শাখা ব্যাংকিং এর বৈশিষ্ট্য সমূহ

0
794

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও মুক্তির সাথে ব্যাংক ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমনকি ব্যাংক ব্যবস্থা ছাড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি কল্পনা করা যায় না। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা দ্রুত প্রসার লাভ করেছে তার কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে। আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। শাখা ব্যাংক ব্যবস্থা আমাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মাধ্যমে তার গতিপথকে প্রশস্ত করেছে। যে সমস্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে শাখা ব্যাংকিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে তা নিম্নে আলোকপাত করা হলো-

১) Branch office (শাখা কার্যালয়)
শাখা ব্যাংকের নাম থেকেই বুঝা যায় যে, এ সকল ব্যাংকের একাধিক শাখা রয়েছে। একটি প্রধান বা প্রিন্সিপাল শাখার অধীনে দেশের অন্যান্য এলাকায় এমনকি বিদেশেও শাখা অফিস থাকতে পারে৷

২) Organizational structure (সাংগঠনিক কাঠামো)
শাখা ব্যাংক একটি যৌথ মূলধনী কারবারি প্রধিষ্ঠানরূপে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ করে থাকে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে অংশীদারি কারবার, সরকারি, বেসরকারি, সমবায় কোম্পানি সংগঠন হিসেবেও কাজ করতে পারে৷

৩) Legal entity (পৃথক আইনগত মর্যাদা)
শাখা ব্যাংক অধিকাংশ ক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কারবার প্রতিষ্ঠানরূপে কাজ করে থাকে। ফলে কোম্পানি আইন ও ব্যাংকিং আইন দ্বারা গঠিত এরূপ ব্যাংক কৃত্রিম ব্যক্তি সত্তা ও আইনগত মর্যাদা লাভ করে৷

৪) Ownership (মালিকানা)
একটি শাখা ব্যাংকের মালিকানা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হয় তবে মালিকানা অংশীদারদের উপর ন্যস্ত থাকে। আর যদি কোম্পানি হয় তবে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যস্ত থাকে। সরকারি ব্যাংক এর মালিক হয় সরকার৷

৫) Management and control (পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা)
শাখা ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রধান শাখার জন্য একটি বোর্ড অফ ডিরেক্টর গঠন করা হয়। এই বোর্ডের মাধ্যমে অন্যান্য শাখা ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ সকল ব্যাংকের জন্য প্রধান শাখা থেকে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। যার দ্বারা শাখা ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়৷

৬) Entity of branch (শাখার সত্তা)
শাখা ব্যাংকিং এর আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোনো পৃথক সত্তা থাকে না। প্রধান শাখার নির্দেশে শাখা ব্যাংক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে৷

৭) Working area (কার্যক্ষেত্র)
দেশের অভ্যন্তরে যে কোন স্থানে এ ধরনের ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা হয়। এমনকি বিদেশেও শাখা স্থাপন করা হয়। ফলে এ সকল ব্যাংকের কার্যাবলী একক ব্যাংকের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে নয়। বরং অনেক ব্যাপক হয়ে থাকে৷

৮) One acquaintance (একই পরিচিতি)
শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিভিন্ন শাখা একই নামে পরিচিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ শাখা ব্যাংকের ক্ষেত্রে অনেকগুলো শাখা থাকলেও তা একই নামে পরিচিতি লাভ করে থাকে৷

৯) Adequate capital (পর্যাপ্ত মূলধন)
শাখা ব্যাংক একটি বৃহদায়তন কারবারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পর্যাপ্ত মূলধনের সুবিধা পেয়ে থাকে। কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি করে এ সকল ব্যাংক পর্যাপ্ত মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। আর মূলধনের পর্যাপ্ততা ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷

১০) Member of Central Bank (কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্য)
শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থার আরো একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্য এবং এদেরকে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশমত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়৷

পরিশেষে বলা যায় যে, উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো আমরা শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দেখতে পাই৷ এই বৈশিষ্ট্যগুলো অন্যান্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পৃথক করে রেখেছে৷

Leave a Reply