৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিভাবে কিনবেন?

0
1223

মধ্যবিত্ত জীবনে সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েন লেগেই থাকে। এর মধ্যেই তিল তিল করে জমা হয় কিছু সঞ্চয়। কখনো সম্পদ বিক্রির টাকা, কখনো পেনশন, এফডিআর অথবা প্রবাসী স্বজনের পাঠানো অর্থে আসে কিছু বিনিয়োগের সুযোগ ও সুবিধা। কিন্তু বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া তো সহজ ব্যাপার নয়। পদে পদে ঝক্কি, লোকসান কিংবা প্রতারণার ঝুঁকি লেগেই আছে। তাই অনেকেই এ ঝুঁকি নিতে চান না। মুনাফা কম হলেও হন্যে হয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজতে থাকেন। তাদের জন্য ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র হতে পারে আদর্শ বিকল্প একটি বিনিয়োগ। আপনাদের জন্য ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
পাঁচ বছর মেয়াদী এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে সুদ পাওয়া যায় ১১.২৮%। তবে মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়ন করলে ১ম বছরান্তে ৯.৩৫%, ২য় বছরান্তে ৯.৮০%, ৩য় বছরান্তে ১০.২৫% এবং ৪র্থ বছরান্তে ১০.৭৫% হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে।

৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের বিক্রয় কেন্দ্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল শাখা অফিস, সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের অধীন ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং সারাদেশে ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়।

যারা ক্রয় করতে পারবেন
ক) সকল শ্রেণী ও পেশার বাংলাদেশী নাগরিক;
(খ) আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি(২) এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত বভিষ্য তহবিল এবং বভিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫(১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল;
(গ) আযকর আধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফষিল এর পার্ট এ এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী মৎস খামার, হাঁস-মুরগীর খামার, পেলিটেট পোলট্রি ফিডস উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ ও দুগ্দজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রা উৎপাদন এবং ফল ও লতা পাতার চাষ হতে অর্জিত আয়-যা সংশ্লিষ্ট উপ-কমিশনার কর্তৃক প্রত্যায়নকৃত।
(ঘ) নাবালকের পক্ষেও ক্রয় করা যায়।

৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনার সীমা ও মেয়াদ
❏ ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনার গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ পরিমাণঃ চাইলেই যে কোনো পরিমাণ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায় না। সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেবল একক নামে ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
❏ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেঃ ঊর্ধ্বসীমা নেই।
❏ মেয়াদঃ ৫ বছর।
❏ আবেদন ফরমঃ ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ফরম পেতে ক্লিক করুন এখানে

৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মূল্যমান
১০ টাকা; ৫০ টাকা; ১০০ টাকা; ৫০০ টাকা; ১,০০০ টাকা; ৫,০০০ টাকা; ১০,০০০ টাকা; ২৫,০০০ টাকা; ৫০,০০০ টাকা; ১,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকা।

মুনাফার হার ও উৎসে কর
❏ মুনাফার হার- ১১.২৮% মেয়াদান্তে।
❏ ১ লক্ষ টাকায় মেয়াদান্তে প্রদেয় মুনাফা সর্বমােট বিনিয়ােগ ৫ লাখ টাকার কম হলে ৫৩,৫৮০/= ও উৎসে কর কর্তন ৫%।
❏ বিনিয়ােগের পরিমাণ ৫ (পাঁচ) লাখ টাকার বেশি হলে মেয়াদান্তে প্রদেয় মুনাফা ৫০,৭৬০/= ও উৎসে কর কর্তন ১০%।

প্রয়ােজনীয় কাগজপত্র
❏ ক্রেতার জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি।
❏ ক্রেতার ই টিন সার্টিফিকেটের ফটোকপি (এক লাখ টাকার উপরে হলে)।
❏ ক্রেতার ছবি দুই (০২) কপি।
❏ নমিনীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
❏ নমিনীর দুই কপি ছবি (ক্রেতা কর্তৃক সত্যায়িত)।
❏ যে চেকের মাধ্যমে বিনিয়ােগের টাকা দিবেন সেটি ও তার ফটোকপি।

ছক: বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের বছরভিত্তিক প্রদেয় মুনাফার হার
নগদায়ন কাল মুনাফার হার
১ম বছরান্তে .৩৫%
২য় বছরান্তে .৮০%
৩য় বছরান্তে ১০.২৫%
৪র্থ বছরান্তে ১০.৭৫%
৫ম বছরান্তে ১১.%

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন/লেভী কর্তন হবে। কিন্তু যেক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বে বিনিয়োগকৃত টাকা উত্তোলন করা হবে, সেক্ষেত্রে উপরের ছক (৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বছরভিত্তিক প্রদেয় মুনাফার হার)-এ প্রদর্শিত বছরভিত্তিক হারে মুনাফা প্রদেয় হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হয়ে থাকলে তা মূল টাকা হতে কর্তন করে সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অন্যান্য উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়াবলী
❏ একমেয়াদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা বিদ্যমান;
❏ নমিনী নিয়োগ করা যায়; ক্রেতা মৃত্যুবরন করলে নমিনী যেকোন সময় সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন। নমিনী ইচ্ছা করলে মেয়াদপূর্তি করেও সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারবে;
❏ সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেটসঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যায়;
❏ সঞ্চয়পত্র এক অফিস হতে অন্য অফিসে স্থানান্তর করা যায় (সঞ্চয়পত্র ব্যুরো হতে সঞ্চয় ব্যুরো, ব্যাংক হতে ব্যাংক এবং ডাকঘর হতে ডাকঘর);
❏ সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে, চুরি হলে, পুড়ে গেলে বা কোন কারনে বিনষ্ট হয়ে গেলে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যায়।

Leave a Reply