খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে

0
284

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা তৎপরতার পরও কমছে না খেলাপি ঋণ। ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে চলেছে আর্থিক খাতের এই বিষফোঁড়া। কোনভাবেই যেন লাগাম পরানো যাচ্ছে না। এমনকি ‘খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না’- অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার পরও প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে খেলাপি। শুধু সেপ্টেম্বর মাস শেষে বেড়েছে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি। সবশেষ নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আরও ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে খেলাপি। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। তবে তিন মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকায়।

সর্বোশেষ ১৭ নভেম্বর মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ পুনঃতফসিলের (রিশিডিউলিং) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও ৯০ দিন সময় পাবেন আবেদনকারীরা। সূত্রমতে এই সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়মিত হয়েছেন অনেকে। তারপরেও এই খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১০ জানুয়ারি সব ব্যাংকমালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেছিলেন, ‘আজ থেকে খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না।’ আর জানুয়ারি-মার্চ এ তিন মাসেই খেলাপি ঋণ প্রথমবারের মেতো এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। পরের তিন মাসে বাড়ল ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানা অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, লক্ষ্য করা যায় যেসব ব্যাংকে কর্পোরেট গভর্নেন্স ভালো তাদের খেলাপি কম এবং যাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স খারাপ তাদের খেলাপি অনেক বেশি। এছাড়া একটি ব্যাংকে পরপর তিনটি কোম্পানি অডিট করার পরেও কোন দুর্বলতা খুঁজে পায় না। অপরদিকে দিনদিন খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। এ কারণে মন্দ ঋণ কমাতে হলে পর্ষদ সভা ইন্টার্নাল ক্রেডিট রেটিং বিভাগ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সহ সবার সামষ্টিক প্রচেষ্টা দরকার।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আশি ও নব্বইয়ের দশকে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি এবং গ্রাহকের সংখ্যা কম। একই গ্রাহকের উপর একাধিক ব্যাংক নির্ভরশীল। খেলাপি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এটি। এছাড়া বর্তমানে ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদেরকে দমন করতে হলে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ খুবই জরুরি। আমাদের দেশে খেলাপি কামাতে যেসব আইন রয়েছে সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটাও দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একাধিক পরিদর্শন বিভাগ আছে, তারপরেও কি কারণে খেলাপি বাড়ছে এটাই এখন মূল প্রশ্ন। আপনারা জানেন সম্প্রতি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করা হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল অনিয়ম এবং দুর্নীতি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সিস্টেমের দুর্বলতাকেই এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্যাংকের চেয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ কর্মকর্তা। সোর্সঃ অর্থসূচক

Leave a Reply