নিজের ভুল খুঁজে পান না ৪৬ শতাংশ ব্যাংকার-বিআইবিএম

0
1549

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ অহংকার ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে অনেক ব্যাংকার মনে করেন নেতৃত্ব বিষয়ক কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজনই নেই তাদের। নিজেদের কোনো ভুল খুঁজে পান না এমন ব্যাংকারের সংখ্যা ৪৬ শতাংশের বেশি। এছাড়া পরিচালনা যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের কোনো চিন্তাই করেন না ১৯ শতাংশ ব্যাংকার। এরকম নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (বিআইবিএম) এর এক গবেষণা প্রতিবেদেনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সোমবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘লিডারশীপ অ্যাপ্রোসেস, অ্যান্ড ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স: দ্যা কেস অব দ্যা ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

ব্যাংকে কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকদের নেতৃত্ব খুব ভালো এবং আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব ও সুশাসনের উন্নয়নে ব্যাংকিং খাতে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো: আহসান হাবীব।

তিনি বলেন- ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের নেতৃত্ব গড়পড়তা এবং সন্তোষজনক। বিশেষ করে ঋণগ্রহীতা চিহ্নিতকরণ, খেলাপী ঋণ আদায়, লক্ষ্য নির্ধারণ, ডেভেলমেন্ট ব্যাংকিং, সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা প্রণয়ন এবং ব্যাংকারদের প্রমোশনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বোর্ড সদস্য, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শাখা ব্যবস্থাপকদের নেতৃত্বে ব্যাংক কর্মীদের যোগ্যতা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে গড়পড়তা এবং সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এটিকে আরও ভালো এবং অত্যন্ত ভালো করার সুযোগ রয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস.এম মনিরুজ্জামান বলেন- ব্যাংকের দক্ষ এবং কার্যকরী নেতৃত্বের সংকটের কারণে খেলাপী ঋণ, তারল্য সংকট এবং অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্ধ করতে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক অলাভজনক ব্যাংককে অল্প সময়ের মধ্যে লাভজনক করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন- ব্যাংকের যারা নেতৃত্ব দেবে তাদের ব্যাংকিং ধারণা স্পষ্ট থাকতে হবে। ব্যাংকিং সম্পর্কে পুরো ধারণা না থাকলে অধস্তনদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। ৯০ শতাংশ সিদ্ধান্ত সঠিক হলে মনে করতে হবে সে ভালো নেতা। সফলতা সবাইকে ভাগ করে নিলে আগামী দিনে কাজে সুবিধা হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন-পরিচালনা পর্ষদ এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভালো সম্পর্ক জরুরী। যোগ্য নেতৃত্বই একমাত্র ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় রোধ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো: ইয়াছিন আলি বলেন- বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্বেও সংকট প্রকট। সব কাজে দক্ষতা থাকলেও নেতৃত্বের গুণাবলী না থাকলে কাজে লাগবে না।

সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. কামাল হোসেন বলেন- যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু বড় ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের জন্য ব্যাংকাররা আংশিকভাবে দায়ী। ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে, এ সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তনও দরকার।

মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সফিউল্লাহ আজম বলেন- ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিভিন্ন ধরণের চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার, বোর্ড এবং ব্যবসায়িক চাপ থাকবে তা মোকাবেলার মতো নেতৃত্ব দরকার। ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের না বলার ক্ষমতা থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল মজিদ ব্যাংকে সুশাসনের ওপর জোরারোপ করেন।

Leave a Reply