ব্যাংকে নগদ অর্থের সরবরাহ বাড়াতে সুপারিশ

0

করোনা সংকট মোকাবিলায় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য জোরোলো সুপারিশ জানিয়েছেন দেশের ব্যবাসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো কঠোর সিদ্ধান্তকে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা পূর্ণ সমর্থন দেবেন বলে জানানো হয়।

গতকাল বুধবার ৮ এপ্রিল, ২০২০ মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে গত ৭ এপ্রিল সরকারের কাজে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আহ্বানে এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ব্যবসাখাতে বিভিন্ন সহায়তার প্রশংসা করা হয় সভায়। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই জনগণ তা আমলে নিয়ে কাজ করছেন, এ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।’

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এ মুহূর্তে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা সরকারের প্রথম এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠলে বাংলাদেশ যথাসময়েই অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী সমাজ প্রধানমন্ত্রীর দৃশ্যমান নেতৃত্বের ওপর আস্থাশীল। সরকার ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কার্যক্রমগুলো দ্রুততার সঙ্গে ও যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য একটি শক্তিশালী ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করার পরামর্শ দেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে এক বিশেষ অবস্থা বিরাজ করছে, যেটি সম্পর্কে আগে কারো কোনো ধারণাই ছিল না। এমনকি সারাবিশ্বও বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত নয়। এ পরিস্থিতি সবাইকেই প্রতিনিয়ত নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার থেকে ব্যবসা সম্পর্কিত বিষয়ে প্রায়শই বিভিন্ন সার্কুলার জারিরও প্রয়োজন হচ্ছে।

সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়, সার্কুলার জারির পূর্বে যদি টেলিফোনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তাহলে সার্কুলারে বর্ণিত বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য সন্নিবেশ করা সহজ হয়। এতে পরবর্তীতে সার্কুলারে সংশোধনী আনার প্রয়োজন কমে যাবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিক/ কর্মচারীদের বেতন/ ভাতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিলেন, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককর্তৃক প্রণীত সার্কুলারে কিছু বিষয় অনুপস্থিত ছিল, যেমন- ডিজিটাল ব্যাংকিং হিসাব বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক শ্রমিক/ কর্মচারী এর আওতাভুক্ত নন এবং যেসব শ্রমিক/ কর্মচারীর বেতন/ ভাতা আয়করযোগ্য ও যাদের ভবিষ্য তহবিল আছে, সে বিষয়গুলো সম্পর্কে সার্কুলারে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। যা পরবর্তীতে পত্র যোগাযোগের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণ করেন- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকার (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী, এমসিসিআই-এর সহ-সভাপতি আনিস এ. খান, এমসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভলপমেন্ট’র (বিইউআইএলডি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও এমসিসিআই-এর কমিটি সদস্য নাসের ইজাজ বিজয় এবং এমসিসিআই ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর মহাসচিব ফারুক আহাম্মাদ। এছাড়াও ঢাকাস্থ ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা সভায় যোগ দেন।

Leave a Reply