ব্যাংকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর খুবই নাখোস

1
2912

ব্যাংকার বন্ধুরা দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর খুব নাখোস। তা আপনি কি চান? সামনের সপ্তাহ অথবা আগামী কিছুদিন সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে? পুলিশ তার দায়িত্ব পালন না করে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে যাবে? সেনাবাহিনী ব্যারাকে থাকবে? ডাক্তার-নার্স বাসায় আইসোলেশনে থাকবে? প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যরা দায়িত্ব পালন না করে বাসায় ফ্যামিলিকে সময় দিবে?” আপনার সাজেশন কি?

ব্যাংকসহ যতগুলো সার্ভিসের কথা বললাম এগুলো জরুরী সেবা। এতোক্ষনে জানেন নিশ্চয়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গতকাল রাত ১২টা থেকে পুরো ভারতে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছেন। তো সেই লকডাউনের আওতায় কি কি আছে আর কি কি নেই সেটাও কষ্ট করে একবার দেখে নেন। ব্যাংকিং সেবা কিন্তু লকডাউনের মাঝেও খোলা থাকবে!

এখন দেখুন বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য কি নির্দেশনা দিয়েছে-
১. শুধুমাত্র নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে। সেক্ষেত্রে-
ক. অনলাইন সুবিধা আছে এমন শাখা সমূহের মধ্যে কোন কোন শাখা খোলা থাকবে (গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শাখাসমূহের দূরত্ব বিবেচনা নিয়ে) তা ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ঠিক করবে।
খ. অনলাইন সুবিধা না থাকা শাখাসমূহ খোলা থাকবে।

২. শুধুমাত্র জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের জন্য (যদি থাকে) এডি শাখাসমূহ খোলা রাখা যাবে। (অর্থাৎ রাখতে হবেই এমন না, ব্যাংক যদি প্রয়োজন মনে করে রাখবে।)
৩. এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
৪. দৈনিক লেনদেনের সময়সূচিঃ সকাল ১০.০০টা থেকে বেলা ১২.০০টা। ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ- দুপুর ১.৩০।
৫. এছাড়াও রোস্টারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত করে ব্যাংক কার্যক্রম চালাতে হবে। অর্থাৎ যেসব কার্যক্রম চলবে (বিশেষত ক্যাশ) সেখানেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একইসাথে ব্যাংকে উপস্থিত থাকতে হবে না।

২২ মার্চ, ২০২০ তারিখের বিআরপিডির সার্কুলার অনুযায়ী (পয়েন্ট-৪) ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের মধ্যে নূন্যতম ২ সেট করে রোস্টারিং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম (শুধুমাত্র নগদ জমা ও উত্তোলন এবং যদি প্রয়োজন মনে করে সেক্ষেত্রে জরুরি বৈদেশিক লেনদেন) চালু রাখবেন।

তার মানে সাধারণ ছুটিতে শুধু ক্যাশ খোলা থাকবে; তাও কয়েক ঘন্টার জন্য। তাও সব শাখা নয়। সকল ব্যাংক নিজে সিদ্ধান্ত নিবে কোন কোন শাখা খোলা রাখবে। আবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের মধ্যে রোস্টারিং করতে পারবে। আর কতটুকু সহজ করতে পারে বলেন?

হ্যা! এটা আমারও মনে হয় ৫ দিনের মধ্যে ২/৩ দিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হতে পারতো। সপ্তাহে ১/২ দিন হতে পারতো! তাই বলে পুরো ব্যাংকিং সেক্টর বন্ধ করে দিবে?

একবার ডাক্তার, প্রশাসন, পুলিশ,আর্মিদের কথা ভেবে দেখেছেন? তাদেরও কিন্তু আপনার আমার মতো পরিবার আছে! তারাও আমাদের মতো রক্ত মাংশের মানুষ এবং তারাও এই ভাইরাসের হুমকি থেকে মুক্ত নন।

দেশের মানুষের অবশ্যই ক্যাশ টাকা দরকার। সবাই কিন্তু আপনাদের এটিএম বুঝেনা। আর সব গ্রামে-গঞ্জে এটিএম নাইও। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মহান দায়িত্ব আমাদের হাতে। আর আপনারাই যদি আপনাদের নিজের কাজকে নিজেদের পেশাকে সম্মান না করেন, দুনিয়ার কেউ করবেনা। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে হা হুতাশ করেন, এতে কিন্তু নিজেদেরই ছোট করছেন!

আল্লাহ ভরসা। আল্লাহ বাংলাদেশকে ভাল রাখুক। ভাল থাক বাংলাদেশ। আপনি, আমি, আমরা মিলেই বাংলাদেশ।” মহান প্রভুর নিকট প্রার্থনা রইলো যাতে আমার ভাইয়েরা, যারা এই বিপদের দিনে জনসেবায় নিয়োজিত থাকবেন, নিজের পরিবারের চিন্তা করে পালিয়ে যাবেন না, বরং নিজের পেশার স্বার্থে সকল প্রতিকূল মুহূর্তেও অবিচল থেকে আমাদেরকে রক্ষার চেষ্টা করে যাবেন তাদেরকে যেন কোন ভাইরাস সামান্যতম ক্ষতিও না করতে পারে।

লিখেছেন- আজাহারুল ইসলাম, ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

১টি মন্তব্য

  1. 1.Sir, in my bank above 50,000/- cheque verify korte pare na, just entry korte pare. Tahole more than 50k er cheque ki refuse korbe?
    2. Station a ki sobai thakse? Jara thakse tader uporei barti kajer chap ashse. But no extra benefits, this is very injustice.

Leave a Reply