ডাক্তার ও নার্সরা পেলেন প্রণোদনা পুরস্কার, ব্যাংকাররা কি পেলেন?

0

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক, নার্স, সেনা, পুলিশসহ যারা কাজে নিয়োজিত আছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কিন্তু যারা পালিয়ে আছেন, তারা এই প্রণোদনা পাবেন না। দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃসময় আসছে। এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে হানা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যারা জীবন বাজি রেখে কাজে নিয়োজিত, তাদের তিনি পুরস্কৃত করতে চান জানিয়ে তাদের তালিকা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের তিনি সম্মানী দিতে চান। তারা বিশেষ ইনস্যুরেন্স পাবেন।

এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে কেউ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা সরকার নেবে। পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা করা হবে। ‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই বীমা পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে। যারা করোনার সময় কাজ করছেন, জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন, এই প্রণোদনা তাদের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কারণ ডাক্তার হচ্ছে একজন মানুষের জীবন বাঁচার শেষ ভরসার জায়গা। তাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। করোনাভাইরাস মহামারীর এ দুঃসময়ে ডাক্তার ও নার্স স্বতস্ফুর্তভাবে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসবেন এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

আবার অন্য পেশায় যারা নিয়োজিত আছেন তারাও যদি জীবন বাজী রেখে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জন্য কাজ করে থাকেন তাদেরকেও মূল্যায়ন করা উচিত। এমন একটি পেশা হচ্ছে ব্যাংকার। দেশের প্রায় সব পেশার মানুষ যখন কোয়ারেনটাইন পালন করার জন্য নিজ গৃহে নিরাপদে অবস্থান করছেন তখন ব্যাংকারদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে নিয়মিত অফিস করার জন্য।

প্রধানন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যাংকাররা হতাশ হয়েছেন। কারণ ব্যাংকাররা হচ্ছেন অর্থনীতির ডাক্তার। তারা নিজ ও পরিবার পরিজনের ভয়াবহ ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখেছেন। আশা করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ডাক্তারদের পাশাপাশি ব্যাংকারদেরকেও কাজের মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু ব্যাংকারদেরকে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন তো দূরের কথা তাদেরকে সামান্য ধন্যবাদও দেয়া হলোনা।

করোনা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধকল্পে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে ব্যাংকাররা সীমিত লেনদেন সময়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে গ্রাহক সেবা দিচ্ছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ব্যাংকারদের প্রতি কোন সহানুভূতিশীল মেসেজটুকু কোন তফসিলি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা সিইও এবং পরিচালনা পর্ষদের কোন উর্ধ্বতন ব্যক্তি দিয়েছেন কিনা, আমাদের জানা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকারদের এ অসামান্য সেবা বা ঝুঁকির যথাযথ মুল্যায়ন করতঃ অচিরেই স্বাস্থ্য বীমাসহ নানা সুবিধা ঘোষণা করবেন বলে প্রত্যাশা করে অভিজ্ঞমহল।

ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডাক্তারদের মত ব্যাংক কর্মকর্তাদের শক্ত কোন প্লাটফর্ম না থাকায় তাদের দাবি দাওয়াগুলো সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। ব্যাংকাররা আশা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সহানুভুতির সাথে বিবেচনা করবেন।

Leave a Reply