আইবিবিএলের বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন-২০২০ এ মাননীয় এমডির স্বাগত বক্তব্য

0

বিস্‌মিল্লাহির রাহমানির রাহীম। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত মনােরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনের প্রধান অতিথি ব্যাংকের বাের্ড অব ডিরেক্টরস এর সম্মানিত চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মাে: নাজমুল হাসান পিএইচডি, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ব্যাংকের অত্যন্ত বিজ্ঞ পরিচালকবৃন্দ, শরী’আহ সুপারভাইজরী কমিটির সম্মানিত সদস্য সচিব, ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয়, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ, প্রধান কার্যালয়ের সর্বস্তরের নির্বাহীবৃন্দ, জোন প্রধানগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং দেশের সকল শাখা থেকে আগত ব্যবস্থাপকবৃন্দ- আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আপনাদের সবাইকে সু-স্বাগতম এবং ইংরেজী নববর্ষ ২০২০ সালের শুভেচ্ছা “Happy New Year”।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড আরও একটি সফলতম বৎসর অতিক্রম করে ২০২০ সালে পদার্পণ করায় আমি মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। মহান রাব্বল আলামীনের নিকট আরও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি ব্যাংকের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন এমন দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যে দিন ইসলামী ব্যাংকিং-এর অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠায় IDB সনদ স্বাক্ষরে বাংলাদেশের হয়ে নেতৃত্বদানকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী “মুজিববর্ষ উদ্যাপনের ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি সবাইকে জানাই “শুভ মুজিববর্ষ”।

আজ এই শুভক্ষণে সর্বপ্রথম স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি এ দেশের জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। ক্ষুধা, দারিদ্র ও শােষনমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সােনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ৪ বার বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসাবে নেতৃত্ব প্রদানকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সফলতার সাথে দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রােলমডেল হিসেবে পরিণত করেছেন।

আমাদের সাফল্যের পথচলায় সার্বিকভাবে সহযােগিতা করার জন্য আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই অর্থ মন্ত্রেণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বাের্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী, আধা-সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে , যারা এই ব্যাংকের আরেকটি সফল বৎসর সুন্দর ও সুচারুভাবে সমাপ্ত করার সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করেছেন।

আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি ব্যাংক মালিকানার বৃহত্তর অংশীদার যিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে আজ দেশের শীর্ষ ব্যাংকে পরিণত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং পরিমণ্ডলেও ব্যাংকের স্থান আরও সুসংহত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ব্যাংকের সুযােগ্য চেয়ারম্যান মহােদয়সহ বিজ্ঞ পরিচালকমণ্ডলী এবং শেয়ারহােল্ডারগণকে। আমি আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ইসলামী ব্যাংকের ১ কোটি ৪০ লক্ষ গ্রাহককে যারা আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে এই ব্যাংককে দেশের শীর্ষ ব্যাংকে পরিণত করেছেন।

২০১৯ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ যেমন আমানত ঘাটতি, মুনাফার হার এক অংকে নামিয়ে আনা, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি, বেসরকারী বিনিয়ােগ হ্রাস, বিনিয়ােগ আমানত হার (IDR) ঠিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচকতা ইত্যাদি প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও আমরা আমাদের কাংক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ, তেলসমৃদ্ধ মধ্য প্রাচ্যে সংঘাত এবং বেক্সিটের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্ব অর্থনীতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩% থেকে কমে ২.৯% হতে পারে। যা ক্রমান্বয়ে বিশ্বকে আরেকটি “অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নিয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ব অর্থনীতির এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়ন সূচকে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম (৮.১৯%) এবং সারা বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে। দেশে দারিদ্রের হার কমেছে, মাথাপিছু আয় এখন ১৯০৯ ডলার। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৪১ তম। ২০৩৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ২৪ তম হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ মােট জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সারা বিশ্বে সবার উপরে অবস্থান করছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ যা ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ এশিয়ার “টাইগার ইকোনমি” হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যেও ২০২০ সালে দেশে বেসরকারী বিনিয়ােগ প্রবৃদ্ধি আরও হ্রাসের সম্ভাবনা, খেলাপি ঋণ আদায়ে ধীরগতি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আমানত প্রবাহ হ্রাস, ব্যাংকগুলাের এক অংকে বিনিয়ােগ প্রদান, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি, মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও ভােগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতিসহ সরকারের অন্যান্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ব্যাংকিং সেক্টরকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলােকে সামনে রেখে ৩ দিন ব্যাপী এই ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে সম্মানিত বিজ্ঞ পরিচালক মন্ডলীর কাছ থেকে দিক নির্দেশনা নিয়ে আমরা ২০২০ সালের কর্মপরিকল্পনা স্থির করবাে। আমি এখানে আপনাদের সামনে ২০১৯ সালের কিছু অর্জন ও সফলতার চিত্র এবং ২০২০ সালের কর্ম পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছি।

আমানত
আমরা সবাই অবগত আছি ২০১৯ সালে দেশের ব্যাংকগুলােকে আমানত নিম্নমুখীতার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছিল। দেশের আমানতের এই সংকটকালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৯ সালে রেকর্ড পরিমাণ ১২,৬৯০ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা এ যাবতকালে ব্যাংকের সর্বোচ্চ বাৎসরিক সংগ্রহ। বর্তমানে আমাদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪,৭৯৮ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫.২৫%। ব্যাংকের ২০১৯ সালের লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ (১০২%) অর্জিত হয়েছে। আমানতে আমাদের মার্কেট শেয়ার ৮.৫০%। গত ৪ বত্সরে (২০১৬-২০১৯) আমাদের আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩,২২০ কোটি টাকা, যা মােট আমানতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ৪ বৎসরে মােট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৪%।

বিনিয়ােগ
বছর শেষে বিনিয়ােগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০,১৭৭ কোটি টাকা। বেসরকারী খাতে দেশের বিনিয়ােগ প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও ২০১৯ সালে আমাদের ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.০৯%। এক্ষেত্রে ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ (১০৩%) অর্জিত হয়েছে। ২০১৯ সালে আমাদের ১০,৪৪০ কোটি টাকা বিনিয়ােগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়ােগে আমাদের মার্কেট শেয়ার ৮.৭৫%। ব্যাংকের মোট বিনিয়ােগ গ্রাহকের সংখ্যা ৮,০০,৬১০।

দেশের নিম্ন, মধ্য ও স্বল্প পুঁজির মানুষের বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের বিনিয়ােগের একটি উল্লেখযােগ্য অংশ রয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র, মাঝারী, কটেজ ও মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ তথা SME খাতে ব্যাপক অর্থায়ন করেছি। এ খাতে বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ৫০,৬৩৬ জন এবং বিনিয়ােগের পরিমাণ ২০,৩০৫ কোটি টাকা যা মােট বিনিয়ােগের ২৪%।

দেশে ব্যাংকিং সেক্টরে ২০১৯ সালে বিনিয়ােগ আমানত হার (IDR) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হারের মধ্যে রাখা একটি চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমরা সারা বৎসর এই হার নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছি। বৎসর শেষে এই হার দাঁড়িয়েছে ৮৯.২১%।

বৈদেশিক বাণিজ্য
আমদানি: দেশে বাণিজ্য ঘাটতি, বেসরকারী বিনিয়ােগ হ্রাস, পােশাক খাতে রপ্তানি কমে যাওয়া, বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, ব্রেক্সিটের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ ইত্যাদি কারণে ২০১৯ সাল বৈদেশিক বাণিজ্যে একটি অস্থির অবস্থা বিরাজ করেছিল। এ অবস্থায়ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বিগত বছরেও আমরা শীর্ষ স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৯,৯৮৮ কোটি টাকা। আমদানিতে দেশে আমাদের শেয়ার ৮.৮৫%। এখানে লক্ষ্যমাত্রার ৯১% অর্জিত হয়েছে। দেশে ২০১৯ সালের শেষ ৫ মাসে আমদানির প্রবৃদ্ধি ২.৫৪% কমে গেলেও আমাদের আমদানি (০.০২%) বেড়েছে।

রপ্তানি: ২০১৯ সালে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩,৪৪৪ কোটি টাকা, যা দেশের মােট রপ্তানির ৮%। রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার ৮১% অর্জিত হয়েছে। ২০১৯ সালের শেষার্ধে দেশে তৈরি পােশাক রপ্তানি এবং সার্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি (৭.৫৯%) কমে যাওয়ায় আমাদের রপ্তানি (৬.৮৫%) কমেছে। ২০২০ সালে আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধির কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেমিটেন্স: প্রবাসীদের পাঠানাে রেমিটেন্স জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড রেমিটেন্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশে বৈধ পথে রেমিটেন্স আহরণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। রেমিটেন্সে আমরা বরাবরের মত ১ম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ২০১৯ সালে দেশে মােট রেমিটেন্সের এক-পঞ্চমাংশ এসেছে আমাদের মাধ্যমে। যার পরিমাণ ৩৪৮ কোটি ডলার অর্থাৎ ৩০,৫৪৯ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রবৃদ্ধি ১৫.২৬%। গত বছরের শেষের দিকে রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছিল। ফলে বছরের শেষ ৬ মাসে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩১%। এজেন্ট ব্যাংক, উপ-শাখা, এটিএম, ই-ওয়ালেট ইত্যাদির ব্যাপক সম্প্রসারণের ফলে এ প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালেও ধরে রাখতে পারবাে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

ট্রেজারি: ২০১৯ সালে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যাপক উঠানামা করার ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। ডলার, পাউন্ড, ইউরাে ও জাপানিজ ইয়েনের বিনিময় হার যথাক্রমে ২.৬২%, ১৩%, ৬.৩৭% ও ৭.৬১% উঠানামা করে। এ অবস্থায়ও আমরা বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছি। আমাদের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা থেকে মুনাফা এসেছে ১,২১০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৩২% বেশি। আমরা ২০১৯ সালে ১৫৬ কোটি ডলার আন্ত:ব্যাংকে বিক্রয় করি, যা আন্ত:ব্যাংকের মােট লেনদেনের ২৮%।

অফশাের ব্যাংকিং: গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রতিযােগিতামূলক বাজারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা অফশাের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। এ খাতে বর্তমানে বিনিয়ােগ স্থিতি ৩,৭০০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা যা দেশীয় সকল ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প
জাতির জনকের স্বপ্নের সােনার বাংলা গড়ে তােলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর গ্রাম বাংলার বিশাল জনগােষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি করে দারিদ্র বিমােচনের ব্রত নিয়ে আমাদের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ইতােমধ্যে ২৪,৫২৭ টি গ্রামকে এই প্রকল্পের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। যেখানে প্রাক সদস্যসহ ২৯,০৫,৮৯৭ জন হত দরিদ্র নিম্ন আয়ের সদস্য তাদের আয় বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসাবে ইসলামী ব্যাংকেই শুধুমাত্র এ ধরণের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প চালুর মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে আয়ের বৈষম্য দূরীকরণ ও সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে গ্রামীন জনগােষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এখানে ১২,৫৩,৫১২ জন ক্ষুদ্র গ্রাহকের সঞ্চয়ের পরিমাণ ১,১৮৫ কোটি টাকা, বিনিয়ােগের পরিমাণ ৩,২৭২ কোটি এবং বিনিয়ােগ আদায়ের হার ৯৯.৩৬%। এ প্রকল্পে সদস্যদের মাঝে সঞ্চয় ও বিনিয়ােগ সুবিধা ছাড়াও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ, ত্রাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে ২০১৯ সালে ৮,২৪,৯৭৮ জনকে ২৩ কোটি টাকার অনুদানসহ ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বমােট ৯২,৩৯,১৪৫ জনকে ১৩৮ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সুবিধা আমরা ৮৭ হাজার গ্রামে ছড়িয়ে দিতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমাদের কার্যক্রম অগ্রসর হচ্ছে। পল্লী উন্নয়নের গুরুত্ব ও সম্প্রসারনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইতােমধ্যে Rural Development Division কে Rural Development Wing এ রূপান্তর করা হয়েছে।

তথ্য প্রযুক্তি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির নিমিত্তে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির সেবা। সাধারণ মানুষের দোরগােড়ায় পৌঁছে দেয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সরকারের এই ডিজিটাল রেনেসাঁর এক গর্বিত অংশীদার। আমরা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল ব্যাংক ব্যবস্থার সকল আধুনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বছরের শ্লোগানের প্রতিপাদ্যের আলােকে গতানুগতিক ব্যাংকিং এর বদলে আমরা ২০২০ সালে IT based ব্যাংকিং এর ব্যাপক সম্প্রসারণ করে তথ্য প্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করতে চাই। ইতােমধ্যে iBanking, Debit Card, Credit Card, Hajj Card, Travels Card mCash, POS এবং ATM এর পাশাপাশি আধুনিক CRM, CDM স্থাপনের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে আমরা ডিজিটাল Wallet, QR Code, e-KYC, Electronic Document Management Module, Corporate Internet Banking Module সহ আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ভার্চুয়াল ব্যাংকিং এর সকল প্রােডাক্ট ও সেবা নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌছে যাব। Alternative Delivery Channel-এ আরও নতুন নতুন যুগােপযােগী প্রােডাক্ট সংযােজন করে একে আরও শক্তিশালী করা হবে। গতানুগতিক ব্যাংকিং এর স্থলে IT Driven Banking সেবা চালু করা হবে। Paperless Banking, Block Chain, Crypto Currency ইত্যাদি নিয়ে কাজ করার জন্য ইতােমধ্যে ICT Wing কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। Digital Technology এর প্রােডাক্ট ও সেবাসমূহ নিয়ে পরবর্তী আন্তর্জাতিক সাইবােস (SIBOS) সম্মেলনে আমাদের স্টল থাকবে। ইসলামী ব্যাংককে ডিজিটাল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রেও দেশের শীর্ষ স্থানে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: এজেন্ট ব্যাংকিং ও উপ-শাখা ব্যাংকিং
বাংলাদেশ ব্যাংক তথা সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ব্যবস্থায় শহর-গ্রাম, নারী-পুরুষ, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-ব্যবসায়ী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট করে ব্যাংকমুখী করার কাজ গুরুত্বসহকারে করে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। তারই অংশ হিসাবে আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং ও উপ-শাখা ব্যাংকিং এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ব্যাংকের ১০০০ তম এজেন্ট আউটলেট উদ্বোধনের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং-এ মাইল ফলক স্থাপিত হয়েছে। শুধু ২০১৯ সালেই নতুন ৭০৭ টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট খােলা হয়েছে। বর্তমানে এখানে গ্রাহক সংখ্যা ৪,৬১,১৭৫ এবং আমানতের পরিমাণ ১,৬৩০ কোটি টাকা, যা দেশের সকল ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এর মধ্যে সর্বোচ্চ। আমানতের প্রবৃদ্ধি ৪২৮%। এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ২০১৯ সালে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছে ২,৪৬১ কোটি টাকা যার প্রবৃদ্ধি ৫৬৮%। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নব সংযােজন উপ-শাখা ব্যাংকিং এর কার্যক্রম আমরা এ বছরের শেষের দিকে শুরু করেছি। ইতােমধ্যে ২১ টি উপ-শাখা খােলা হয়েছে, যেখানে এই অল্প সময়ের মধ্যে ৩,৬৩৩ জন নতুন গ্রাহকের ২৫ কোটি টাকার আমানত সংগৃহিত হয়েছে।

আমরা এ বছর এজেন্ট ব্যাংক, উপ-শাখা, এটিএম, সিডিএম, সিআরএম বুথ বহুগুণ বৃদ্ধি করে ইসলামী ব্যাংকের সেবা ও কার্যক্রম দেশের প্রতিটি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগােড়ায় পৌছে দিতে চাই। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালে আমরা ২০০০ টি এজেন্ট ব্যাংক ও ৩০০ টি উপ-শাখা খােলার কর্ম পরিকল্পনা নিয়েছি। সকলের সার্বিক সহযােগিতায় ইনশাআল্লাহ এ পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করবই।

সম্পদমান
আমরা জানি বছর জুড়ে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল Non-Performing Investment। এ ক্ষেত্রে সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও সেপ্টেম্বর ২০১৯ এ দেশে মােট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৪% বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৬,২৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল, যা দেশের মােট বিনিয়ােগের ১১.৯৯%। দেশের ব্যাংকগুলােতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও আমাদের খেলাপি ঋণ হ্রাস পেয়ে একটি সন্তোষজনক অবস্থানে আছে। খেলাপি ঋণ গত বছরের ৪.১৬% থেকে কমে ৩.৭৯%- এ দাঁড়িয়েছে। আমাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ বিনিয়ােগ ৬,৮৫৯ কোটি টাকা, যা মােট বিনিয়ােগের ৭.৬১%। গত বছর এ হার ছিল ৭.৯৭%। Written Off বিনিয়ােগ ৯৫৯ কোটি, যা মােট বিনিয়ােগের ১.০৬%। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আমাদের সম্পদমান ঠিক রাখার জন্য ২০২০ সালে নগদ আদায়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কমপ্লায়েন্স
দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি পরিপালনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। ২০১৯ সালে আমাদের ইন্টারনাল অডিট টিম কর্তৃক উত্থাপিত অডিট আপত্তির ৯৩% এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অডিট আপত্তির ৯৬% ইতােমধ্যেই নিয়মিতকরণ সম্পন্ন হয়েছে। এক্সটারনাল অডিটের ২২৩ টি অডিট আপত্তির মধ্যে ২২২টি নিষ্পত্তি তথা পরিপালন সম্পন্ন হয়েছে। রিস্ক রেটিং ক্যাটাগরিতে আমাদের ২৮৮ টি শাখাই “Low Risk” শাখা। আমাদের কোন ‘High Risk’ শাখা নেই। AML-CFT ইস্যুতে আমাদের ৩৪২ টি শাখা Strong level অবস্থানে রয়েছে। AML-CFT বিষয়ক ইস্যুগুলাে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি অনুযায়ী পরিপালনের জন্য ২০১৫ সাল থেকে AML কনসালটেন্ট Kroll এর তত্ত্বাবধানে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতােমধ্যে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত AML সলিউশন SAS এবং Accuity ব্যবহার করছি। এছাড়া আমাদের ২৩ জন নির্বাহী কর্মকর্তা CAMS (Certified Anti-Money Laundering Specialist) সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন। ট্রেড বিষয়ক কমপ্লায়েন্স পরিপালনের জন্য আমাদের ২৫৭ জন নির্বাহী কর্মকর্তা CDCS ডিগ্রী অর্জন করেছেন, যা দেশের মােট CDCS এর অর্ধেকেরও বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র আমাদেরই আছে Certified Global Sanctions Specialist। আমরা Green Finance Compliance এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ৫% Finance এর স্থলে ১৪.২৪% Finance করেছি।

শরী’আহ পরিপালন
শরী’আহ পরিপালনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। ফলে Doubtful Income বিগত বছরের ০.৮৪% থেকে কমে ২০১৯ সালে ০.৭১%- এ দাঁড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর রয়েছে দেশের খ্যাতনামা ইসলামী স্কলারদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটি। ২০১৯ সালে শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটি ও শরী’আহ সাব-কমিটি মােট ১৬ টি অধিবেশনে মিলিত হয়ে শরী’আহ বিষয়ক মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। ব্যাংকিং এ শরী’আহ পরিপালনে আরাে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ২০১৯ সালে ব্যাংকের সকল জোন ও কর্পোরেট শাখাসমূহে ব্যাংকিং কার্যক্রমে ‘শরী’আহ পরিপালন’ শীর্ষক ২৪ টি আলােচনা সভা ও গ্রাহক সমাবেশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলােকে ঝুঁকি ভিত্তিক শরী’আহ অডিটের উপর ১৫ টি কর্মশালার আয়ােজন করা হয়েছে।

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা
একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নতি এবং অগ্রগতির প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে এর দক্ষ, যােগ্য এবং অভিজ্ঞ জনশক্তি। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার ১৭,০০০ জনশক্তির অধিকাংশই তারুণ্যদীপ্ত এবং মেধা, মনন, দক্ষতা, যােগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠায় অধিকতর উন্নত। সার্বিকভাবে জনশক্তির মান আরাে উন্নত করার জন্য এ বছর ১০৯ টি কোর্সের মাধ্যমে ১৭,২০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯২ জনকে বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানাে হয়েছে। জনশক্তির মাঝে কর্মোদ্দীপনা আরাে বেগবান করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে রেকর্ড সংখ্যক মােট ৩,৮৮৬ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে বিভিন্ন পদে সর্বমােট ২,২৫৯ জন জনশক্তি নিয়ােগ দেয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত এ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে তাদেরকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়েছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ, জাতি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে ও তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, ত্রাণ, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম ও আর্থিক সেবা খাতে ২০২০ সালে ৪,৩৫,৩৫৬ জন সুবিধাভােগীর মাঝে ১০৩ কোটি টাকা বিতরণ করেছি।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
ইসলামী ব্যাংক তার ধারাবাহিক সাফল্যের ফলস্বরূপ ২০১৯ সালেও দেশে-বিদেশে উল্লেখযােগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে। লন্ডনভিত্তিক ব্যাংকিং বিষয়ক ম্যাগাজিন “দি ব্যাংকারস”- এ বিশ্বের ১০০০ ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ ২০১৯ সালে ১৭ ধাপ এগিয়ে ৯৪৩ তম স্থানে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক “Best Remittance Earning Bank” হিসাবে আমাদের ব্যাংককে রেমিটেন্স এওয়ার্ড ২০১৮ প্রদান করেছে। জাতীয় রাজস্ব বাের্ড ব্যাংকিং সেক্টরে “সর্বোচ্চ ট্যাক্স পেয়ার ব্যাংক” হিসেবে ১ম স্থান পুরস্কার প্রদান করেছে। “Best Islamic Bank in Bangladesh” এওয়ার্ড প্রদান করেছে ICMAB। ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিঃ ২০১৯ সালে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে সেরা ডিলার নির্বাচিত হয়েছে।

“The Strongest Bank in Bangladesh” এওয়ার্ড প্রদান করেছে দি এশিয়ান ব্যাংকারস। CIBAFI ২০১৯ সালে আমাদেরকে “World’s Best Islamic Bank” এওয়ার্ড প্রদান করেছে। UK based Cambridge International Finance Advisory Committee আমাদেরকে প্রদান করেছে-
i) CEO of the Year-2019
ii) Strongest Islamic Retail Bank in Asia-2019
iii) Islamic Retail Banking Leadership Award-2019
iv) Strongest Islamic Retail Bank in Bangladesh-2019.

এতসব স্বীকৃতি ও সফলতার পিছনে মূল চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করেছে ব্যাংকের মালিকানার বৃহত্তর অংশীদার এবং বিজ্ঞ পরিচালক মন্ডলীর সময়ােপযােগী দিক নির্দেশনা এবং সর্বোপরি কঠিন চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করা একদল সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী ও দক্ষ জনশক্তি যারা জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে।

ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের ম্যানেজমেন্ট টিম ২০১৯ সালে শতভাগ লােকবলের উপস্থিতিতে অঞ্চল ভিত্তিক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে। সবাইকে সম্পৃক্ত করে এমন আয়ােজন ব্যাংকে এবারই প্রথম। সেখানে আমরা দেখেছি কর্মচঞ্চল তারুণ্যদীপ্ত একদল ঐক্যবদ্ধ সুশংখল জনশক্তি যারা ব্যাংকের লক্ষ্য-উদ্দ্যেশ্য সম্পাদনের জন্য সদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ২০১৯ সালে ব্যাংকের এমন সাফল্যের পিছনে এই মতবিনিময় সভাগুলাে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

আমরা এই জনশক্তিকে নিয়ে ব্যাংকের সম্প্রসারণের কাজগুলাে এগিয়ে নিতে চাই। “Broadening outlook and ability towards excellence” এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে ২০২০ সালে আমাদের আউটলুক ও সামর্থ্যের বিস্তৃতি ঘটাবাে। ব্যাংকের মৌলিক ভিত্তি সুসংহত করা ও সেবার পরিধি সম্প্রসারনের কাজগুলাে এগিয়ে নিয়ে গেলেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হবে। তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, অটোমেশনের বিস্তৃতি, এডিসির সম্প্রসারণ, এজেন্ট ব্যাংক, উপ-শাখা, ক্ষুদ্র বিনিয়ােগ তথা RDS এর সম্প্রসারণ এবং সকল জনশক্তির ability বৃদ্ধি করে ইসলামী ব্যাংকের সেবা দেশের ১৬ কোটি মানুষের দোরগােড়ায় পৌঁছে দিয়ে ব্যাংকের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

আজ আমি স্বপ্ন দেখি ৩ কোটি গ্রাহকের, ২ লক্ষ কোটি আমানতের, ক্ষুদ্র বিনিয়ােগ ও সঞ্চয়ে ৬৮ হাজার গ্রামের, পেপারলেস ব্যাংকিংয়ের, তথ্য প্রযুক্তিতে দেশে মূল চালকের আসনের, বিশ্বের ১০০ তম ব্যাংকের। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ভার আমি তারুণ্যদীপ্ত ১৭ হাজার জনশক্তির কাছে অর্পণ করলাম। আমি আশা করি, অতীতের মত এবারও আপনারা স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা সফল হবাে ইনশাআল্লাহ।
সবাইকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ হাফেজ।

বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন-২০২০
স্থানঃ হোটেল রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট, কক্সবাজার
তারিখঃ ১০-১২ জানুয়ারি, ২০২০
স্বাগত বক্তব্য
মোঃ মাহবুব উল আলম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

কার্টেসিঃ মোহাম্মদ শামসুদ্দীন আকন্দ
অফিসার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড

Leave a Reply