ইক্যুইটি শেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহ

0
765

ইক্যুইটি শেয়ার সাধারণ শেয়ার নামে পরিচিত, এটি কোম্পানির মালিকানা প্রতিনিধিত্ব করে। ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির ভোটের অধিকার পাওয়ার অধিকারী। এই ইক্যুইটি শেয়ারের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের বৈশিষ্ট্য
ইক্যুইটি বা সাধারন শেয়ারের বৈশিষ্ট্য সমুহ নিচে আলোচনা করা হলো-

১. মালিকানা: সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণই একটি কোম্পনির প্রকৃত মালিক। যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভ করেন। তবে এরা যে পরিমাণ শেয়ার ধারন করে সে পরিমাণ অংশের মালিক বলা হয়। অর্থাৎ এদেরকে কোম্পানির আংশিক মালিক বলা হয়।
২. আঙ্কিক মুল্য: আঙ্কিক মূল্য বলতে শেয়ারের গায়ে লিখিত মূল্যকে বুঝায়। প্রতিটি শেয়ারের একটি নির্দিষ্ট লিখিত মুল্য থাকে।
৩. ভোটাধিকার: সাধারণত প্রত্যেক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণের একটি করে ভোট প্রদানের অধিকার রয়েছে। শেয়ার মালিকগণ কোম্পানির যে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ নির্বাচন করেন। বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

৪. লভ্যাংশ: নিট আয়ের যে অংশ শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে বন্টন করা হয় তাকে লভ্যাংশ বলে। লভ্যাংশ প্রদান কোম্পানির পরিচালক পর্ষদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ কোম্পানি বাৎসরিক ভিত্তিতে লভ্যাংশ প্রদান করে থাকে। লভ্যাংশ দু’ভাবে প্রদান করা হয়। যেমন- নগদ লভ্যাংশ এবং স্টক লভ্যাংশ।
৫. সীমাবদ্ধ দায়: শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের শেয়ার প্রতি বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ। যেমন: আপনি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির ১০ টাকা মূল্যের ১০০০টি শেয়ার ক্রয় করেছেন। এক্ষেত্রে আপনার দায় ১০,০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
৬. মেয়াদ: সাধারণ শেয়ারের নির্দিষ্ট কোন মেয়াদ থাকে না। এটি পারপিচুয়াল বা চিরস্থায়ী। যতদিন কোম্পানির অস্তিত্ব থাকবে শেয়ারহোল্ডারগণ ততদিন ঐ কোম্পানির মালিক থাকবেন। তবে এর মালিকানা হস্তান্তর করা যায়।
৭. কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ: শেয়ারহোল্ডারগণ কোম্পানির প্রকৃত মালিক হওয়ায় তারা কোম্পানির যাবতীয় কার্যক্রম ভোটাধিকার প্রয়োগ করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ, শেয়াহোল্ডারদের দ্বারা নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকে।

এছাড়াও ইক্যুইটি শেয়ারের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
• ইক্যুইটি শেয়ার স্থায়ী প্রকৃতির।
• ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির প্রকৃত মালিক এবং তারা সর্বোচ্চ ঝুঁকি বহন করে।
• এই শেয়ারের মালিকানা বিবেচনা করে বা বিবেচনা না করে অন্য ব্যক্তির সাথে হস্তান্তর করা হয়। তাই ইক্যুইটি শেয়ার স্থানান্তরযোগ্য।
• ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডারা লভ্যাংশ নির্দিষ্ট হারে পায় না।

Leave a Reply