eKYC ও কিছু প্রস্তাবনা

0
1126

আগামী ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক e-KYC শুরু করতে চাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক ব্যাংক এটি নিয়ে গবেষণা/ভাবনা/ট্রেনিং শুরু করেছে। আমি বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত। আমার ১১ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, একাউন্ট ওপেনিং ফরম বা AOF + KYC দুটোই Electronic ফরমেটে নিয়ে আসা যায়, এতে ব্যাংকের এবং গ্রাহকের উভয়েরই অনেক সুবিধা হবে। অনেক অযথা কাজ বেচে যাবে।

কিভাবে আমি একটু বিস্তারিতভাবে বলি, তাহলে সবার বুঝতে সুবিধা হবে। একাউন্ট ওপেনের জন্য যে ফরমটা ব্যাংকগুলো ছাপিয়ে থাকে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরম্যাট করা। ব্যাংকগুলো শুধু যার যার লোগো এবং প্রোডাক্ট শর্তাবলিই এতে সংযুক্ত করে থাকে বা করতে পারে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসসহ একজন গ্রাহক এই ফরম যথাযথভাবে পুরন করে স্বাক্ষর করার পর ব্যাংকের কর্মকর্তা সেটি দেখে দেখে সফটওয়্যার এ ইনপুট দেয়। তারপর সেই ফরম দুই থেকে তিনজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর হয়ে ম্যানেজার এর স্বাক্ষর হয়। তারপর সেন্ট্রালাইজ ব্যাংক হলে মুল ফরম প্রধান কার্যালয়ে কুরিয়ার বা হাতে হাতে পাঠাতে হয়।

তার আগে শাখা সেই ফরমটা পুরোসেট ফটোকপি করে শাখায় সংরক্ষণ করে। প্রধান কার্যালয়ে ফরম আসার পর শুরু হয় আরেক খেলা! হাতুরি বাটাল নিয়ে এক্সেল এ স্প্রেডশিট বানিয়ে সেই ফরম প্যাকেট করে ষ্টোরে নিয়ে যাওয়া হয়! অথচ যদি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দিয়ে ফরম ফিলাপ না করেই শাখার ব্যাংক কর্মকর্তা সেটি সফটওয়্যার এ ইনপুট দিতে পারত তাহলেই ব্যাংকগুলোকে আর এত টাকা খরচ করে হাজার হাজার ফরম ছাপানোর প্রয়োজন ছিল না। অন্যান্য কাজগুলোর দরকার হতো না অথোরাইজেশন ছাড়া। এমনিতেও অথোরাইজেশন করতেই হয় প্রতিটি একাউন্ট।

এবার আসুন গ্রাহক স্বাক্ষর কিভাবে করবে? ছবিই বা কিভাবে তুলবে? আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্র যখন ইমপ্লিমেন্ট হচ্ছিল তখন কিন্তু আমরা ডিজিটালি স্বাক্ষর করেছিলাম, ছবিও তুলে ছিলাম! পাসপোর্ট করতেও আমরা তাই করে থাকি। অনেকেই বলবেন আমরা কি আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবির মত এত কদাকার? আমি বলবো না আমরা আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবির মত এত কদাকার নই আবার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারের মত এত সুন্দরও নই। আমরা আসলে যেমন তেমনি হবে আমাদের ছবি। ওয়েবক্যামে ছবি তোলা হবে ব্যাংকে।

কারেন্ট একাউন্ট, কোম্পানি একাউন্ট সেসব একাউন্টে সীল থাকে সেই সব একাউন্টের সিগনেচার কার্ড স্ক্যান করা হবে শাখা থেকেই। শুধু প্রয়োজন সফটওয়্যারকে ডিজিটালি সেইমত তৈরি করা। একটা সময়ে ব্যাংকে বড় বড় লেজার বই থাকত, টাকা তুলতে গেলে সোনালি রঙের টোকেন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হত! অনলাইন ব্যাংকিং বলে কিছু ছিলনা, ছিল না এটিএম বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং! যুগের সাথে বদলে গেছে ব্যাংকিং! এখন কিন্তু কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার অনেক খাতাপত্র, লেজার বইগুলোকে প্রায় বিদায় করে দিয়েছে।

এবার আসুন অডিটের সময় কি হবে? যেহেতু মুল ফরম সার্ভারে থাকবে তাই যখন প্রয়োজন তখন শুধু ওই নিদ্রিষ্ট ফরম বের করা হবে প্রিন্ট নিয়ে। এতে ফরম হারানো বা মিসিং হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। ব্যাংকগুলোর আইটি খাতে খরচ বাড়লেও প্রিন্টিং ও সংরক্ষণ খাতে খরচ কমবে। আশাকরি আমরা এই ডিজিটাল বাংলাদেশে একদিন এই বিষয়টি দেখে যেতে পারবো। সবাইকে ধন্যবাদ রস কষ বিহীন এই কঠিন লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।

লেখকঃ সৈয়দ আব্দুর রাকিব
মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত।

Leave a Reply