নিরক্ষর গ্রাহক কর্তৃক ব্যাংক হতে চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন

0
2356

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। উক্ত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় সুবিধাবঞ্চিত নিরক্ষর গ্রাহকগণ যাতে সহজে ও ঝুঁকিমুক্তভাবে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারে সে লক্ষ্যে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণীয় হবেঃ

১. বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক জারিকৃত বিএফআইইউ সার্কুলার নং-১০, তারিখঃ ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক Customer Due Diligence (CDD) অনুসরণপূর্বক নিরক্ষর গ্রাহকদের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া (Know Your Customer-KYC) সম্পাদন করার পাশাপাশি নিরক্ষর গ্রাহকদের সহজেই শনাক্ত করার জন্য Biometrics, Iris Recognition, Facial Recognition চালু করা যেতে পারে যাতে গ্রাহকগণ সহজে ও নির্বিঘ্নে যেকোন শাখা হতে টাকা উত্তোলন করতে পারেন।

২. উক্ত পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাসমূহকে Biometrics তথ্য ধারণ ও যাচাইয়ের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। সেই সাথে উক্ত পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এ বিষয়ে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. নিরক্ষর গ্রাহকগণকে প্রতিবার অর্থ উত্তোলনের জন্য যে কোন শাখায় সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্রাহক তাঁর কোন নিকট আত্মীয়/পরিচিতজন সঙ্গে আনতে পারেন, যিনি গ্রাহকের চেক লিখতে সহায়তা প্রদান করবেন।

৪. তবে ব্যাংকের নিকট গ্রহণযোগ্য কোন কারণে গ্রাহক ব্যাংক শাখায় আসতে অক্ষম হলে তাঁর অনুরোধে শাখা ব্যবস্থাপক কর্তৃক মনোনীত ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে চেক লিখন, পঠন, গ্রাহকের সম্মতি প্রদান নিশ্চিত করতে পারে এবং গ্রাহকের সম্মতিক্রমে তা পরিবারের কোন সদস্যকে ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তোলনকারীর সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

৫. উপস্থিত গ্রাহক যদি তাঁর সঙ্গে কাউকে না আনেন, সেক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা তার চেক লিখে দিতে সহায়তা প্রদান করবেন। ব্যাংকের কর্মকর্তা চেকে লিখিত টাকার পরিমাণ গ্রাহককে পড়ে শোনাবেন। গ্রাহক সম্মতি প্রদান করলে, ব্যাংক কর্মকর্তা নগদ প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি পরিপালনপূর্বক নগদ পরিশোধের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে প্রেরণ করবেন।

৬. ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক চেক লিখে দেয়ার সময় গ্রাহকের নিকট হতে একটি “ঘোষণাপত্র” নেয়া যেতে পারে (যা ছক আকারে ব্যাংক শাখার কাছে সংরক্ষিত থাকবে)। উক্ত ঘোষণাপত্রে গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপের পাশাপাশি চেক লেখক ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ নাম, পদবী, আইডি এবং ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সাক্ষীর স্বাক্ষরসহ নাম, পদবী, আইডি ইত্যাদি থাকবে।

৭. এক্ষেত্রে চেক লেখার প্রক্রিয়াটি শাখার এমন দৃষ্টিগোচর স্থানে সম্পাদন করতে হবে যেখানে সিসিটিভি এর কভারেজ রয়েছে।

৮. গ্রাহক ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সম্মুখে চেকের নির্ধারিত স্থানে তাঁর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রদান করবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রত্যয়ন করবেন এবং ব্যাংকে রক্ষিত গ্রাহকের ছবির সাথে উপস্থিত গ্রাহকের চেহারা যাচাই করবেন।

৯. ৪নং ক্রমিকে বর্ণিত কারণ ব্যতিরেকে অন্য সকল ক্ষেত্রে গ্রাহক কাউন্টার হতে নিজ হাতে টাকা গ্রহণ করবেন। কোন অবস্থাতেই গ্রাহকের নিকট আত্নীয়/প্রতিনিধি এর মাধ্যমে চেকটি কাউন্টারে উপস্থাপন করা যাবে না।

১০. নিরক্ষর গ্রাহকদের সেবা প্রদানের কার্যক্রম হেল্প ডেস্ক এর আওতাভুক্ত করা যেতে পারে।

১১. নিরক্ষর গ্রাহককে Real Time Gross Settlement (RTGS)/Electronic Fund Transfer (EFT) এবং Debit/Credit কার্ড সুবিধা আপাততঃ প্রদান না করাই সমীচীন হবে।

১২. যেহেতু নিজের নাম স্বাক্ষর করা একজন শারীরিকভাবে সুস্থ গ্রাহকের জন্য কঠিন কোন বিষয় নয়, তাই নিরক্ষর গ্রাহককে এ বিষয়ে সচেতন করা যেতে পারে। ব্যাংক নিজেই উদ্যোগ গ্রহণ করে নিরক্ষর গ্রাহকের কাছে চেকের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি উপস্থাপন করবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিরক্ষর গ্রাহককে স্বাক্ষর প্রদানে সক্ষম করে তুলতে পারে। এ ব্যাপারে দেশব্যাপি সাক্ষরতা অভিযানে নিয়োজিত বিভিন্ন এনজিও’র সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

• সার্কুলারটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৪, তারিখঃ ২১ মে, ২০১৮

Leave a Reply