ইক্যুইটি শেয়ারের সুবিধা ও অসুবিধা

0
563

কোম্পানি আইন অনুযায়ী যে শেয়ার মালিকদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য কোম্পানিতে অধিক থাকে অথচ সাধারণ ভিত্তিতে লভ্যাংশ ভোগ করে এবং মূলধন ফেরত পায় তাকে সাধারণ শেয়ার বলে। কোম্পানি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বোত্তম শেয়ার হচ্ছে- ইক্যুইটি শেয়ার বা সাধারণ শেয়ার। আর এই ইক্যুইটি শেয়ারের সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

ইক্যুইটি শেয়ারের সুবিধা
বিনিয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের কিছু সুবিধা রয়েছে। নীচে এই শেয়ারের কয়েকটি সুবিধা উল্লেখ করা হলো-
১. অধিক আয়: একটি ভাল সাধারণ শেয়ার বিনিয়োগ করা হলে বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো আয়ের উৎস হতে পারে। বিনিয়োগের অন্যান্য উৎস যেমন: অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার থেকে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট হাওে আয় পেয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ শেয়ার থেকে আয় নির্দিষ্ট থাকে না। ফলে কোম্পানি অধিক আয় করলে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত আয়ও বৃদ্ধি পায়।
২. সীমাবদ্ধ দায়: সাধারণ শেয়ার মালিকরা যৌথভাবে কোম্পানির ঝুঁকি বহন করে। কোনো অবস্থাতেই একজন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি তার বিনিয়োগকৃত অর্থের অধিক হয় না। তাই সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের শেয়ারের পরিমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।
৩. তারল্য: সাধারণ শেয়ার বিনিয়োগকারীর কাছে তরল সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ যেকোনো সময় সাধরন শেয়ার বিক্রয় করে নগদ টাকায় রূপান্তর করা যায়।

এছাড়াও ইক্যুইটি শেয়ারের আরো কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন-
• শেয়ারের মূল্য লাভের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসিত হয়।
• ইক্যুইটি শেয়ার খুব সহজেই পুঁজিবাজারে বিক্রি করা যায়।
• উচ্চ লাভের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররা উচ্চ লভ্যাংশ পায়।
• ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রয়েছে।
• শেয়ারহোল্ডাররা দুটি পদ্ধতিতে লাভ করে থাকে। একটি বার্ষিক লভাংশ অন্যটি বিনিয়োগ মূল্যের উপর।
• কোম্পানি মূলধনের স্থায়ী উৎস এবং তারা কোনও পরিশোধের জন্য দায়বদ্ধ নয়।
• লভাংশের পরিশোধ বিষয়ে কোম্পানির কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
• বৃহত্তর ইক্যুইটি মূলধন ও মূলধন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানির ক্রেডিট যোগ্যতা বাড়ায়।

ইক্যুইটি শেয়ারের অসুবিধা
বিনিয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। নীচে ইক্যুইটি শেয়ারের অসুবিধা সমূহ উল্লেখ করা হলো-
১. ঝুঁকি: সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। শেয়ারবাজারে অনেক ফটকা বিনিয়োগকারী বা জুয়াড়ি থাকে যারা শেয়ারের মূল্যকে প্রভাবিত করে থাকে। ফলে সঠিক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে না পারলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
২. মুনাফা ও সম্পত্তি বণ্টনে অধিকার: কোম্পানির লভ্যাংশ বণ্টনের সময় অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রের মালিকদের প্রাপ্ত আয় সবার আগে পরিশোধ করা হয় তারপর যদি কোন অথর্ অবশিষ্ট থাকে তা সাধারণ শেয়ার মালিকদের মধ্যে বন্টন করা হয়। আবার কোম্পানি অবসায়ন সময় সম্পত্তি বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সকল দায় পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট অর্থ শেয়ার মালিকদের মাঝে বন্টন করা হয়। অর্থাৎ, উভয় ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্র মালিকদের দাবি পূরণের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ার মালিকদের চেয়ে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়।

এছাড়াও ইক্যুইটি শেয়ারের আরো কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন-
• ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডাররা বিক্ষিপ্ত এবং অসংগঠিত এবং তাই তারা কোম্পানীর বিষয়গুলির উপর কোন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে পারে না।
• ইক্যুইটি শেয়ারের বাজার মূল্য খুব ব্যাপকভাবে উর্ধ্বগামী হয়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ভ্যালুকে নষ্ট করে দেয়।
• নতুন শেয়ার ছাড়া হলে শেয়ারহোল্ডারদের উপার্জন কমিয়ে আনা হয়।
• আর্থিক সব উৎসের চেয়ে ইক্যুইটির খরচ উচ্চ।
• ইক্যুইটি শেয়ারে লভ্যাংশ প্রদান কর ছাড়যোগ্য ব্যয় নয়।
• অর্থের অন্যান্য উৎসের তুলনায় ইক্যুইটি শেয়ারেই দালালের খরচ, কমিশন ইত্যাদি জড়িয়ে থাকে।

Leave a Reply