সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টকরণে ব্যাংক শাখার দায়িত্ব ও কর্তব্য

0
7303

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে গ্রাহকের লেনদেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে মনিটরিং করা একটি অত্যাবশ্যকীয় আইনগত পরিপালনীয় বিষয়। এটি ব্যাংক শাখার কোন বিশেষ কর্মকর্তার একক দায়িত্ব নয়, বরং সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরণে ব্যাংকের শাখার প্রত্যেককে সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টির গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষার জন্যও নির্দেশনা রয়েছে। যার লংঘন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, ধারা ৬ (৩) এর আওতায় একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কতিপয় শাখায় লেনদেন মনিটরিং কার্যক্রমে উপরোক্ত নির্দেশনার ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের এতদ্বিষয়ক ব্যক্তিগত অজ্ঞতা বা ক্ষেত্রবিশেষে উদাসীনতা হেতু অনেক সময় সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলো গ্রাহকের কাছে চলে যাচ্ছে যা ব্যাংক সমূহের অপরিপালনজনিত শাস্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। এ প্রেক্ষিতে ব্যাংক সমূহের শাখাসমূহকে তাদের করণীয় বিষয়ক নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ পালন করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে-

১) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৫ (১) (ঘ) ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৬ (১) ধারায় বর্ণিত নির্দেশ বাস্তবায়নের নিমিত্তে ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা গ্রাহকের দৈনন্দিন লেনদেন বা কার্যক্রমে সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরণে সচেতন ও সতর্ক থাকবেন।

২) সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরণে ব্যাংক কর্মকর্তাগণ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২ (য) ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ২ (১৬) ধারায় বর্ণিত সংজ্ঞা বিবেচনা করবেন।

৩) ব্যাংক শাখার কোন কর্মকর্তা কর্তৃক সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে তা শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাকে (বামেলকো) লিখিতভাবে অবহিত করবেন। বামেলকো রিপোর্টকৃত লেনদেন বা কার্যক্রম অবিলম্বে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করবেন এবং পর্যবেক্ষণসমূহ বিশদভাবে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করবেন। বর্ণিত লেনদেন বা কার্যক্রম সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হলে তা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ শাখা ব্যবস্থাপকের স্বাক্ষরসহ সরাসরি প্রধান কার্যালয়ের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগে প্রেরণ করবেন।

৪) রিপোর্টকৃত লেনদেন বা কার্যক্রমের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করবেন। বিষয়টি শাখার অন্যান্য কর্মকর্তা বা গ্রাহক/গ্রাহকের কোন প্রতিনিধির নিকটও প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।

৫) বিএফআইইউ কর্তৃক পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রিপোর্টকৃত এসটিআরের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ করবেন।

৬) প্রতিটি এসটিআরের জন্য আলাদা ফরওয়ার্ডিং, সংশ্লিষ্ট হিসাবের কেওয়াইসি, টিপি ও অন্যান্য দলিলাদি, সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট হিসাবে কমপক্ষে ০৬ (ছয়) মাসের বিবরণি, সন্দেহকৃত লেনদেন সংশ্লিষ্ট ভাউচারের উভয় পৃষ্ঠার ফটোকপি সরাসরি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করতে হবে।

Leave a Reply