ব্যাংকার যখন গ্রাহকের ‘চোখের বালি’

0

প্রণব চৌধুরীঃ ‘চোখের বালি’ আমাদের অতি পরিচিত একটি বাগধারা যা রবি ঠাকুরের কল্যাণে অনেক জনপ্রিয়ও বটে। আমরা যারা ব্যাংকার, তাদের সাথেও কিন্তু বাগধারাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিভাবে তা জানতে চান? তাহলে আসুন, জেনে নেইঃ

আপনার শাখায় লোকবল সংকট। ফলশ্রুতিতে আপনি একসাথে চার পাঁচটি ডেস্ক এর কাজ করে চলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আপনি অন্য কোন একটি ডেস্ক এ কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে ব্যর্থ হবেন। কিন্তু গ্রাহক সেটা বুঝবেন কেন? তিনি ভাববেন যে, এই লোকটি আমার কাজের দেরি করিয়ে দিল বরং এই ডেস্ক এর পূর্বের লোকটিই ঠিক ছিল। আপনি অনেক চেষ্টা করেও উনাকে আপনার আন্তরিকতার কথা বুঝাতে ব্যর্থ হবেন, কিন্তু তাতে কি? ইতোমধ্যেই আপনি হয়ে যাবেন ঐ গ্রাহকের নিকট ‘চোখের বালি’!

আপনার বাসায় একটি বিশেষ ফাংশন আজ, ধরা যাক সেটা আপনার বাবা কিংবা মা কিংবা বাচ্চার জন্মদিন অথবা আপনাদের বিবাহ বার্ষিকী কিংবা অন্যকিছু। কিন্তু আপনার হাতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং এই কাজ আপনি ব্যতিত শাখার অন্য কেউই করতে পারেন না। কাজ শেষ না করে আপনি বের হতে পারবেন না। ফলশ্রুতিতে আপনার ঐ দিনের বিশেষ পারিবারিক প্রোগ্রামটি মিস হবে আর আপনি হয়ে যাবেন আপনার পরিবারের সবার কাছে ‘চোখের বালি’!

আপনি সৎভাবে কাজ করেন। কোন ধরণের ঘুষ কিংবা উৎকোচ এর ধারে কাছেও যান না। কিন্তু আপনার পাশের ডেস্ক এর লোকটি চরম দুর্নীতিবাজ এবং শুধুমাত্র আপনার সততার জন্য উনার কাজে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে আপনি হয়ে গেলেন আপনার ঐ দুর্নীতিবাজ কলিগের নিকট ‘চোখের বালি’।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ফর অল এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরও দেখুন:
ব্যাংকাররাই ব্যাংকারদের ক্ষতি করছে
ব্যাংকারদের লেন‌দেন সময় ও টা‌র্গেট ক‌মা‌নো উচিত
ব্যাংকার হতে চান? আরেকবার ভাবুন
একজন ব্যাংকারের যে সকল গুণাবলী থাকা জরুরী
ব্যাংকারদের দেরিতে অফিস ত্যাগ সিস্টেম নাকি অদক্ষতা

যেহেতু আপনি সৎ তাই আপনি নিয়ম মেনে লোন দিচ্ছেন। তাতে করে অবৈধভাবে ঋণ পেতে আগ্রহী গ্রাহক আপনাকে ঘুষ খাওয়াতে পারছেন না আর তার লোনটিও পাস হচ্ছে না। কিন্তু তাতে কি? আপনি তো ইতোমধ্যেই হয়ে আছেন ঐ গ্রাহকের ‘চোখের বালি’!

শাখার এসি বা জেনারেটরটি নষ্ট। গ্রাহক স্বার্থ চিন্তা করে আপনি বারংবার নিয়ন্ত্রণকারী কার্যালয়ে যোগাযোগ করছেন। বিরক্ত হয়ে নিয়ন্ত্রক দিলেন ঝাড়ি এবং সে ঝাড়ি হজম করেও আপনি এসি কিংবা জেনারেটর চাইতেই থাকলেন এবং সাথে সাথে আপনি হয়ে গেলেন আপনার কর্তৃপক্ষের নিকট ‘চোখের বালি’!

শাখায় তীব্র লোকবল সংকট নিয়ে কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের নিকট আপনি বারংবার লোক চেয়ে চিঠি চালাচালি করে ঝাড়ি খাচ্ছেন এবং হয়ে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষের ‘চোখের বালি’!

আপনার আত্মীয় স্বজন ব্যাংকিং ট্রানজেকশন আওয়ারে আপনাকে ফোন দিচ্ছে, তীব্র ব্যস্ততার কারণে আপনি ফোনটাই রিসিভই করতে পারছেন না। কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত দশটা কি এগারোটা। ফোনের কথা মনেই নেই। কিন্তু তাতে কি বা এসে যায়। আপনি তো তাদের নিকট ইতোমধ্যেই ‘চোখের বালি’ হয়ে বসেই আছেন!

আপনি অফিসের বস। আপনার ফাঁকিবাজ কলিগের ফাঁকিবাজি যেমন আপনি ধরতে পারছেন তেমনি আপনার কর্মঠ কর্মকর্তার কর্মদক্ষতাও আপনার চোখে পড়ছে। ফাঁকিবাজ ঐ সহকর্মীকে কিছু বলতে যাবেন তো সেই ফাঁকিবাজ সহকর্মীর নিকট আপনি হবেন ‘চোখের বালি’ আবার যদি উনার ফাঁকিবাজি চুপচাপ সহ্য করে বসে থাকেন তবে আপনার কর্মদক্ষ সহকর্মীর নিকট আপনি হয়ে যাবেন সেই ‘চোখের বালি’!

আপনার অফিসের বস সারাদিন নিজের চেম্বারে বসে পত্রিকা পড়তে পড়তে মুখস্ত করতে থাকেন। সহকর্মীরা কে কি করছে কিংবা প্রতিষ্ঠান কোনদিকে যাচ্ছে সে বিষয়ে উঁনার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সেই বিষয়ে যদি আপনি কারো সাথে কোনো আলোচনা করেন এবং সেই আলোচনা যদি কোনক্রমে আপনার বসের কানে গিয়ে পৌঁছায় তো ব্যাস, হয়ে গেলেন আপনি আপনার বসের নিকট ‘চোখের বালি’!

আরো কারো ‘চোখের বালি’ হতে চান? আচ্ছা যান, আজকের মতো ছেড়ে দিলাম! হ্যাপি ব্যাংকিং।

লেখকঃ প্রণব চৌধুরী, ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, গোলাপগঞ্জ শাখা, সিলেট।

Leave a Reply