বিতরণকৃত শিল্প ঋণের অর্ধেকই খেলাপি

0
607

বড় উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না। এতে বাড়ছে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সামগ্রিক ব্যাংক ঋণের তুলনায় শিল্প ঋণে খেলাপি বেড়েছে অনেক বেশি হারে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকায়। একই সময়ে শিল্প ঋণে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ। যা বিতরণকৃত মোট শিল্প ঋণের ৫০ শতাংশ।

গত এক বছরে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থায় যে ১৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ বেড়েছে; এর মধ্যে সিংহভাগই শিল্প ঋণ। বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা বড় ঋণ শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ রকম হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রতি ১০০ টাকায় ২৫ টাকা বেড়েছে এ খাতের খেলাপি ঋণ। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এ খাতেই বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

একটি খাতে এ অস্বাভাবিক হারে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়াকে হতাশা ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন ব্যাংকার ও উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, যেভাবে চলছে এটা উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে অর্থনীতিতে মোটেও সুখকর কিছু আশা করা যাবে না। অন্যদিকে ভিন্ন দাবি ব্যবসায়ীদের।

এবিষয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ বাড়ার কারণে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা ব্যবসায়ীদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। কারণ এমনিতে ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ।

সেই সুদের ওপর আবার সুদ আরোপ করার প্রক্রিয়া একেবারেই অন্যায় বলে দাবি করনে তিনি। তার মতে, ব্যাংকগুলো শুধু নিজেদের লাভের চিন্তা করে। তারা আমাদের কথা চিন্তা করে না। বর্তমানে ব্যবসায়ী সমাজ বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। এভাবে চলতে থাকলে খেলাপি আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে জানা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে শিল্প খাতে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৪ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে শিল্প ঋণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।

এ সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ৬৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। আর বকেয়া স্থিতি আলোচ্য সময়ে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ৫ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকাররা অনেক সময় ভাল-মন্দ যাচাই বাছাই না করেই বৃহৎ অংকের ঋণ বিতরণ করে ফেলেন। এসব টাকা নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও কোনো খবর রাখা হয় না। এতে করে সত্যিকারের উদ্যোক্তার ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এই সমস্যা সমাধানে সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ না দিয়ে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ এই অর্থনীতিবিদের।

Leave a Reply