ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি

0
3117

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি (Credit Information Bureau -CIB) হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ বিভাগ। এ বিভাগ ব্যাংক এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ/লিজ গ্রহীতাদের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করে।ঋণ গ্রহণে আগ্রহী কোন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইতিপূর্বে ঋণ/লিজ নিয়েছে কি-না, নিয়ে থাকলে তার অবস্থা, সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ঋণ খেলাপী কি-না তা সিআইবির ঋণ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।

১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক খাত সংস্কার প্রকল্পের আওতায় সিআইবি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য খেলাপী ঋণের বিস্তার রোধ করা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিআইবি প্রতিবেদনের সহায়তা নিয়ে নতুন ঋণ বিতরণ এবং ঋণ পুন:তফসিলীকরণের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে।

প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যেক মাসে বিতরণকৃত ঋণ/লিজের তথ্য সিআইবিতে পাঠাতে হয়। কোন ঋণ বা লিজ হিসাব পুন:তফসিল করা হলেও তার তথ্য সিআইবিতে পাঠাতে বাধ্যতামূলক। এমনকি কোন ঋণ বা লিজ হিসাব অবলোপন করা হলেও তার তথ্য সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হয়।

শেয়ারবাজারের সঙ্গে সিআইবির একটি সম্পর্ক রয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে কোন কোম্পানির পরিচালকদের মধ্যে কেউ ঋণ খেলাপী থাকলে সে কোম্পানির প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও )অথবা রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব বিবেচনাযোগ্য হয় না। কোন কোম্পানি আইপিও বা রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সিআইবি থেকে সেই প্রতিষ্ঠান এবং পরিচালকদের ঋণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে। অন্যসব কিছু ইতিবাচক থাকলেও সিআইবি রিপোর্টের তথ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির কোন পরিচালক ঋণ খেলাপী হলে সে কোম্পানির প্রস্তাব বাতিল করা হয়।

• অনলাইন সিআইবি সার্ভিস (Online CIB Service)
আর্থিক সেক্টরে ঋণগ্রহীতার শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে আগস্ট, ১৯৯২ সালে সিআইবি কার্যক্রম শুরু হলেও জুলাই ২০১১ সাল থেকে অনলাইন সিআইবি সেবা চালু হয়। পরবর্তীতে বিদ্যামান সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে ২০১৫ সাল হতে New CIB Online Solution চালু করা হয়। বর্তমানে নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণতথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পূর্বক ঋণ প্রদান, নবায়ন ও পুনঃতফসিলিকরণের বিষয়ে সক্ষম হয় যা আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সহায়তা করছে।

24X7 নিরবিচ্ছিন্নভাবে ব্যাংকগুলো ঋণতথ্য প্রেরণ এবং সিস্টেম থেকে সার্চ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারে। ফলে ঋণ অনুমোদনের পূর্বে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ গ্রাহকের সম্পর্কের স্বল্পতম সময়ে স্বচ্ছ ধারণা পায়, যা ব্যাংকিং খাতকে আরও মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। এছাড়াও জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশ গ্রহন রোধে সিআইবি-র তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• সিআইবি রিপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য
 অনলাইন সিআইবি সিস্টেম চালুর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ তাৎক্ষণিকভাবে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগের প্রয়োজন হয় না।
 ঋণ আবেদনের সময় NID, TIN, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি প্রয়োজনীয় দলিলাদি ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে সরবরাহ করা বাঞ্ছনীয়।
 সিআইবি রিপোর্ট গোপনীয় বিধায় ব্যক্তি পর্যায়ে সরবরাহ করা হয় না।

• গ্রাহকের তথ্য সংশোধন/হালনাগাদ সংক্রান্ত
 সিআইবিতে গ্রাহকের কোন প্রকার তথ্য সংশোধন/হালনাগাদের জন্য গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরাসরি যোগাযোগ করতে হয় না।
 কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক, জামিনদাতা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ আবেদন করা হলে তা সিআইবি কর্তৃক নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে।

• মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত
• প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Deed of Dissolution
 ট্রেড লাইসেন্স (নতুন এবং পুরাতন)
 ওয়ারিশনামা
 সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।

• অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিবর্তন সংক্রান্ত
• প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Deed of Partnership (নতুন এবং পুরাতন)
 ট্রেড লাইসেন্স (নতুন এবং পুরাতন)
 ওয়ারিশনামা
 সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।

• লিমিটেড কোম্পানির নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত
• প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 RJSC Certified Latest Form XII
 Certificate of Incorporation
 সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।

• প্রতিষ্ঠানের নাম/পরিচালক পরিবর্তন সংক্রান্ত
• প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 RJSC Certified Latest Form XII
 Schedule-X
 Memorandum of Association (MOA)
 সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন

• জামিনদাতা পরিবর্তন সংক্রান্ত
• প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Sanctioned Letter (নতুন এবং পুরাতন)
 Guarantor Information
 সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন

• প্রতিষ্ঠানের ধরন/প্রকৃতির পরিবর্তন সংক্রান্ত
প্রতিষ্ঠানের ধরন/প্রকৃতির পরিবর্তন করতে Company ভেদে নিম্নোক্ত দলিলাদি লাগে-

• Proprietorship to Partnership এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Trade License
 Partnership Deed

• Partnership to Proprietorship এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Date of Desolation
 Trade License

• Proprietorship to Limited Company এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Memorandum of Articles of Association (RJSC Certified)
 Trade License

• Partnership to Limited Company এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Memorandum of Articles of Association (RJSC Certified)

• Private Limited to Public Limited এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Memorandum of Articles of Association (RJSC Certified)

• Private Limited Company to Partnership এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি
 Memorandum of Articles of Association (RJSC Certified)
 Partnership Deed

• গ্রাহকের ঋণতথ্য সংশোধন সংক্রান্ত
 কোন ঋণ নিয়মিতকরণ/পুনঃতফসিলিকরণ/সমন্বয় করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ওই মাসের তথ্য সিআইবি ডাটাবেইজে প্রেরণ করা হলে তা হালনাগাদ করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মাসের তথ্য সাধারনত পরবর্তী মাসের ২০ তারিখে সিআইবি ডাটাবেইজে প্রেরণ করা হয়ে থাকে।
 তবে দুই মাসের মধ্যবর্তী সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আবেদন করা সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ নিয়মিতকরণ/পুনঃতফসিলিকরণ/সমন্বয় সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হয়ে থাকে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply