কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) উদ্যোগ খাতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম চালুকরণ

0

নভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিতকরণের লক্ষ্যে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS)) শিল্প উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখা এবং শিল্প কারখানায় নিয়োজিত জনবলকে কর্মে বহাল রাখার প্রয়োজনে ব্যাংকিং ব্যবস্থা হতে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পের কাঙ্খিত বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম চালু করার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে।

আজ রোববার ২১ জুলাই, ২০২০ বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট থেকে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) উদ্যোগ খাতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম চালুকরণ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উক্ত সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের ধারাবাহিক চলমান উন্নয়নকে সুষম ও টেকসইকরণের লক্ষ্যে প্রান্তিক ও সাধারণ জনগণকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা অতি জরুরী। এই উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রান্তিক বা সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার অন্যতম মাধ্যম হলো কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড (CMSME)। এ সকল কর্মকান্ড কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ দেশের শিল্পায়নে গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষম ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই CMSME খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাও প্রদান করে আসছে। তাছাড়া COVID-19 এর প্রাদুর্ভাবের ফলে দেশের অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (Banking News Bangladesh. A Platform for Bankers Community.) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

সম্ভাবনাময় CMS খাতে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়টি একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এ খাতে প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক গ্রাহকের ঋণ/বিনিয়োগ পরিশোধের সামর্থ থাকলেও কেবলমাত্র সহায়ক জামানতের অভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদেরকে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানে আগ্রহী হয় না। COVID-19 এর প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের অর্থনীতিতে CMS খাতে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব থেকে উত্তরণ এবং আলোচ্য খাতে ঋণ/বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে CMS উদ্যোগ খাতে জামানতবিহীন ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্টের আওতায় ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম ইউনিট’ এর মাধ্যমে এ সুবিধা প্রদান করা হবে।

এ লক্ষ্যে ‘কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) উদ্যোগ খাতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম’ শীর্ষক একটি স্কীম চালু করা হলো। স্কীমে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্রেডিট গ্যারন্টি সুবিধা প্রাপ্য হবে। এপ্রিল ১৩, ২০২০ তারিখের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০১ এর মাধ্যমে CMSME খাতে ঘোষিত ২০,০০০ (বিশ হাজার) কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় কেবলমাত্র CMS খাতে চলতি মূলধন (Working Capital) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে এ ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা প্রদান করা হবে। আগ্রহী তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আলোচ্য ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধার জন্য নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে সিজিএস ইউনিট এর সাথে অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। সম্পাদিত চুক্তির আওতায় নির্ধারিত ঈগঝ পোর্টফোলিও এর বিপরীতে সিজিএস ইউনিট হতে পোর্টফোলিও গ্যারান্টি প্রদান করা হবে। ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীমটির নীতিমালা নিম্নরূপঃ

১. স্কীমের আওতা এবং উদ্যোক্তা ও ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন প্রক্রিয়াঃ
১.১. আলোচ্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম এর জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রয়োজনীয় তহবিলের সংস্থান করা হবে। তহবিল পর্যাপ্ততার উপর ভিত্তি করে স্কীমে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) খাতে চলতি মূলধন (Working Capital) ঋণ/বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত পোর্টফোলিও সীমার সর্বোচ্চ ত্রিশ (৩০) শতাংশ পর্যন্ত পোর্টফোলিও গ্যারান্টি ক্যাপ প্রদান করা হবে। উক্ত পোর্টফোলিও গ্যারান্টি ক্যাপের আওতায় কোন একক উদোক্তা বা ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আশি (৮০) শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টি কভারেজ প্রদান করা হবে।
১.২. এপ্রিল ১৩, ২০২০ তারিখে এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০১ এর মাধ্যমে CMSME খাতের বিশেষ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা সম্পর্কিত জারিকৃত নীতিমালার আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য নির্ধারিত CMSME খাতের পোর্টফোলিও এর মধ্যে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) খাতে জামানতবিহীন চলতি মূলধন (Working Capital) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে আলোচ্য ক্রেডিট গ্যারান্টির সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
১.৩. পোর্টফোলিও সীমার আওতায় গ্যারান্টি সুবিধার খাতওয়ারী বিভাজন হবে নিম্নরূপঃ
ক) কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) উদ্যোগের আওতায় ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৭০ (সত্তর) শতাংশ; এবং
খ) কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (CMS) উদ্যোগের আওতায় ব্যবসা (Trading) খাতে সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) শতাংশ।
১.৪. আলোচ্য গ্যারান্টি সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিজিএস ইউনিট কর্তৃক প্রণীত Credit Guarantee Scheme Manual-2020 এর নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ডি পার্টমেন্টের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (CMSME) অর্থায়ন সংক্রান্ত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখের মাস্টার সার্কুলার নং-০২ এ বর্ণিত কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে অর্থায়ন বিষয়ে উচ্চ অগ্রাধিকার ও অগ্রাধিকার খাতসমূহে সহায়ক জামানতবিহীন ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে আলোচ্য গ্যারান্টি সুবিধা প্রাধান্য পাবে।
১.৫. ন্যূনতম তিন বছর SME খাতে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের অভিজ্ঞতা আছে এবং যে বছর আলোচ্য গ্যারান্টি স্কীমের আওতায় গ্যারান্টি সুবিধার জন্য আবেদন করা হবে তার অব্যবহিত পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক শ্রেণীকৃত ঋণ ১০ (দশ) শতাংশ বা তার কম- এ ধরনের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আলোচ্য স্কীমের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে। তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ কর্তৃক ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে গ্যারান্টি সুবিধা প্রাপ্তির জন্য এ বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
১.৬. CMS ঋণ/বিনিয়োগের জন্য বিদ্যমান সীমা যাই থাকুক না কেন আলোচ্য স্কীমের আওতায় গ্যারান্টির জন্য ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধার পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন ২ (দুই) লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা।
১.৭. চলতি ঋণ/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্কীমের আওতায় প্রদেয় গ্যারান্টির মেয়াদ হবে প্রাথমিকভাবে এক বছর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ/বিনিয়োগ সম্পূর্ণ আদায় হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগের গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তবে কোন ঋণ/বিনিয়োগের সুবিধা নবায়ন/পুনঃতফসিল করা হলে উক্ত নবায়ন/পুনঃতফসিলের সময়কাল গ্যারান্টির মেয়াদ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ঋণ/বিনিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং নবায়ন/পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সিজিএস ইউনিট হতে গ্যারান্টির মেয়াদ যথাক্রমে বৃদ্ধি করে নিতে হবে।

২. গ্যারান্টির আবেদন প্রক্রিয়া ও গ্যারান্টি সার্টিফিকেট ইস্যুর পদ্ধতিঃ
২.১. আগ্রহী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ নীতিমালার ১.২ ও ১.৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশনার আলোকে CMS খাতে জামানতবিহীন চলতি মূলধন (Working Capital) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধার জন্য সিজিএস ইউনিটের সাথে আলোচনাক্রমে সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের অব্যবহিত পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক জামানতবিহীন CMS ঋণ/বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ঘোষণা করতে হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সিজিএস ইউনিটের সাথে ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য ‘অংশগ্রহণ চুক্তি’ সম্পাদন করতে হবে।
২.২. এ নীতিমালার ১.৫ অনুচ্ছেদ পরিপালন সাপেক্ষে প্রতি বছরের জন্য পৃথক পোর্টফোলিও সীমা নির্ধারিত হবে।
২.৩.ঘোষিত পোর্টফোলিও এর আওতায় গ্রাহকের ঋণ/বিনিয়োগ আবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যাচাই-বাছাইপূর্বক যোগ্য আবেদনসমূহের তালিকা গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত ছকে সিজিএস ইউনিটে দাখিল করতে হবে।
২.৪.গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশনের আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত ঋণ নীতিমালার আওতায় গ্রাহকের ঋণ/বিনিয়োগ আবেদনসমূহ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে মর্মে প্রত্যায়নপত্র দাখিল করতে হবে।
২.৫. প্রতি মাসের প্রথম ১০ কার্যদিবসের মধ্যে গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে।
২.৬. আবেদন প্রাপ্তির পর সিজিএস ইউনিট হতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুততার সাথে গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হবে। গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশনের সময় পোর্টফোলিও সীমা যাতে অতিক্রম না করে তা সিজিএস ইউনিট কর্তৃক নিশ্চিত করা হবে।
২.৭. সিজিএস ইউনিট হতে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করে উদ্যোক্তার অনুকূলে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা মঞ্জুরীপূর্বক বিতরণ করবে।

৩. গ্যারান্টি ফিঃ
৩.১. সিজিএস ইউনিট ও ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক অংশগ্রহণ চুক্তির আওতায় প্রত্যেক ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাৎসরিক ভিত্তিতে গ্যারান্টি ফি পরিশোধ করতে হবে যা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা/ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার নিকট হতে আদায় করা যাবে। এ গ্যারান্টি ফি ব্যতীত অন্য কোন ফি/চার্জ এর বিষয়ে এপ্রিল ১৩, ২০২০ তারিখে জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০১ এর ৫(গ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
৩.২. স্কীমে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে চলতি বছরের অবশিষ্ট সময়কাল এবং পরবর্তী প্রতি বছরের জন্য ঘোষিত পোর্টফোলিও সীমার আওতায় গ্যারান্টি রেজ্রিস্ট্রেশনের সময় আবেদনকৃত ঋণের উপর ১% হারে ০১ (এক) বছরের জন্য গ্যারান্টি ফি পরিশোধ করতে হবে। গ্যারান্টি চলমান থাকা সাপেক্ষে ০১ (এক) বছর অতিবাহিত হওয়ার পর পরবর্তী সময় হতে অব্যবহিত পূর্ববর্তী দিনের গ্যারান্টিলব্ধ ঋণ স্থিতির উপর বার্ষিক ভিত্তিতে গ্যারান্টি ফি পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে যে সকল ব্যাংকের অব্যবহিত পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক শ্রেণীকৃত ঋণ/বিনিয়োগের হার ৫ শতাংশ বা এর কম তাদের জন্য বার্ষিক ০.৫০% হারে এবং যে সকল ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ/বিনিয়োগের হার ৫ শতাংশের বেশী তাদের জন্য বার্ষিক ০.৭৫% হারে গ্যারান্টি ফি প্রদান করতে হবে।
৩.৩. প্রতি বছর গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে এবং পরবর্তী বছরসমূহে চলমান গ্যারান্টির ক্ষেত্রে বছর সমাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে গ্যারান্টি ফি আগাম পরিশোধ করতে হবে।

৪. ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার হারঃ
৪.১.গ্যারান্টিলব্ধ ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ/মুনাফার হারের বিষয়ে এপ্রিল ১৩, ২০২০ তারিখে জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০১ এর ৫(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৯% সুদের হার অনুসরণীয় হবে। তবে এ সার্কুলারে বর্ণিত গ্যারান্টি ফি এর বিষয়ে উক্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
৪.২.বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টি প্রদত্ত হলে পুনঃঅর্থায়নকৃত ঋণ/বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সুদ/মুনাফা হার প্রযোজ্য হবে।

৫. গ্যারান্টি সুবিধালব্ধ উদ্যোগের জন্য ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়-দায়িত্বঃ
৫.১.গ্যারান্টি সুবিধালব্ধ উদ্যোক্তাদের সংগে সিজিএস ইউনিটের সরাসরি কোন যোগাযোগ থাকবে না; তবে গ্যারান্টির যথার্থতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করে সিজিএস ইউনিট যে কোন সময় উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিদর্শন করতে পারবে।
৫.২. অর্থায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ ডিউ-ডিলিজেন্স সম্পন্ন করে ঋণ/বিনিয়োগ বিতরণ করবে এবং ঋণ/বিনিয়োগ বিতরণের পর স্বীয় উদ্যোগে তদারকী ও পরিবীক্ষণ করবে। ঋণ/বিনিয়োগের সদ্ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাগণকে যথাযথ সেবা/সহায়তা প্রদান করবে।
৫.৩. গ্যারান্টি সুবিধার জন্য আবেদন প্রাপ্তির পর যে কোন সময়ে সিজিএস ইউনিটের চাহিদানুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য/দলিলাদি সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে এবং পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করবে।

৬. গ্যারান্টির দাবি এবং নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াঃ
৬.১. এ স্কীমের আওতায় গ্যারান্টিলব্ধ কোন ঋণ/বিনিয়োগ বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী মন্দমানে শ্রেণীকৃত হওয়ার পর পরবর্তীতে ক্রমিক নং-৬.৫ অনুযায়ী পুনঃতফসিল করার (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পরও ঋণ/বিনিয়োগের অর্থ আদায় না হয়ে পুনরায় মন্দমানে শ্রেণীকৃত হলে গ্যারান্টির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ দাবির আবেদন করা যাবে। তবে, গ্যারান্টি দাবির আবেদন করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ/বিনিয়োগ আদায়ের সকল প্রচেষ্টা গ্রহণসহ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের এবং অন্যান্য আইনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ/বিনিয়োগ আদায়ের লক্ষ্যে আইনী প্রক্রিয়াসহ ঋণ/বিনিয়োগ শ্রেণীকরণ, পুনঃতফসিল এবং প্রযোজ্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও যদি ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব মন্দমানে শ্রেণীকৃত হয় কেবল তখনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্যারান্টির বিপরীতে দাবি উত্থাপন করতে পারবে।
৬.২. গ্যারান্টির বিপরীতে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ মন্দমানে শ্রেণীকৃত হলে সেক্ষেত্রে দাবির পরিমাণ মন্দমানে শ্রেণীকৃত ঋণ/বিনিয়োগের আসলের গ্যারান্টিকৃত অংশ (Guaranteed Proportion of Principal Amount) অথবা পোর্টফোলিও গ্যারান্টির অদাবিকৃত অংশ (যেটি কম) এর বেশী হতে পারবে না। অনাদায়ী সুদ/মুনাফার জন্য কোনভাবেই গ্যারান্টি দাবি করা যাবে না।
৬.৩. গ্যারান্টির দাবি নিষ্পত্তির পরেও ঋণ/বিনিয়োগ আদায়ের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আইনী পদক্ষেপসহ সকল ধরনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। গ্যারান্টির দাবি নিষ্পত্তির পর ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে উদ্যোক্তা হতে কোন অর্থ আদায় হলে তা গ্যারান্টি কভারেজের আনুপাতিক হারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে ফেরত প্রদান করতে হবে।
৬.৪. কোন ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্যারান্টির আওতায় ঝুঁকি নির্ণয়ে সহায়ক এমন কোন তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে অথবা ভুল কোন তথ্য প্রদান করলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যমান আইন/বিধি/নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৬.৫. কোন কারণে গ্যারান্টিলব্ধ ঋণ/বিনিয়োগের পুনঃতফসিলের প্রয়োজন হলে এতদ্সংক্রান্ত বিদ্যমান/সংশোধিত নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা যাবে এবং তা সিজিএস ইউনিটকে অবহিত করতে হবে। গ্যারান্টিলব্ধ ঋণ/বিনিয়োগ বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী তিন বারের বেশী পুনঃতফসিল করা যাবে না।
৬.৬. এপ্রিল ১৩, ২০২০ তারিখে জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০১ এর ৮(ঘ) অনুচ্ছেদে ঋণ/বিনিয়োগ অনাদায়ে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণীকরণপূর্বক যথাযথভাবে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে মর্মে নির্দেশনা থাকলেও এ স্কীমের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ শ্রেণীকৃত হলে সেক্ষেত্রে পোর্টফোলিও সীমার ৩০ (ত্রিশ) শতাংশ পর্যন্ত ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে স্পেসিফিক প্রভিশন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা গ্যারান্টির মেয়াদকালের জন্য অব্যাহতি প্রাপ্ত হবে।

৭ বিবিধঃ
৭.১. ঋণ বিতরণ ও আদায় সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় সময় জারীকৃত নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
৭.২. এ নীতিমালায় উল্লেখ নেই এরূপ যে কোন বিষয়ে অথবা নীতিমালায় বর্ণিত কোন বিষয়ে অধিকতর স্পষ্টীকরণের আবশ্যকতা দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
৭.৩. এ নীতিমালার যে কোন ধরণের পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করে।
৭.৪. ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা না হলে বা কোন শর্ত লংঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে প্রদত্ত গ্যারান্টি বাতিল করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করে।

এছাড়া উক্ত সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো। এই নির্দেশনা অবিলম্বে ব্যাংকগুলোকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply