ই-কমার্স বা ইন্টারনেট কমার্স

0
528

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ কেনাকাটা অনলাইনে যখন খুশি যেখানে সেখানে আধুনিক শিক্ষিত প্রজন্মের কাছে ই-কমার্সের প্রসার এখন সময়ের দাবি। Banking Service এর ডিজিটাইজেশনের ফলে বর্তমানে ১.০৬ কোটি ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হোল্ডার এখন ই-কমার্সের মাধ্যমে শুধু দেশের মধ্যেই নয় বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ফলে উন্নয়নের গতিধারায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বা ই-বাণিজ্য একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোন ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইন্টারনেট বা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক) এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/বিক্রয় হয়ে থাকে। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে। এছাড়াও মোবাইল কমার্স, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও অন্যান্য আরো কিছু মাধ্যম ব্যবহৃত হয়।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন ও সুবিধা ব্যবহার করাকে ই-কমার্স বলে। ইন্টারনেট কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়। অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা এর সহজ উদাহরণ। বস্তুত, যে কোনো ব্যবসায় ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালনা করাই হল ই-কমার্স।

 কতিপয় ইন্টারনেট কমার্স বা ই-কমার্স
নিম্নে কতিপয় ইন্টারনেট কমার্স বা ই-কমার্স ব্যবসার নাম তুলে ধরা হলো-

• অনলাইন শপিং
পণ্য অনলাইনে বেচাকেনা ই-কমার্সের কমন একটি উদাহরণ। এখানে বিক্রেতারা অনলাইনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দেয়। ক্রেতারা তা দেখে মাউজের ক্লিকের মাধ্যমে তা কেনে। www.amazon.com এরকম অন্যতম একটি ওয়েবসাইট। যেখানে পণ্য বা সেবা অনলাইনে বেচাকেনা করা হয়। তবে বাংলাদেশে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। বাংলাদেশে কয়েকটি E-Commerce ভিত্তিক ওয়েবসাইট এর নাম: www.bagdoom.com, www.rokomari.com, www.ajkerdeal.com, www.chaldal.com ইত্যাদি।

• ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট
যখন আপনি অনলাইনে কিছু কিনবেন তখন অনলাইনে তার দাম দেওয়ার জন্য মেকানিজমও আপনার থাকতে হবে। এর কারণে গ্রাহক গ্রহীতা দুজনই একটা ছবির মধ্যে চলে আসেন। ই-পেমেন্টে অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম যেমন মেইলিং করা এসব করতে হয় না। একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন অনিশ্চয়তা থেকেও রেহাই দেয়। যেমন: www.easy.com.bd, www.paypoint.shurjorajjo.com.bd

• অনলাইন নিলাম
আপনি যখন অনলাইন নিলামের কথা ভাবেন তখনই আপনার মনে আসে ই-বে এর কথা। বাস্তবে কিছু নিলাম করতে হলে কতিপয় লোকের কাছে আপনাকে নির্দিষ্ট দিনে তা করতে হয়, কিন্তু অনলাইন নিলামে আপনি স্বল্প সময়ে অসংখ্য মানুষের কাছে কোনো কিছু নিলাম করতে পারবেন। অনেকেই বাস্তব বেচাকেনার চেয়ে অনলাইন নিলামকে এজন্য বেশি পছন্দ করে। বাংলাদেশে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।

• ইন্টারনেট ব্যাংকিং
বর্তমানে ব্যাংকের কোনো অফিসে শারীরিকভাবে না গিয়েই আপনি ব্যাংকের যাবতীয় কার্যক্রম সারতে পারবেন। এভাবে আপনি ক্রেডিট কার্ডও নিতে পারবেন। যা ই-কমার্সের বড় সাফল্য।

• অনলাইন টিকেটিং
বিমান, ট্রেন, খেলা বা সিনেমা হলের টিকেট আপনি এখন অনলাইনে খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। এজন্য আপনাকে কাউন্টারে গিয়ে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে হয়রান হতে হয় না। ট্রেনের টিকেট www.esheba.cnsbd.com থেকে আপনি কিনতে পারবেন।

 ই-কমার্সের ধরণ
ই-কমার্সে অংশ নেয়া গ্রাহকদের ভিত্তিতে একে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা হয়-

• Business to Business বা ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (B2B):
B2B হল এমন ক্ষেত্র যেখানে গ্রাহক গ্রহীতা পণ্যের উৎপাদক, খুচরা বা পাইকারী বিক্রেতা কিংবা শুধু ব্যবসার জন্য লেনদেন করে। ৮০ শতাংশের মত ইলেকট্রনিক কমার্স ব্যবসা-থেকে-ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরন স্বরুপঃ www.sindabad.com

• Business to Consumer বা ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক (B2C):
যখন ব্যবসায়ীরা কাস্টমার বা ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির জন্য অনলাইনে অবতীর্ণ হয় তখন তাকে B2C বলে। এই প্রকারে দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা বেশি ইলেকট্রনিক বাণিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে। উদাহরন স্বরুপঃ www.rokomari.com, www.foodpeon.com, www.pickaboo.com

• Business to Government ব্যবসা-থেকে-সরকার (B2G):
ব্যবসা-থেকে-সরকার ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় খাতের মধ্যে। এটি সাধারনত ব্যবহৃত হয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় কেনা/বেচা, লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যাবলী, কর প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

• Consumer to Consumerবা গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক (C2C):
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একজন ভোক্তা নিজেই বিক্রেতা হয়ে অন্য ভোক্তার কাছে নিজের পণ্য বা সেবা বিক্রি করার প্রয়াস চালায়। একে বলে C2C।
গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যক্তি ও গ্রাহকের মধ্যে। ইলেকট্রনিক বাজার ও অনলাইন নিলাম এর মাধ্যমে সাধারণত এই ধরনের বাণিজ্য সম্পাদিত হয়। উদাহরন স্বরুপঃ www.bikroy.com, www.clickbd.com

• Consumer to Governmentগ্রাহক থেকে সরকার (C2G):
কখনো সরসরি জনগনের কাছ থেকে সরকার বিভিন্ন সেবার বিনিময় ফি বা কর নিয়ে থাকে। যখন এর মাঝে কোন মাধ্যমৈ থাকেনা তখন এটা গ্রাহক থেকে সরকার পক্রিয়া বলে বিবেচিত হয়। ডিজিটাল গভর্নেন্স-এর আওতার এ ধরনের সেবা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 ই-কমার্সের বিশেষ কাঠামো
বর্তমানে ই-কমার্সের বিশেষ ব্যবহারের কারণে বিশেষ ধরণ লক্ষ্য করা যায়। যেমন:

• M-Commerce
Mcommerce বা এম কমার্স হল মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম করা। মোবাইলে ইন্টারনেট চালু করে মোবাইলেই ব্যবসা করার নামই এম কমার্স।

• F-Commerce
F-Commerce বা ফেসবুক কমার্স। ফেসবুকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম করা। ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্য ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এফ কমার্সও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

 ই-কমার্সের ক্ষেত্রসমূহ
• পণ্য ও সেবা কেনা/বেচা।
• মূল্য পরিশোধ।
• পণ্য নিলাম।
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর পণ্য ও সেবার মূল্যের তুলনামূলক বিশ্লেষন।
• টিকেট ক্রয়।
• পণ্য ও সেবা অর্ডার ও বুকিং দেয়া।
• অনলাইন বিজ্ঞাপন বাণিজ্য ইত্যাদি।

 ই-কমার্সের মাধ্যম, উপকরণ ও সম্পর্কিত বিষয়সমূহ
• বিক্রেতার জন্য
– ই-কমার্স উপযোগী ওয়েবসাইট।
– দ্রুত ও কার্যকরভাবে অর্ডার প্রক্রিয়া করার জন্য ইন্ট্রানেট ও সার্ভার।

• মধ্যবর্তী মাধ্যম
– ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য প্রদানের ও সমধর্মী সেবা প্রদানকারী ব্যাংক প্রতিষ্ঠান।
– দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান।
– পণ্য ও মুদ্রা স্থানান্তর ও পরিবহনে নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

• গ্রাহকের জন্য
– ইন্টারনেট সুবিধা।
– মূল্য পরিশোধের জন্য ক্রেডিট কার্ড বা সমধর্মী মাধ্যম।

• সরকারিভাবে
ই-কমার্স এর নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় আইন ও নীতিমালা।

 বাণিজ্য বাজারে প্রভাব
অর্থনীতিবীদদের মতে, যেহেতু ইলেকট্রনিক কমার্স গ্রাহকদের বিভিন্ন পণ্য সহজে খুঁজে পাওয়া এবং তুলনামূলক বিশ্লেষনের একটি ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে, তাই এটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরীতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

 ই-কমার্সের সুবিধা
ই-কমার্সের প্রধানতম সুবিধা হল সময় ও ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা দূর করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি সহজে পণ্য বা সেবার প্রত্যাশিত মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।

জনপ্রিয় কয়েকটি প্লাটফর্ম হল– WordPress (Woocomerce), Magento, Open Cart, Zen Cart, Pestashop, X-Cart, OsCommerce

Leave a Reply