বিসিক নিজস্ব ব্যাংক চায়

0

বিভিন্ন অজুহাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায় না ব্যাংকগুলো। এতে দেশের কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে। বিপাকে পড়ে দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সে লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ইতোমধ্যে একটি ব্যাংক গঠনের অনুমতি চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছে।

বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে হলে শিল্পের বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। এসএমই নীতিমালা অনুযায়ী একটি ব্যাংক খুলতে চাচ্ছি আমরা। শিল্প মন্ত্রণালয়েও আবেদন করেছি। তিনি বলেন, ব্যাংক চালানোর মতো শতভাগ সক্ষমতা বিসিকের আছে। ব্যাংক হলে দেশে কোটি কোটি উদ্যোক্তা তৈরি হবে। নিউজটি আপনি পড়ছেন ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ-এ। সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা সহজে ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। তারা চড়া সুদে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ফলে টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

‘ব্যাংকটি যদি আমরা করতে পারি, তা হলে প্রতি বছর যে ২০ হাজার উদ্যোক্তাদের আমরা প্রশিক্ষণ দেই, তারা সহজে ঋণ পাবেন। তারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে যাবেন। এতে রাষ্ট্র ঘুরে দাঁড়াবে। উন্নত দেশ গঠনে এর কোনো বিকল্প নেই।’ ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে টাকা মেরে দেয় না’ দাবি করে বিসিকের এ চেয়ারম্যান বলেন, সিএমএসএমই খাতের লোকরা ব্যাংক ও এনজিও টাকা মেরে দিয়েছে— এমন রেকর্ড তেমন নেই। তারা ঋণ নিয়ে সঠিক সময়ে ফেরত দেন।

দেশের শিল্প খাতের বিকাশে মাত্র ২০ কোটি টাকার তহবিল দিয়ে ২০১৬ সালের মে থেকে ‘বিনিত’ ঋণ কর্মসূচি চালু করে বিসিক। কর্মকর্তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ঋণ প্রদান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তাই আমরা সরকারের কাছে একটি ব্যাংক চেয়ে আবেদন করেছি। যে ব্যাংকটি শুধুমাত্র এসএমই খাত নিয়ে কাজ করবে— জানান বিসিক চেয়ারম্যান।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (Banking News Bangladesh. A Platform for Bankers Community.) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

দেশে বর্তমানে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬৩টি এবং আর্থিকপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৩টি। দেশের যে অর্থনীতির আকার, তাতে এত ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন রয়েছে। এর মাঝে আবার নতুন ব্যাংক কতটুকু বাস্তবসম্মত— এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিকের চেয়ারম্যান বলেন, ছোট উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের টিকিয়ে রাখতে ব্যাংক দরকার। আর বিসিকের তো ব্যাংক চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে এখানে যে ঋণ প্রদান কর্মসূচি রয়েছে, সেখানে ঋণ আদায় প্রচলিত ব্যাংকের চেয়ে অনেক ভালো। বিসিকের ঋণ আদায়ের হার ৯৩ শতাংশের বেশি। যা দেশের অন্য যেকোনো ব্যাংকের চেয়ে ভালো।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হালিম শিল্প সচিব থাকাকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বিসিক নীতিমালা অনুযায়ী নতুন একটি ব্যাংকের আবেদন করা হয়। ওই সময় শিল্প সচিব ব্যাংক করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন করতে গেলে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। এটি করতে গেলে দুই কোটির বেশি টাকা লাগে। তাই এটি করতে নতুন সচিবের ইতিবাচক সায় লাগবে। তা না হলে দুই কোটি টাকা খরচ করে লাভ হবে না। পুরো টাকা জলে যাবে। কারণ বিসিক ব্যাংকের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিলে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এখন শিল্প মন্ত্রণালয় না চাইলে তা পাঠানো সম্ভব নয়।

শিল্প সচিব কে এম আলী আজম বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাইনি। যখন পাব, তখন বলা যাবে। জানা যায়, বিসিকের নিজস্ব তহবিল (বিনিত) থেকে ঋণ কর্মসূচির আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত বিসিকের ৭৮টি শিল্প ইউনিটে প্রায় এক কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। সেই হিসাবে ঋণ বিতরণের হার মাত্র ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের আদায়যোগ্য এক কোটি ৭৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে এক কোটি ১১ লাখ টাকা। ঋণ আদায়ের হার ৬৩ শতাংশ।

‘বিনিত’ ঋণ কার্যক্রমের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। নিউজটি আপনি পড়ছেন ব্যাংকিং নিউজ বিডি ডটকম-এ। আগস্ট পর্যন্ত আদায় হয়েছে ২৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ঋণ আদায়ের হার ৯৩ শতাংশ। ‘বিনিত’ ঋণের মাধ্যমে বিসিকের শিল্পনগরীর তিন হাজার ৭১৬টি ইউনিটকে ঋণ সহয়তা প্রদান করেছে।

Leave a Reply