NI Act, 1881 এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলা

1
1192

The Negotiable Instruments Act, 1881 (হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন) এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলা। ফেসবুকে বা অনলাইনে চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলা সংক্রান্ত অনেক লেখা আছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু Write Up আছে খুব ভালো, তারপরও আমরা আমাদের মত করে লিখছিঃ

প্রশ্নঃ শুধু কি ”অপর্যাপ্ত তহবিলের” জন্য চেক প্রত্যাখ্যাত হলে আপনি মামলা দায়ের করতে পারবেন?
উত্তরঃ না, যেকোন কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হলেই আপনি মামলা দায়ের করতে পারবেন। যেমন- আপনি চেক দিয়েছেন বন্ধ একাউন্টের বা চেক দেয়ার পরে একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন বা চেক দিয়েছেন স্থগিত (Dormant) একাউন্টের বা এমন একাউন্টের যেখানে Stop Payment Instruction দেয়া আছে, বা আপনার স্বাক্ষর এক রকম, আপনি করেছেন আরেক রকম, বা চেকে টাকার পরিমাণ অংক ও কথায় দুই রকম লিখেছেন ইত্যাদি। আবার ধরা যাক, আপনি মজা করে আপনার বন্ধুকে একটি চেক দিয়েছেন, আসলে সে আপনার কাছে কোনো টাকাই পায় না। এই চেকও যদি প্রত্যাখ্যাত হয়, আইন অনুযায়ী আপনি চেকের টাকা দিতে বাধ্য। অর্থাৎ যিনি চেক দিচ্ছেন তার কাছে যাকে চেকটা দেয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি টাকা পান কিনা তা মূখ্য বিষয় নয়। আপনি একটি চেক দিয়েছেন এবং তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে মানে হচ্ছে আইন অনুযায়ী আপনি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Criminal Offence punishable under the law) করেছেন।

প্রশ্নঃ আইনে কি শাস্তির বিধান রয়েছে?
উত্তরঃ চেকের অংকের ৩ (তিন) গুণ পর্যন্ত জরিমানা অথবা ১ (এক) বছর পর্যন্ত জেল অথবা উভয় দন্ড। তবে মনে রাখবেন, চেকের অংকের যতগুণ পর্যন্ত জরিমানাই আরোপ হোক না কেন, বাদী কিন্তু চেকের সমপরিমাণ অর্থই পাবেন, বাকী অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা হবে।

প্রশ্নঃ শাস্তির বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?
উত্তরঃ দোষী সাব্যস্ত হলে আপনি আপিল করতে পারবেন, কিন্তু ওই আদালতে আগে আপনাকে জরিমানার ৫০ ভাগ অর্থ জমা দিতে হবে।

প্রশ্নঃ ব্যাংকগুলো কেন চেকের মামলা পছন্দ করে?
উত্তরঃ ব্যাংকগুলো কেন চেকের মামলা পছন্দ করে তার কারণ হলো-
১) আসামী আদালতে হাজির না হলে সহজেই গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু হয়;
২) মামলার জন্য নির্ধারিত প্রায় প্রতি তারিখেই আসামীকে আদালতে হাজির থাকতে হয়;
৩) মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়; এবং
৪) একবার রায় হয়ে গেলে, জরিমানার অন্তত ৫০ ভাগ অর্থ জমা না দিয়ে কোনো আপিল করা যায় না।

প্রশ্নঃ মামলা দায়েরের পূর্বে কোন বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হয়?
উত্তরঃ মামলা দায়েরের পূর্বে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে-
১) চেকের তারিখ হতে ৬ মাস সময়ের মধ্যে চেকটি নগদায়নের জন্য উপস্থাপন করতে হবে;
২) চেকটি যেদিন প্রত্যাখ্যাত হবে, সেদিন থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যে চেকের অংকের অর্থ দাবী করে লিখিতভাবে চেক প্রদানকারীকে নোটিশ (নোটিশ প্রদানের নিয়ম নিচে বলে দেয়া আছে) দিতে হবে;
৩) চেক প্রদানকারী ব্যক্তি যেদিন ওই নোটিশটি পাবেন সেদিন থেকে (বা যদি নোটিশ ফেরত আসে তবে ফেরতের দিন থেকে) ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যে চেকের অংকের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে; পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়ের মধ্যে অবশ্যই মামলা দায়ের করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, ৩০ (ত্রিশ) দিন গণনার ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডার দিন গণনা করতে হবে, কার্যদিবস (Working days) নয়।

প্রশ্নঃ নোটিশ প্রদানের নিয়ম কি?
উত্তরঃ লিখিত নোটিশ প্রদানের নিয়ম হলো-
১) চেক প্রদানকারীর নিকট নোটিশ হস্তান্তরের (Hand delivery) মাধ্যমে; অথবা
২) নোটিশ প্রাপকের বাংলাদেশের সাধারণ বা সর্বশেষ বাসস্থান বা ব্যবসায়িক Address এ প্রাপ্তি স্বীকার রশিদসহ রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে; অথবা
৩) ১ টি বহুল প্রচলিত বাংলা সংবাদপত্রে নোটিশ প্রকাশের মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ চেক প্রদানকারী ব্যক্তি যদি কোনো কোম্পানী হয় তাহলে কি হবে?
উত্তরঃ The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৪০ ধারা অনুযায়ী চেকের স্বাক্ষরকারীর বাইরেও ওই কোম্পানীর সকল পরিচালক এবং কোম্পানী পরিচালনার সাথে যুক্ত ম্যানেজার, সেক্রেটারী ইত্যাদি যাদের ইচ্ছাকৃত বা গাফিলতিজনিত কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের সবাইকে আসামী করা যাবে। নোটিশ প্রদান, শাস্তি, আপীল সবই এক থাকবে।

তবে ব্যক্তি বা প্রোপ্রাইটরশীপ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চেকে স্বাক্ষরকারীর বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। কোন ব্যক্তিগত জামিনদার বা বন্ধকদাতার বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না, যদি না তারাও চেকের স্বাক্ষরকারী হন। আবার চেকের স্বাক্ষরকারী মারা গেলে উত্তরাধিকারীদের বিরূদ্ধে মামলা করা যাবে না।

কার্টেসিঃ Mybank Bd

১টি মন্তব্য

  1. অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরীতে যোগদানের সময় স্বাক্ষরযুক্ত তারিখবিহীন ব্ল্যাংক চেক জমা রাখে। এক্ষেত্রে চাকরী ছেড়ে দিলে মামলা করার হুমকি দেয়। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

Leave a Reply