ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা

0
9204

ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মে ১৬, ২০১৯ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক সমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এই সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে। মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন খেলাপিরা। সে ক্ষেত্রে এসব ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ। এই ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ ১০ বছর সময় পাবে তারা। নিম্নে সম্পূর্ণ সার্কুলারটি তুলে ধরা হলো-

প্রিয় মহোদয়,

ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা।

বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ব্যবসায়ী/শিল্প উদ্যোক্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাংকের ঋণ অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিতভাবে পরিশােধিত হচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্ট ঋণ বিরূপভাবে শ্রেণিকৃত হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে, উৎপাদনশীল খাতসহ অন্যান্য খাতে স্বাভাবিক ঋণ প্রবাহ বজায় রাখাসহ ব্যাংকিং খাতের বিরূপভাবে শ্রেণিকৃত ঋণ নিয়মিতভাবে আদায়ের লক্ষ্যে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

১। খাত/উপখাত: নিম্নোক্ত খাত/উপখাতের যে সকল ঋণ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত রয়েছে সে সকল ঋণগ্রহিতার অনুকূলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিল/এক্সিট সুবিধা প্রদান করা যাবে:
ক) ট্রেডিং খাত (গম, খাদ্য দ্রব্য, ভােজ্যতেল ও রিফাইনারী), জাহাজ শিল্প (শিপ-ব্রেকিং ও শিপ-বিল্ডিং) এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্প যেখানে ব্যাংকের বিপুল অংকের বিনিয়ােগ রয়েছে;
খ) বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রপ্তানিতে সম্পৃক্ত শিল্প ঋণ; এবং
গ) অন্যান্য খাতে ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ নিরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত প্রকৃত ব্যবসায়ী যাদের ঋণ নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হয়েছে।

২। ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত শর্তাবলী: অনুচ্ছেদ-১ এ বর্ণিত ঋণগ্রহিতাদের মলক্ষিতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ নিম্নবর্ণিত শর্তাদি পরিপালন সাপেক্ষে পুনঃতফসিল করা যাবে:
(ক) পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণগ্রহিতার আবেদন প্রাপ্তির পর ব্যাংক কর্তৃক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ ভিত্তিক হিসাবকৃত স্থিতি মােতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে;
(খ) ঋণ স্থিতির ন্যূনতম ২% হারে ডাউন পেমেন্ট নগদে গ্রহণ করতে হবে। ইতােপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত কিস্তির অর্থ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না;
(গ) এ সার্কুলার জারীর তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে ঋণগ্রহিতা কর্তৃক আবেদন করতে হবে। এ সময় অতিক্রান্ত হলে কোন আবেদন গ্রহণযােগ্য হবে না;
(ঘ) কেইস টু কেইস বিবেচনায় ঋণ পরিশোধের সময়কাল সর্বোচ্চ ১ (এক) বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ (দশ) বছর হবে;
(ঙ) ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারােপিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ এবং Interest, Suspense A/C-এ রক্ষিত সুদ মওকুফ করা যাবে। তবে, মওকুফকৃত সুদ পৃথক ব্লকড হিসাবে (সুদবিহীন) স্থানান্তর করতে হবে। পুনঃতফসিলের শর্তানুযায়ী সম্পূর্ণ ঋণ পরিশােধের পর ব্লকড হিসাবে রক্ষিত সুদ চূড়ান্ত মওকুফ হিসেবে বিবেচিত হবে;
(চ) ঋণ স্থিতির (মওকুফ অবশিষ্ট) উপর কস্ট অব ফান্ড + ৩% হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। তবে সুদের হার ৯% এর মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ হতে উক্ত হারে সুদ আরােপ কার্যকর হবে;
(ছ) ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক কিস্তি নির্ধারণ করতে হবে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী আনুপাতিক হারে আসল এবং সুদ বিবেচনায় নিয়ে কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত হবে;
(জ) ঋণ পরিশােধের জন্য ৯টি মাসিক কিস্তির মধ্যে ৬টি মাসিক কিস্তি অথবা ৩টি ত্রৈমাসিক কিস্তির মধ্যে ২টি ত্রৈমাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে এ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঋণহিসাবকে মন্দ/ক্ষতিজ্জনক মনে শ্রেণিকরণ করতে হবে;
(ঝ) ব্যাংক কর্তৃক পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদানের তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে ব্যাংক ও গ্রাহক সােলেনামার মাধ্যমে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য যথাযথ আইনানুগ গতি অনুসরণপূর্বক প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে কোন গ্রাহক প্রদত্ত সুবিধার কোন শর্ত ভঙ্গ করলে তার অনুকূলে প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গ্রাহকের বিরুদ্ধে স্থগিত মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে; এবং
(ঞ) পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংক কতুক নতুন করে ঋণ প্রদান করা যাবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে তাদের প্রচলিত ঋণ নীতিমালা অনুসরণ করবে। নতুনভাবে প্রদত্ত ঋণ যথানিয়মে পরিশােধে ব্যর্থ হলে এ সার্কুলারের আওতায় প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে।

৩। এককালীন এক্সিট (One Time Exit) সংক্রান্ত শর্তাবলী: অনুচ্ছেদ ১ এ বর্ণিত ঋণগ্রহিতাদের অনুকূলে নিম্নবর্ণিত শর্তাদি পরিপালন সাপেক্ষে এককালীন এক্সিট (One Time Exit) সুবিধা প্রদান করা যাবে:
(ক) এককালীন এক্সিট সুবিধা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণগ্রহিতার আবেদন প্রাপ্তির পর ব্যাংক কর্তৃক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ ভিত্তিক হিসাবকৃত স্থিতি মােতাবেক কার্যত্রুম গ্রহণ করতে হবে;
(খ) ঋণ স্থিতির ন্যূনতম ২% হারে ডাউন পেমেন্ট নগদে গ্রহণ করতে হবে। ইতােপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত কিস্তির অর্থ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না;
(গ) এ সার্কুলার জারির তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এ সময় অতিক্রান্ত হলে আবেদন গ্রহণযােগ্য হবে না;
(ঘ) ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারােপিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ এবং Interest Suspense A/C -এ রক্ষিত সুদ মওকুফ করা যাবে। তবে, মওকুফকৃত সুদ পৃথক ব্লকড হিসাবে (সুদবিহীন) স্থানান্তর করতে হবে। পুনঃতফসিলের শর্তানুযায়ী সম্পূর্ণ ঋণ পরিশােধের পর ব্লকড হিসাবে রক্ষিত সুদ চুড়ান্ত মওকুফ হিসেবে বিবেচিত হবে;
(ঙ) ঋণ স্থিতির (মওকুফ অবশিষ্ট) উপর কস্ট অব ফান্ড হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। ১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখ হতে উক্ত হারে সুদ আরােপ কার্যকর হবে। ব্যাংক কর্তৃক এককালীন এক্সিট সুবিধা প্রদানের তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিনের মধ্যে ঋণগ্রহিতা কর্তৃক পরিশোধযোগ্য ঋণ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমুদয় পাওনা পরিশােধে ব্যর্থ হলে এ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবকে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে; এবং
(চ) ব্যাংক কর্তৃক এ সুবিধা প্রদানের তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে বাংক ও গ্রাহক সোলেনামার মাধ্যমে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে কোন গ্রাহক প্রদত্ত সুবিধার কোন শর্ত ভঙ্গ করলে তার অনুকুলে প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গ্রাহকের বিরুব্ধে স্থগিত মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

৪। রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য প্রযােজ্য Cost of fund recovery নিশ্চিতকরণ বা ঘাটতি বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১২-২-২০০৮ তারিখের পত্র নং-অম/ অবি/ব্যাংকিং শাখা-১/বিবিধ-১০/২০০১(অংশ-১)/৬৭ এবং ২৯-০৬-২০০৬ তারিখের পত্র নং-অম/ অবি/ব্যাংকিং/শাখা-১/বিবিধ-১০/২০০১-২০৭ এর নির্দেশনা বলবৎ থাকলেও আলােচ্য সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল/এককালীন এক্সিট সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে এ সার্কুলারের নির্দেশনা কার্যকর হবে।

৫। এ সার্কুলারের আওতায় ঋণগ্রহিতার আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হতে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষার প্রয়ােজন হবে সেসব ক্ষেত্রে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রাপ্তির তারিখ হতে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

৬৷ অন্যান্য নির্দেশনা: এ সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিলকৃত/এককালীন এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণসমূহের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাও পরিপালন করতে হবে:
(ক) সংশ্লিষ্ট ঋণসমূহ এসএমএ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে এবং উক্ত ঋণসমূহের বিপরীতে ১% হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে;
(খ) পুনঃতফসিলকৃত ঋণসমূহ সিআইবি’তে Special RSDL under BRPD Circular No.-05/2019 এবং এককালীন এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণসমূহ Special Exit under BRPD Circular No.-05/2019 হিসেবে রিপাের্ট করতে হবে;
(গ) সংশ্লিষ্ট ঋণসমূহ CL-4 এ রিপাের্ট করতে হবে এবং CL-4 এর ৫নং কলাম এ তারিখের পাশাপাশি পুনঃতফসিলকৃত ঋণসমূহ Special RSDL এবং এককালীন এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণসমূহ Special Exit হিসেবে উল্লেখ করতে হবে;
(ঘ) এ সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট ঋণসমূহের বিপরীতে আরােপিত সুদ প্রকৃত আদায় ব্যতিরেকে আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আপনাদের বিশ্বস্ত,

(এ, কে, এম, আমজাদ হােসেন)
মহাব্যবস্থাপক
ফোন: ৯৫৩০২৫২

  • সার্কুলারটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

সূত্রঃ ব্যাংকিং রেগুলেশন এন্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক
বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৫, তারিখঃ ১৬ মে, ২০১৯

Leave a Reply