ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০

0
1040

‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০’-এর আওতায় বীমাযোগ্য আমানতের ওপর নির্ধারিত প্রিমিয়াম গ্রহণ করে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। সকলের অবগতির জন্য আইনটি তুলে ধরা হলো। এই আইনটি আমানত সুরক্ষা আইন, ২০১৭ দ্বারা রহিত করা হয়েছে।

ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০
(২০০০ সনের ১৮ নং আইন)
[৬ জুলাই, ২০০০]

Bank Deposit Insurance Ordinance, ১৯৮৪ রহিত করিয়া কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷
যেহেতু Bank Deposit Insurance Ordinance, 1984 (LIII of 1984) রহিত করিয়া কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা
এই আইন ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে৷

২৷ সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(ক) “আমানত” অর্থ কোন তফসিলি ব্যাংক এর তেগত্রে, উহার আমানতকারীর (depositors) হিসাবের অপরিশোধিত অবশিষ্টের সমষ্টি;
(খ) “ট্রাস্টি বোর্ড” অর্থ ধারা ৮ এ উল্লিখিত তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড;
(গ) “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এর Article 2(j) এ সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank;
(ঘ) “তহবিল” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন সংরতিগত ট্রাস্ট তহবিল;
(ঙ) “নিরীক্ষক” অর্থ The Chartered Accountants Order, 1973 ((P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত chartered accountant;
(চ) “প্রিমিয়াম” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন বীমাকৃত ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় প্রিমিয়াম;
(ছ) “বাংলাদেশ ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;
(জ) “বীমা” অর্থ আমানত বীমা;
(ঝ) “বীমাকৃত ব্যাংক” অর্থ এই আইনের অধীন বীমাকৃত ব্যাংক৷

৩৷ আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল
(১) বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল নামে একটি তহবিল সংরক্ষণ করিবে এবং এই তহবিলের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে৷
(২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(ক) বীমাকৃত ব্যাংক হইতে প্রাপ্ত অর্থ;
(খ) তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত আয়;
(গ) ধারা ৭ এর অধীন অবসায়িত ব্যাংক হইতে প্রাপ্ত অর্থ;
(ঘ) অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত আয়৷
(৩) তহবিলের অর্থ ধারা ৭ এর বিধান মোতাবেক অবসায়িত ব্যাংকের আমানতকারীর পাওনা পরিশোধ এবং এই তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাইবে না৷
(৪) Income Tax Ordinance, 1984 (XXXVI of 1984) এর কোন কিছুই তহবিল এর আয়ের তেগত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷

৪৷ বীমাকৃত ব্যাংক
আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) এই আইন প্রবর্তনের তারিখে বিদ্যমান প্রত্যেক তফসিলি ব্যাংক উক্ত তারিখ হইতে তহবিল এর সহিত বীমাকৃত বলিয়া গণ্য হইবে; এবং
(খ) এই আইন প্রবর্তনের পর প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক তফসিলি ব্যাংক তহবিল এর সহিত বীমাকৃত হইবে৷

৫৷ বীমাকৃত ব্যাংক এর প্রিমিয়াম
(১) প্রত্যেক বীমাকৃত ব্যাংক উহার আমানতের ঐ অংশের উপর প্রতি বত্সর শতকরা সাত পয়সা হারে তহবিলে প্রিমিয়াম প্রদান করিবে যাহা বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্ধারণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রিমিয়ামের হার কম বেশী করিতে পারিবে৷
(২) বীমাকৃত ব্যাংক উহার ব্যয় খাত হইতে প্রিমিয়াম পরিশোধ করিবে৷
(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে প্রিমিয়াম পরিশোধ করিতে হইবে৷
(৪) বীমাকৃত কোন ব্যাংক প্রিমিয়াম প্রদানে ব্যর্থ হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উহার নিকট রতিগত উক্ত ব্যাংক এর হিসাব হইতে সমপরিমাণ অর্থ উক্ত ব্যাংকের প্রিমিয়াম বাবদ কর্তন করিয়া তহবিলে জমা দানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

৬৷ প্রিমিয়াম প্রদানে একাধিকবার ব্যর্থতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ
কোন বীমাকৃত ব্যাংক একাধিকবার প্রিমিয়াম পরিশোধে ব্যর্থ হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যাংককে শুনানীর সুযোগ প্রদানপূর্বক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত সময়ের জন্য, আমানত গ্রহণ হইতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

৭৷ তহবিল-এর দায়
(১) কোন বীমাকৃত ব্যাংক-এর অবসায়নের আদেশ প্রদান করা হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঐ অবসায়িত ব্যাংক-এর প্রত্যেক আমানতকারীকে তাহার আমানতের সমপরিমাণ টাকা, যাহা সর্বাধিক এক লক্ষ টাকার বেশী হইবে না, তহবিল হইতে প্রদান করিবে৷
(২) অবসায়িত ব্যাংকে কোন আমানতকারীর একাধিক হিসাব থাকিলে এবং ঐ সকল হিসাবে একত্রে এক লক্ষ টাকার অধিক স্থিতি থাকিলেও তাহাকে তহবিল হইতে সর্বাধিক এক লক্ষ টাকার অধিক পরিশোধ করা হইবে না৷ তবে এইরূপ পরিশোধ অবসায়িত ব্যাংক-এর নীট সম্পদের বিপরীতে লিকুইডেটর কর্তৃক আমানতকারীদিগকে দেয় অংকের সহিত সমন্বয় করা হইবে৷
(৩) অবসায়িত ব্যাংকের অবসায়ক, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, তাহার কার্যভার গ্রহণের পর অনধিক নব্বই দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ছকে আমানতকারীর আমানতের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নিকট দাখিল করিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আমানতকারীদের তালিকা প্রাপ্তির পর ট্রাস্টি বোর্ড অনধিক নব্বই দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর বিধানমতে আমানতকারীদের প্রাপ্য টাকা তহবিল হইতে পরিশোধের ব্যবস্থা করিবে৷
(৫) তহবিলে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ পরিশোধিতব্য টাকা হইতে কম হইলে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মাধ্যমে, কম পড়া টাকা তহবিলে ব্যাংক রেটে সুদের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করিবে৷
(৬) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আমানতকারীর আমানতের পরিমাণ নির্ধারণকালে বীমাকৃত ব্যাংক আইনগতভাবে আমানতকারীর নিকট কোন পাওনা থাকিলে উহা বাদ দিয়া তাহার পাওনা নির্ধারণ করিবে৷

৮৷ ট্রাস্টি বোর্ড
তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বোর্ড অব ডাইরেক্টরস্‌ তহবিল এর ট্রাস্টি বোর্ড হইবে৷

৯৷ বাত্সরিক প্রতিবেদন
নিরীক্ষক কর্তৃক প্রত্যায়িত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্ণর কর্তৃক স্বাক্ষরিত তহবিলের বাত্সরিক হিসাবের কপি এবং কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন উক্ত হিসাব প্রস্তুতের দুই মাসের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ড সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে৷

১০৷ রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) The Bank Deposit Insurance Ordinance, 1984 (LIII of 1984) এতদ্বারা রহিত করা হইল৷
(২) রহিত Ordinance এর অধীন সংরতিগত ডিপোজিট ইনসুরেন্স ফান্ড এর সকল অর্থ তহবিলে হস্তন্ত্মরিত হইবে৷

Leave a Reply