝুঁকি আচ্ছাদনের নিমিত্তে সামুদ্রিক বীমা পলিসি গ্রহণ করতে হবে। উক্ত পলিসির আওতায় বীমা প্রিমিয়ামের হার ঝুঁকির পরিমানের উপর নির্ভর করে এবং তা পণ্য এবং গন্তব্যস্থল ভেদে কম বেশী হয়ে থাকে। সাধারনতঃ সিএফআর মূল্যের উপর শতকরা ১ ভাগ হারে এই বীমা ব্যয় হিসেব করা হয়। সিএফআর মূল্যের সাথে বীমা ব্যয় যোগ করে সিআইএফ মূল্য বের করা হয়।

আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ( Documents for Import)
আমদানির জন্য যে সকল ডকুমেন্ট সি এন্ড এফ কাস্টমস হাউসে দাখিল করবেন তা নিম্নরূপ-
১) বিল অব এন্ট্রি (Bill of entry)।
২) বিল অব লেডিং-এর কপি (Bill of Leading copy)।
৩) ইনভয়েস এর কপি।
৪) প্যাকিং লিস্ট।
৫) সার্টিফিকেট অব অরিজিন (CO)।
৬) ইউডি/ইউপি (UD/UP)।
৭) ভিবিএফ-৬ (VBF-6)।
৮) বন্ড/স্ট্যাম্প (Bond/Stamp) তৈরী পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য আমদানির ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের কম পণ্যের জন্য ১০০০ টাকা এবং ১০ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের পণ্যের জন্য ২০০০ টাকার স্ট্যাম্পসহ বন্ড দিতে হয়।
৯) মাষ্টার এল সি এর কপি।
১০) লেটার অব ক্রেডিট অথরাইজেশন (LCA)।
১১) প্রোফরমা ইনভয়েস (Proforma Invoice)
১২) ইন্সুরেন্স কভার নোট এর কপি (Insurance Cover Note Copy)।
১৩) রপ্তানিমূখী শিল্প না হলে পিএসআই সার্টিফিকেট।

ব্যাক টু ব্যাক এলসি (Back to back LC)
ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র মাধ্যমে রপ্তানিকারক রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য ক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রস্তুতকরণ এবং প্যাকেজিং এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করে।

ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার জন্য নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট প্রয়োজন-
১) এলসি খোলার আবেদন।
২) এলসি আবেদন ফরম।
৩) ইনডেন্ট/ প্রোফর্মা ইনভয়েস।
৪) এলসিএফ।
৫) আমদানি অনুমতি (আইএমপি ফরম)।
৬) ইন্সুরেন্স কাভার নোট।
৭) রপ্তানি এলসির মূল কপি।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য
বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিম্নোক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন-
আমদানি ও রপ্তানির চীফ কন্ট্রোলারের অফিস
১১১-১১৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।

2 মন্তব্যসমূহ

Leave a Reply