ব্যাংকিং টার্মে- “পেইড ইন গুড ফেইথ”

0
1147

ব্যাংকিং টার্মে- “পেইড ইন গুড ফেইথ” বলে একটা কথা আছে। বাংলায় বলা চলে সরল বিশ্বাসে পেমেন্ট করা। আমি অত বড় ব্যাংকার নই, তবুও সহজ করে ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

ধরেন আপনি একজন ব্যাংকার। আপনার কাছে একজন গ্রাহক চেক নিয়ে এলো। আপনি সব কিছু বুঝে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পেমেন্ট করলেন। এখন আপনি যেটা করলেন, তা হলো সরল বিশ্বাসে পেমেন্ট করলেন। এর মানে কিন্তু এটা না যে, আপনি কোন ভুল করতে পারেন না। এতো পরীক্ষা নিরীক্ষার পরও কিন্তু আপনার ভুল হতেই পারে, অন্যকথায় আপনি প্রতারণার শিকার হতেই পারেন। তখন কি আপনাকে দোষী বলা যাবে বা আপনার এই অপরাধকে ইচ্ছাকৃত অপরাধ বলা যাবে?

দুদক চেয়ারম্যান মহোদয়ের একটা বক্তব্য নিয়ে অনলাইন বেশ সরব। তিনি বলেছেন- সরল বিশ্বাসে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে দোষী বলা যাবে না। সম্ভবত, বক্তব্যটা এমন হওয়া উচিৎ ছিল যে- সরকারী কর্মকর্তারা যদি সরল বিশ্বাসে কোন কাজ করে যা আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে না হলেও পরবর্তীতে তা দুর্নীতিমূলক কাজ বলে প্রতীয়মান হয়, তবে কর্মকর্তা দোষী হবেন না।

দেখুন, বাংলাদেশে মাঠ পর্যায়ে কাজ করাটা যে কতটা কঠিন, তা যারা কাজ করে না তারা বুঝতেই পারবে না।নানা রকম পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত সমস্যা এবং সমস্যাগ্রস্ত অগণিত মানুষ, যারা আবার নানা স্বার্থের দ্বন্দ্বে লিপ্ত এমন সব ক্রিটিক্যাল মানুষ এবং তার চেয়েও ক্রিটিকাল সমস্যা, নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের কিছু ভুল হতেই পারে। কারন, তারা নিজেরাও নির্ভুল কম্পিউটার না, এবং তাদের কর্ম পরিবেশের মধ্যে সব সাহাবায়ে কেরাম বা ফেরেশতা নেই, বরং দুষ্টু লোকজন নিয়েই তাদের কাজ কারবার। তাই এমন কাজ হয়ে যেতেই পারে, যা ইচ্ছাকৃত নয়।

মাঠপর্যায়ে কাজ করা যে কত কঠিন তা রিমোট এরিয়ার এক ব্যাংকের শাখা চালাতে গিয়েই হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি। মানলাম সরকারী কর্মকর্তাদের উপর আমজনতার ক্ষোভ আদি এবং অকৃত্রিম, এবং তারা নিজেরাও সবাই ওলি আউলিয়া নয়, তবুও সুযোগ পেলেই তাদের পিন্ডি চটকানো উচিত নয়।

ইচ্ছাকৃতভাবে স্বার্থসিদ্ধির জন্য করা অপরাধ আর সরল বিশ্বাসে কৃত কোন আপাতদৃষ্টিতে নির্বিষ কাজ যা পরবর্তীতে অপরাধ প্রমাণিত হয়, এই দুয়ের মাঝে পার্থক্য বোঝা উচিত।

কার্টেসিঃ মোঃ সাইফুদ্দিন রিগান

Leave a Reply