একক ব্যাংকিং এর বৈশিষ্ট্য সমূহ

0
579

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ কোন শহর, বন্দর, নগর বা শিল্পাঞ্চলে, যখন কোন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান একটি মাত্র অফিস দ্বারা ব্যাংক পরিচালনা করে কোন নির্দিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করে থাকে তাকে একক ব্যাংকিং বলে। আমাদের দেশে এরূপ ব্যাংকের প্রচলন না থাকলেও আমেরিকায় এরূপ ব্যাংক অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এরূপ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত তা নিম্নে আলোকপাত করা হলো-

১) Easy formation (সহজ গঠন)
একক ব্যাংক এর গঠন প্রণালী শাখা ব্যাংক অপেক্ষা অনেক সহজ। এরূপ ব্যাংকের কোন শাখা থাকে না। ফলে শাখা ব্যাংক গঠনের আনুষ্ঠানিকতা এ ধরনের ব্যাংক গঠনের সময় পালন করতে হয় না।

২) Working area (কার্যক্ষেত্র)
এরূপ ব্যাংকের কোন শাখা থাকে না বলে এই ব্যাংকের কার্যক্ষেত্র কিছুটা সীমাবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে প্রতিনিধি প্রথা এবং যোগাযোগ ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এরূপ ব্যাংক তার কার্যক্ষেত্র দেশব্যাপী বিস্তৃত করতে পারে৷

৩) Ownership (মালিকানা)
একক ব্যাংকের মালিকানা যে কোন রকম হয়ে থাকে। যেমন- একমালিকানা, অংশীদারি ও কোম্পানি হতে পারে। তবে বেশিরভাগ একক মালিকানাতেই এই ব্যাংক গড়ে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে অংশীদারি ও কোম্পানিও হতে পারে৷

৪) Capital (মূলধন)
একক ব্যাংকের মালিক সাধারণত একজন হয়ে থাকে। ফলে এরূপ ব্যবসায় বিনিয়োজিত মূলধন কম। তাছাড়া ক্ষুদ্র প্রজাতির এ ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কার্যক্ষেত্র সীমাবদ্ধ রাখে বলে এর প্রয়োজনীয় মূলধনের পরিমাণও কম৷

৫) Efficient management (দক্ষ ব্যবস্থাপনা)
এরূপ ব্যাংক একটিমাত্র অফিসের কার্যাবলী কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে এর ব্যবস্থাপনা সহজ ও দক্ষ হয়। তাছাড়া মালিকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের ফলে এরূপ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার উপর প্রভাব পড়ে৷

৬) Management and control (পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ)
এরূপ ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত ও একটি এলাকায় কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে এ ব্যাংকের পক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কারবারের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়৷

৭) Legal entity (আইনগত সত্তা)
দেশের সরকারের অনুমোদন ও ব্যাংকিং আইনের আওতায় গঠিত হবার কারণে এর আইনগত সত্তা শক্তিশালী হয়। তাছাড়া অংশীদারি ও কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন করা হলে এরূপ ব্যাংকের আইনগত সত্তা আরো মজবুত হয়৷

৮) Direct relationship (প্রত্যক্ষ সম্পর্ক)
একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এরূপ ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় গ্রাহক ও কর্মীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে কর্মীরা গ্রাহকদের চাহিদা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে সেরকমের সেবা প্রদান করতে সচেষ্ট হয়৷

৯) Public confidence (জনগণের আস্থা)
স্থায়ীভাবে আইনগত সত্তা নিয়ে এ ধরনের ব্যাংক গঠিত ও স্থানীয় চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে বলে এটি সহজেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়৷

১০) Independence of work (কাজের স্বাধীনতা)
অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে এ ব্যাংকের মালিকগণ নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন ব্যাংকিং কার্য পরিচালনা করতে পারে। তাছাড়া প্রধান অফিসের কোনো বিধি-নিষেধ নেই বলে এরুপ স্বাধীনতা আরো বেড়ে গেছে৷

১১) Branch (শাখা)
একক ব্যাংকের কোন শাখা নেই। একটি অফিসের মাধ্যমেই এরূপ ব্যাংক কোন নির্দিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠীকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করে থাকে৷

পরিশেষে বলা যায় যে, একটি মাত্র অফিস ও সীমিত এলাকার কার্য সম্পাদন করার প্রেক্ষিতে একক ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে অধিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও দক্ষ হয়। আর এ কারণেই বর্তমান কালেও আমেরিকার বৃহদায়তন ব্যাংক ব্যবসার জগতেও একক ব্যাংক জনপ্রিয়তা নিয়ে টিকে আছে।

Leave a Reply