1. bankingnewsbd@gmail.com : ব্যাংকিং নিউজ : ব্যাংকিং নিউজ
  2. mosharafnbl@yahoo.com : মোশারফ হোসেন : মোশারফ হোসেন
  3. msakanda@yahoo.com : ইবনে নুর : ইবনে নুর
  4. shafiqueshams@gmail.com : Shamsuddin Akanda : Shamsuddin Akanda
  5. surjoopathik@ymail.com : শরিফুল ইসলাম : শরিফুল ইসলাম
  6. tasniapopy@gmail.com : তাসনিয়া তাবাসসুম : তাসনিয়া তাবাসসুম



কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষিত: টাকার বান্ডিলে স্ট্যাপলার পিন-লেখালেখি

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাংলাদেশের প্রচলিত মুদ্রা- টাকার নোটের বান্ডিলে স্ট্যাপলার পিন লাগানোর কারণে দ্রুত অনেক নোট নষ্ট হয়ে অপ্রচলনযোগ্য হয়ে পড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, তারা এই পিন ব্যবহার করছে না। ব্যাংকগুলোকেও এটা না করতে বলা হয়েছে। যদিও বেশ কিছু ব্যাংক তাদের পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা কার্যকর করতে না পারায় অনেক সময় টাকার বান্ডিলে পিন দেখা যায় বা পিনের কারণে টাকায় ছিদ্র দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের এক নির্দেশনায় অবশ্য দেখা যাচ্ছে, এক হাজার টাকার নোটে স্ট্যাপলার পিন লাগানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন নতুন নোট বা বাজারে রি-ইস্যু করা যায় এমন কোনো টাকার প্যাকেট বা বান্ডিলে পিন মারে না।

‘শুধুমাত্র যেসব নোট পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা ফেলে দিতে হবে সেগুলোতে পিন মারা হয়। এ ছাড়া আর কোনো নোটে এখন পিন মারা হয় না। ব্যাংকগুলোও এই চর্চা এখন আর করে না’ বলছিলেন সিরাজুল ইসলাম।

ব্যাংকাররা যা বলছেন
বাস্তবতা হলো বাজারে অনেক নোটেই ছিদ্র দেখা যায় এই পিনের কারণেই। এ জন্য বিশেষ কিছু কারণের কথা বলেছেন মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন এমন কয়েকজন ব্যাংকার। ‘এটি ঠিক যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক আগেই পিন মারা যাবে না বলে জানিয়েছে। কিন্তু গ্রাহকদের সাথে যখন কাজ করবেন তখন নানা কারণে অনেক কর্মকর্তা বান্ডিলে পিন থাকলেই বরং স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। আর এ সব কারণের একটি হলো নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা,’ বলছিলেন ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ফর অল এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

তবে তিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ধরুন আপনি ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা তুললেন। সব পাঁচশ টাকার নোট। নিয়ম হলো, আপনি কাউন্টারেই প্রতিটি নোট চেক করে দেখবেন ও বলবেন যে সব ঠিক আছে কি-না। জাল বা ছেঁড়াফাড়া থাকলে ব্যাংক চেঞ্জ করে দেবে। কিন্তু এই পরীক্ষার সময় ভিড়ের কারণে কর্মকর্তা সবসময় তাকিয়ে থাকতে পারেন না। এ সুযোগে মাঝে মধ্যে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পিন থাকলে বলা হয় যে পিন খোলার আগেই নোট চেক করে জানাতে। ফলে এটি একটি নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করছে।’

যদিও ব্যাংক এশিয়ার মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক বিপুল সরকার বলছেন, ২০১৯ সালেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সে অনুযায়ী এরপর থেকে নোটের বান্ডিলে পিন মারার চর্চা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ‘এখন এটি একদমই করা হয় না। বান্ডিলে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মতো কাগজের ব্যান্ড লাগিয়ে দেয়া হয়,‘ বলছিলেন তিনি।

টাকার বান্ডিলে স্ট্যাপলার পিন মারলে সমস্যা কোথায়?
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘বাজারে প্রচলিত বাংলাদেশী ব্যাংক/কারেন্সি নোটগুলোর ওপর সংখ্যা লিখন, সিল, স্বাক্ষর প্রদান ও বারবার স্ট্যাপলিং করার কারণে নোটগুলো অপেক্ষাকৃত কম সময়ে অপ্রচলনযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে, টাকার ওপর লাল, নীল, কালোসহ বিভিন্ন কালিতে লিখনের মাত্রা বাড়ছে। এ লেখালেখিতে ব্যাংকারদের ভূমিকাই মুখ্য। এ ছাড়া সকল মূল্যমানের পুন:প্রচলনযোগ্য নোটগুলো ময়লা ও অচল হয়ে যাচ্ছে। আর স্ট্যাপলিংয়ের কারণে নোটের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে।

এখানে বলে রাখা ভালো, নোট ছাপাতে প্রতিবছর সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। আর প্রতিবছর এ খরচ বাড়ছে। কারণ টাকা তৈরির কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনতে হয়। বিদেশে এ ধরনের পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে গ্রাহকরা কেউ কেউ মনে করেন, লেখালেখি ও স্ট্যাপলিংয়ের কারণে টাকা দ্রুত ময়লা হয় আর দেখতেও খারাপ লাগে।

মনিরা জামান নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলছেন, নতুন টাকাগুলো কিছুদিন পর যখন হাতে আসে- তখন এতো ময়লা হয়ে পড়ে যে দেখতেই খারাপ লাগে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় কী আছে?
পিন মারার কারণে টাকার নোটের দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া বা অপ্রচলনযোগ্য হয়ে পড়ায় উদ্বেগ তৈরির প্রেক্ষাপটে এটি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী প্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট ব্যতীত যেকোনো মূল্যমানের নতুন ও পুন:প্রচলনযোগ্য নোটের প্যাকেট স্ট্যাপলিং করা যাবে না।

কিন্তু এক হাজার টাকার নোটের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের আরেকটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনায় পিন মারার সুযোগ রেখে ৫০০ ও এক হাজার টাকার নোটের কোথায় ও কতদূরে পিন লাগানো যাবে- এ সম্পর্কিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, নোটের স্থায়িত্ব ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে ও গ্রাহকদের সুবিধার্থে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের বাম দিকের মাঝখান থেকে ১-১.৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে এটি মাত্র স্ট্যাপলিং পিন ব্যবহার করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এখানে নোটের স্থায়িত্ব, স্বকীয়তা ও গ্রাহকদের সুবিধার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা এ ক্ষেত্রে কাউন্টারে ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।

২০১৯ সালের নির্দেশনা অন্য নোটগুলোর ক্ষেত্রে আরো বলা হয়েছে, ‘মূল্যমান নির্বিশেষে (১০০০ টাকার মূল্যমানের নোট ব্যতীত) সকল নতুন ও পুন:প্রচলনযোগ্য নোট প্যাকেট ২৫ মি.মি. হতে ৩০ মি.মি. প্রশস্ত পলিমার টেপ অথবা পলিমারযুক্ত পুরু কাগজের টেপ দ্বারা ব্যান্ডিং করতে হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের নোটের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ব্যাংক নোট ব্যান্ডিংয়ে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির অনুসরণ করতে পারে।

টাকায় হরেক রংয়ের লেখা বা স্বাক্ষর বা নোট
বাংলাদেশের বাজারে এমন অনেক নোট আছে যেগুলোর ওপরে লাল, কালো, নীল রঙের স্বাক্ষর বা বিভিন্ন ধরনের হাতে লেখা নোট বিশেষ করে টাকার পরিমাণ লেখা দেখা যায়। মূলত ব্যাংকে টাকা সর্টিং ও প্যাকিং করার সময় নোটের ওপর সংখ্যা লিখেন কর্মকর্তারা। আবার কেউ কেউ অনুস্বাক্ষর করেন বা সিল দেন।

যেমন এক লাখ টাকার একটা বান্ডিলের সবচেয়ে ওপরের নোটে লেখা থাকতে পারে ১০০,০০০/-। এমন বহু নোট বাজারে চোখে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৫ সালেই এক নির্দেশনায় এটি বন্ধ করতে বলেছিল। এর পরিবর্তে নতুন ও পুন:প্রচলনযোগ্য নোট প্যাকেটকরণের সময় ব্যাংকের মুদ্রিত ফ্লাইলিফে ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারী ও প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর ও তারিখ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক নোটে হাতে লেখা এসব তথ্যাদি চোখে পড়ে। যেমনটি বলছিলেন ঢাকার মালিবাগের শামসুন্নাহার রত্না।

আরও দেখুন:
◾ জোর করে চাকরি ছাড়ানোর বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যাখ্যা
◾ ব্যাংকারদের চাকরি সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ
◾ ৩৩১৩ ব্যাংকার ১৯ মাসে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন

তিনি বলেন, আমি গত সোমবার এক লাখ টাকা তুলেছিলাম। টাকাটা মেশিনে গুণে কাউন্টারের কর্মকর্তা লাল কালিতে সংখ্যাটা উল্লেখ করেছেন। আমি দেখলাম ওই নোটটায় আগে থেকে ৫০ হাজার ও দুই লাখ অংকে লেখা ছিল। অর্থাৎ আগে ৫০ হাজার টাকা বান্ডিলে ও ২ লাখ টাকার আলাদা বান্ডিলের ওপরে ওই নোটটি ছিল।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply



লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন:

এই বিভাগের অন্যান্য লেখা





ইমেইল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের নতুন নতুন পোষ্ট গুলো ই-মেইল এর মাধ্যমে পেতে রেজিষ্ট্রেশন করুন।




আর্কাইভ



বিভাগ সমূহ