ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট

0
508

বিশ্বায়নের এই যুগে কোন দেশেরই দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখার সুযোগ নেই। কোন দেশ যেহেতু নিজেদের সমস্ত প্রয়োজন নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে মিটাতে পারে না তাই তাকে বিভিন্ন দেশের সাথে লেনদেন করতে হয়। আর এই লেনদেন হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। বৈদেশিক মুদ্রা যে কোন দেশের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটা যদি আমাদের মতো স্বল্প উন্নত বা উন্নয়নশীল হয় তবে তার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। এই মহামূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বিষয়ক যথাযথ নীতি প্রণয়নে (যার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর অর্পিত থাকে) এমন কিছু থাকা দরকার যা দিয়ে কোন দিক দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে অথবা কোন দিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে খুব সহজে ধারণা পাওয়া যাবে। তাই নীতি প্রণয়ণে সহায়তা পাওয়ার জন্যে অন্যান্য দেশগুলোর সাথে কোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (যেমন মাসিক/ ত্রৈমাসিক/ বার্ষিক) বৈদেশিক মুদ্রায় যে লেনদেন হয় তার হিসাব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংরক্ষণ করে এই হিসাবকেই বলা হয় ব্যালেন্স অব পেমেন্টস। কিন্তু হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ লেনদেনসমূহ এতে অন্তর্ভুক্ত হয় না।

ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট এর সংজ্ঞা
সাধারণত এক বছর সময়ের মধ্যে একটি দেশের সাথে অন্যান্য দেশসমূহের বৈদেশিক মুদ্রায় যে লেনদেন সংঘটিত হয় তার (দুতরফা দাখিলা ভিত্তিক এক বিশেষ হিসাব) বিবরণী হলো ব্যালেন্স অব পেমেন্টস।
উপরে প্রদত্ত সংজ্ঞায় ব্র্যাকেটে লেখা ‘দুতরফা দাখিলা ভিত্তিক এক বিশেষ হিসাব’ এই জটিল কথাটির ব্যাখ্যা উপস্থাপনের চেষ্টা করবো। যদি আমরা বৈদেশিক লেনদেনেরগুলোর প্রকৃতি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারি তবে এই জটিল কথাটি বোঝা খুব একটা কঠিন হবে না।

বৈদেশিক লেনদেনগুলোকে বিশ্লেষণের চেষ্টা
যখন কোন বৈদেশিক লেনদেনে একদিকে দেশের আয় হয় তখন অন্যদিকে ঐ আয়ের কারণে দেশের সম্পদও বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে ব্যয়ের কারণে সম্পদ হ্রাস পায়। যেমনঃ একদিকে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে যখন আমরা ডলার আয় করি, তখন অন্যদিকে আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিদেশী ব্যাংক হিসাবে (যা নস্ট্রো একাউন্ট নামে পরিচিত) ঐ আয়ের ডলার জমা হওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পদও বৃদ্ধি পায়। এভাবে একটি লেনদেনকে দুইবার দেখিয়ে হিসাব বিবরণী তৈরি করার পদ্ধতিকে দুতরফা দাখিলা বলা হয়েছে।

কিন্তু লেনদেন সবসময় আয় কিংবা ব্যয় সংক্রান্ত হতে-ই হবে এমনটি নয়। কারণ শুধুমাত্র সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি ধরণের লেনদেনও তো হতে পারে। উদাহরণ দিলে বুঝতে সহজ হবে। যেমনঃ আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের নস্ট্রো একাউন্টে যে বৈদেশিক মুদ্রা জমা আছে তা যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনে নিয়ে তার নস্ট্রো একাউন্টে জমা করে সেক্ষেত্রে সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি ধরণের লেনদেন সংঘটিত হয়। একদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নস্ট্রো একাউন্ট হতে সম্পদ হ্রাস পায় এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নস্ট্রো একাউন্টে সম্পদ বৃদ্ধি পায়। (উল্লেখ্য, লেনদেনে দায় হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে, যা সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধির বিপরীত তাই আলাদা ব্যাখ্যা দেওয়া হলো না।) অর্থাৎ প্রতিটি লেনদেনকে দুইবার এন্ট্রি দেওয়া পদ্ধতিটি দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বা Double Entry System নামে পরিচিত।

উল্লিখিত বিশ্লেষণের আলোকে বৈদেশিক লেনদেনগুলোকে মোটাদাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১) আয়-ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেন; ও
২) সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত লেনদেন।
ময়না তদন্ত থেকে এটা স্পষ্ট যে, প্রতিটি লেনদেন হয় ১ নং এবং ২ নং কে একসাথে/যুগপৎভাবে প্রভাবিত করে অথবা শুধুমাত্র ২নং কে দুইবার বিপরীতভাবে প্রভাবিত করে।

লেনদেনের এই বিভাজনের কারণে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসকে প্রধানত দুই ভাগে দেখানো হয়।
এক) কারেন্ট একাউন্ট/চলতি হিসাব (আয়-ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেনগুলো এই হিসাবে দেখানো হয়); ও
দুই) ক্যাপিটাল একাউন্ট/মুলধনি হিসাব (সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত লেনদেনগুলো এই হিসাবে দেখানো হয়)।
যদিও বর্তমানে ক্যাপিটাল একাউন্টকেও বিভাজিত করে ক্যাপিটাল একাউন্ট এবং ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্টে (আইএমএফ এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ম্যানুয়াল অনুসারে) ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু উভয় একাউন্টেই (ক্যাপিটাল একাউন্ট এবং ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট) সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত লেনদেনগুলোই দেখানো হয়।

এক) কারেন্ট একাউন্ট/ চলতি হিসাব
পত্র-পত্রিকায় আমরা মাঝেমধ্যে পড়ে থাকি- “এই বছর চলতি হিসাবে ঘাটতি হয়েছে” অথবা “চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত হয়েছে”। এর মানে কী? যেই বছর আয়-ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেন হতে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি করি তখন চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত হয় অন্যথায় ঘাটতি হয়। অর্থাৎ কারেন্ট একাউন্টে যখন ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয় তখনই উদ্বৃত্ত হয়, বিপরীতে ঘাটতি হয়।

বৈদেশিক মুদ্রায় আয়-ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেন মুলত চার উপায়ে হয়ে থাকে। যেমন- পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সেবা ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগের লাভ-ক্ষতি এবং ট্রান্সফার ইত্যাদি। তাই কারেন্ট একাউন্টকে চার ভাগে ভাগ করা হয়-
ক) ট্রেড ব্যালেন্স (পণ্য ক্রয়-বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত আয়-ব্যয় এখানে দেখানো হয়, অর্থাৎ রপ্তানি ও আমদানি);
খ) সার্ভিস ইনকাম (সেবা/সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত আয়-ব্যয় এখানে দেখানো হয়);
গ) প্রাইমারি ইনকাম (বেতন-ভাতা, সুদ, ও মুনাফা এখানে দেখানো হয়); ও
ঘ) সেকেন্ডারি ইনকাম (গভর্নমেন্ট ট্রান্সফার, প্রাইভেট ট্রান্সফার যেমন ওয়ার্কার্স’ রেমিটেন্স)।

দুই) ক্যাপিটাল একাউন্ট
এই হিসাবের একটি মাত্র উপহিসাব আছে। তা হলো ক্যাপিটাল ট্রান্সফার। যাতে ফিক্সড এসেটের হস্তান্তর, বৈদেশিক দায় অবমুক্তি, অনুদান প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিন) ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট
এই হিসাবের মোট উপহিসাব চারটি। যথা-
১. ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট;
২. ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট;
৩. অন্যান্য বিনিয়োগ (এর মধ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংকের নস্ট্রো একাউন্টগুলোর হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে); ও
৪. রিজার্ভ এসেটস (এই ফিগার দেখে চলতি বছরে একটি দেশ কি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অতিরিক্ত অর্জন করল কিংবা হারাল তা জানা যায়)।

ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের হিসাব বিজ্ঞান
নিম্নে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের হিসাব বিজ্ঞান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

এক) কারেন্ট একাউন্ট/ চলতি হিসাব
এটিকে চলতি হিসাব না বলে চলতি আয় বললে এই হিসাবের হিসাব বিজ্ঞান/একাউন্টিং বুঝতে সুবিধা হয় বৈকি। আমরা জানি, হিসাব বিজ্ঞানে আয় হলো ক্রেডিট এবং ব্যয় হলো ডেবিট। তাই চলতি হিসাব/কারেন্ট একাউন্টকে চলতি আয় হিসেবে ধরে নিলে এটা যে ক্রেডিট হিসাব হবে তা বুঝতে সুবিধা হয়। কোন বৈদেশিক লেনদেন হতে আয় হলে কারেন্ট একাউন্টে তা ক্রেডিট করা হয় এবং ধনাত্মক অংকে দেখানো হয়, বিপরীতে ব্যয় হলে ডেবিট করা হয় এবং ঋণাত্মক অংকে দেখানো হয়। মুলত ক্রেডিট সবসময় ধনাত্মক অংকে আর ডেবিট সবসময় ঋণাত্মক অংকে লেখা হয়।

দুই) ক্যাপিটাল একাউন্ট এবং ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট
এই দুই হিসাবে যেহেতু সম্পদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাই এ দুই একাউন্ট হলো ডেবিট হিসাব। কোন বৈদেশিক লেনদেনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পদ বৃদ্ধি পেলে ক্যাপিটাল একাউন্টে/ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্টে তা ডেবিট করা হয় এবং ঋণাত্মক ফিগারে দেখানো হয়, বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পদ হ্রাস পেলে ক্রেডিট করা হয় এবং ধনাত্মক ফিগারে দেখানো হয়।

হিসাব বিজ্ঞানে যাদের দখল ভালো তারা ইতোমধ্যেই হয়ত কারেন্ট একাউন্টের সাথে ইনকাম স্টেটমেন্টের এবং ক্যাপিটাল একাউন্টের সাথে ব্যালেন্স শীটের কিছু মিল ও কিছু অমিল খুঁজে পাচ্ছেন, তাই না? এই মিল-অমিলে একটু চোখ বুলানো যাক।

কারেন্ট একাউন্টের সাথে ইনকাম স্টেটমেন্টের মিল-অমিল
মিলঃ ১) উভয় ক্ষেত্রে আয় ক্রেডিট এবং ব্যয় ডেবিট।
২) উভয় ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের (Period of Time) আয়-ব্যয়ের হিসাবায়ন করা হয়।
অমিলঃ ১) কারেন্ট একাউন্টে সামগ্রিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রায় আয়-ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয় কিন্তু ইনকাম স্টেইটমেন্ট কোন প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় দেখানো হয়। সাধারণভাবে ইনকাম স্টেইটমেন্টের সাথে অমিল নেই ধরে নেয়া যায়।

ক্যাপিটাল একাউন্টের সাথে ব্যালেন্স শীটের মিল-অমিল
মিলঃ ১) উভয় ক্ষেত্রে সম্পদ বৃদ্ধিকে ডেবিট এবং সম্পদ হ্রাসকে ক্রেডিট ধরা হয়।
অমিলঃ ১) গুরুত্বপূর্ণ অমিলটি হলো- ক্যাপিটাল একাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ের (Period of Time যেমন এক বছর সময়) সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি হিসাবায়ন করা হয় কিন্তু ব্যালেন্স শীটে কোন Point of Time (যেমন ৩১ ডিসেম্বরের ব্যালেন্স) এর সম্পদ-দায়ের স্থিতি দেখানো হয়।
২) ক্যাপিটাল একাউন্টে সামগ্রিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত হয় কিন্তু ব্যালেন্স শীটে কোন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বা দায়ের হ্রাস-বৃদ্ধি দেখানো হয়।
৩) ক্যাপিট্যাল একাউন্টে শুধুমাত্র মানিটারী গোল্ড, স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাকে মার্কিন ডলারে পরিমাপ করে দায়-সম্পদের হিসাবায়ন করা হয় (অন্যান্য বিভিন্ন রকমের সম্পদগুলোকে এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয় না), কিন্তু ব্যালেন্স শীটে টাকার (স্থানীয় মুদ্রা) অংকে পরিমাপযোগ্য সমস্ত সম্পদকে টাকায় পরিমাপ করে দায়-সম্পদ হিসাবায়ন করা হয়।

ব্যালেন্স অব পেমেন্টস কি সবসময় ব্যালেন্সে থাকে?
অর্থনীতিবিদেরা সবসময় বলে থাকেন, Balance of Payments always Balances.
অর্থাৎ কারেন্ট একাউন্ট + ক্যাপিটাল একাউন্ট + ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট = ০ (শূন্য)।
এটা সবসময় ব্যালেন্সে থাকে ঐ দুতরফা দাখিলার কারণে। প্রতিটি লেনদেন একদিকে কারেন্ট একাউন্টে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং অন্যদিকে ক্যাপিটাল (ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট সহ) একাউন্টে অন্তর্ভুক্ত হবে যে কারণে ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়। অথবা, লেনদেন শুধুমাত্র ক্যাপিটাল (ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট সহ) একাউন্টের মধ্যেই হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটাবে তাই ব্যালেন্স বজায় থাকবে।

অন্যভাবে বলা যায়,
ক) কোন লেনদেনে একদিকে আয় হলে অন্যদিকে সম্পদ বাড়ে তাই ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ব্যালেন্সে থাকে। অর্থাৎ আয়ের কারণে কারেন্ট একাউন্টে ও সম্পদ বৃদ্ধির কারণে ক্যাপিটাল একাউন্টে (ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট সহ) একই পরিমাণ পরিবর্তন হওয়ায় ব্যালেন্স বজায় থাকে।
[আয়ের জন্য ক্রেডিট (ধনাত্মক)+সম্পদ বৃদ্ধির জন্য সম পরিমাণ ডেবিট (ঋণাত্মক) = শূন্য]।

খ) কোন লেনদেনে একদিকে ব্যয় হলে অন্যদিকে সম্পদ কমে তাই ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ব্যালেন্সে থাকে। অর্থাৎ ব্যয়ের কারণে কারেন্ট একাউন্টে ও সম্পদ হ্রাসের কারণে ক্যাপিটাল একাউন্টে (ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট সহ) একই পরিমাণ পরিবর্তন হওয়ায় ব্যালেন্স বজায় থাকে।
[ব্যয়ের জন্য ডেবিট (ঋণাত্মক)+সম্পদ হ্রাসের জন্য সম পরিমাণ ক্রেডিট (ধনাত্মক) = শূন্য]।

গ) কোন লেনদেনে একদিকে সম্পদ বৃদ্ধি ও অন্যদিকে সম্পদ হ্রাস পাওয়ার পরিস্থিতিতেও ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ব্যালেন্সে থাকে। অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধির কারণে ক্যাপিটাল একাউন্টে (ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট সহ) যে বৃদ্ধি ঘটে তা অন্যদিকে সম্পদ হ্রাসের কারণে একই পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় ব্যালেন্স বজায় থাকে।
[সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ডেবিট (ঋণাত্মক)+সম্পদ হ্রাসের জন্য সম পরিমাণ ক্রেডিট (ধনাত্মক) = শূন্য]।

Errors & Omissions
কিন্তু কিছু কিছু কারণে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের এই ব্যালেন্স বিঘ্নিত হয়। লেনদেনের উভয় দিক সঠিকভাবে ব্যালেন্স অব পেমেন্টেস অন্তর্ভুক্ত না হলে ব্যালেন্স নষ্ট হয়। এই পরিস্থিতিতে গরমিলের পরিমাণকে Errors & Omissions হিসাবে দেখানো হয়। উদাহরণঃ যখন আমদানির বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নস্ট্রো হিসাব থেকে আমদানি দায় পরিশোধ করা হয় তখন স্বাভাবিক নিয়মে একদিকে কারেন্ট একাউন্টে আমদানি হিসেবে এন্ট্রি দেওয়া হবে এবং অন্যদিকে ক্যাপিটাল একাউন্টে (ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্ট সহ) বাণিজ্যিক ব্যাংকের নস্ট্রো একাউন্টে এন্ট্রি দেওয়া হবে। কিন্তু কোন কারণে যদি আমদানি দায় নস্ট্রো একাউন্ট থেকে পেমেন্ট হওয়ার পরও পরিশোধের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করা না হয় সেক্ষেত্রে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসে ব্যালেন্স থাকবে না এবং সম পরিমাণ Errors & Omissions তৈরি হবে। এর পরিমাণ খুব বেশি হয়ে গেলে ব্যালেন্স অব পেমেন্টস প্রস্তুতকরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

লেখকঃ আব্দুল কাদের সোহেল
উপপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply