সাধারণ ছুটি, লকডাউন ও কারফিউ বনাম করোনা সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব

0

সাধারণ ছুটি, লকডাউন ও কারফিউ বনাম করোনা ভাইরাস সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব। “করোনা ভাইরাস ও ব্যাংকিং আওয়ার” শিরোনামে আমার ফেসবুকে একটি পোস্ট ছিলো। যা সময়ের বিচারে অনেকে প্রো-এ্যাকটিভ মনে করেছিলেন। কিন্তুু আমার বিবেচনায় সেটাই ছিলো ‘সাপ্তাহিক বন্ধ ও ব্যাংকিং আওয়ার’ মডিফাই করার উপযুক্ত সময়। আমার দেয়া সেই পোস্টটি আপনাদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরছি-

[করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত আপদকালীন সময়ের জন্য ব্যাংকিং আওয়ার সীমিত করণ ও সাপ্তাহিক বন্ধ চারদিন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। কারণ টাকার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভবনা অনেক বেশি। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলার প্রধান শাখাগুলো করোনা ভাইরাসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অতএব মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নিন। লেনদেনের সুবিধার জন্য যতটা না হলেই না, ততটুকু সময় ব্যাংক খোলা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।]

নবেল করোনা ভাইরাস আক্রমণের ঘটনাও এর বিপরীত নয়। ইতঃমধ্যে অনেক ব্যাংকারের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যু সংবাদ মিডিয়ার প্রকাশিত হয়েছে।

নবেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী-বেসরকারী বেশকিছু ভাল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যেমন: সাধারণ ছুটি, লকডাউন, করোনা ভাইরাস সচেতনতা তৈরী ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ইত্যাদি কিন্তু ব্যাংকের মত জনমুখি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে না পারায় সকল পজিটিভ কাজকে নেগেটিভ করে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর আশংকা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিক্ষিপ্তভাবে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। কখনও কখনও সে সকল কার্যাবলী হচ্ছে আলোচিত ও প্রশংসনীয় আবার কখনও কখনও হচ্ছে সমালোচিত ও নিন্দনীয়। শুধু তাই নয়, ব্র‍্যাকের মত এনজিও খোলা রাখা হয়েছে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করার জন্য।

বাংলাদেশে বিভিন্ন মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী বতর্মানে ভাইরাস সংক্রামনের উর্বর স্থান হলো ব্যাংক। দেখুন ইতালিতে ব্যাংক সপ্তাহে ৩ দিন খোলা রাখা হচ্ছে সেটাও শুধু সকালের শুরুতে। ইতালি যে আমাদের থেকে বেশ সক্ষম ও উন্নত এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। এরপরও তাদের করোনা ভাইরাস বিপর্যয় পৃথিবীর জন্য দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে।

আমাদের দেশের মানুষের বেতন, ভাতা, পেনসন ইত্যাদি উত্তোলনের জন্য মাসের প্রথম সপ্তাহ ব্যাংকিং সার্ভিস বেশী গুরুত্বপূর্ণ। সে হিসেবেও এখন মানুষ জনের টাকা তোলার প্রয়োজন শেষ হবার কথা। তাই আর বিলম্ব না করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত বলতে জরুরী ব্যাংকিং সেবা যেমন- নগদ টাকার লেনদেনকে সীমিত করা এক্ষুণি দরকার।

এছাড়া বিভিন্ন সেলারি একাউন্টে ফান্ড ট্যান্সফার ইত্যাদি করে সকল এটিএম বুথে পর্যাপ্ত অর্থ নিশ্চিত করে সেই সাথে ডেবিট কার্ড দ্বারা অন্য বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সুবিধা চালু করে এটা নিশ্চিত করা যায়।

ব্যাংকাররা গ্রাহকদের বা কলিগদের মাধ্যমে এমন কি যাওয়া আসার পথে অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে অথবা গ্রাহকেরা ব্যাংকারের মাধ্যমে বা নগদ টাকার মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত হতে পারেন। আবার করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির নামে অসচেতন ব্যক্তির মাধ্যমে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। এমন অবস্থায় “Stay Home, Stay Safe” এ স্লোগান নিতান্তই নিষ্ঠুরতা বৈ অন্য কোন অর্থ বহণ করবে না।

আমাদের দেশের সকল ব্যাংকের শেষ আশ্রয়স্থল হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক করোনার ঝুঁকিতে দায়িত্ব পালন করা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও স্বাস্থ্য বীমা প্যাকেজ ঘোষনা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে এজন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জাতীয় স্বার্থে জরুরী প্রয়োজন বলেই ব্যাংকারদের সেবায় থাকা উচিত। তবে দ্রুতগতিতে সকল ব্যাংকের ভোল্টের টাকা জীবানুমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি ব্যাপক আকারে নতুন নোট বাজারে ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করলে ভালো হবে।

এক্ষেত্রে আমি মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ও ওয়েল প্রোটেকটেড এবং প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা সচেতনতা তৈরি করে নবেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একইসাথে প্রত্যেক শাখার ক্যাশ অফিসারদের জন্য ন্যূনতম সংখ্যায় হলেও মানসম্মত পিপিই প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি করছি।

লেখকঃ বি এম আনোয়ার হোসেন, ব্যাংকার

Leave a Reply