সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংক হিসাব বেড়েছে

0
622

সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকান্ড প্রবর্তন ও নেতৃত্ব প্রদান করে আসছে। এগুলোর মধ্যে আছে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকায় খোলা ব্যাংক হিসাব, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ মাস শেষে (জানুয়ারি থেকে জুন) ১০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকার বিশেষ এসব অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫টি। এসব হিসাবে জমার পরিমাণ ১ হাজার ৯৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা। মার্চ শেষে ১০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকার বিশেষ এসব অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৪৭টি। এসব হিসাবে জমার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বোঝা যাচ্ছে, দেশে ব্যাংকিং সুবিধার আওতাধীন ব্যক্তি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের যাত্রায় বলা যায় সুসংবাদ।

উল্লেখ্য, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির বড় অংশই ছিল দীর্ঘদিন আর্থিক সেবা খাতের বাইরে। তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় অ্যাকাউন্ট খোলার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এসব শ্রেণি-পেশার মধ্যে রয়েছেন কৃষক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগী, মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র জীবনবিমা পলিসি গ্রহীতা, অতিদরিদ্র উপকারভোগী, অতিদরিদ্র মহিলা উপকারভোগী, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুস্থ পুনর্বাসনের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকারি আট ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে- সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

দেশের অর্থনীতির সুদৃঢ় কাঠামো গড়ে তোলার জন্য আর্থিক সেবাবঞ্চিত জনসাধারণকে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। সংগত কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান ব্যাংকবিমুখ মনোভাব দূর করতে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। তবে তাদের সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতে হবে বলেই আমরা মনে করি। আধুনিক সভ্য সমাজে বিরাজমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ কিংবা বিকল্প নেই এটা সবাইকে গভীরভাবে উপলব্ধি করাতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত এবং টেকসই হবে দিনে দিনে। শিগগিরই বাংলাদেশের প্রতিটি নারী-পুরুষ ব্যাংকিং খাতের আওতায় চলে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply