৩৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড

0
239

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ সাফল্যের গীতি কাহিনী: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

চৌত্রিশতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আজকের এই শুভ দিনে ব্যাংকটির সকল স্তরের জনশক্তি, গ্রাহক – শুভানুধ্যায়ী সহ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে এর সাথে জড়িত সকলকে প্রান ঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ইসলামী ব্যাংক শুধুমাত্র একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি আন্দোলন, একটি ইতিহাস, একটি সাফল্য গাঁথা। বিংশ শতাব্দীতে সুদের ঘৃণ্যতম অভিশাপ থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মুক্তির এক নিরন্তর লড়াইয়ের সূচনা। নীতি-নৈতিকতাহীন ঘৃন্য পুঁজিবাদ আজকে মানুষের এ দুনিয়াটাকে শোষক ও শোষিত এই দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। এক শতাংশ মানুষের হাতে ৯৯ শতাংশ সম্পদ পুঞ্জিভূত করার মত অবস্থায় নিয়ে এসেছে এই ঘৃন্য পুঁজিবাদী ব্যবস্থা।

সুতরাং ইসলামী ব্যাংকের লড়াই শুধু প্রফিটে প্রথম হওয়া নয়, যদিও সাফল্যের এটিও একটি ছোট ইন্ডিকেটর। অতএব, এ লড়াই বড় দীর্ঘ, এ পথ বড় কন্টকাকীর্ন। একটি সুবিচার ও ইনসাফ ভিত্তিক ইসলামেী অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করতে হবে প্রতিটি কর্মীকে। ব্যাংকটিকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ছিল সাফল্যের মুল চাবি কাঠি। বিশেষ করে এর সর্বস্তরের জনশক্তির সীমাহীন শ্রম, ত্যাগ ও কোরবানীর যথা যথ মূল্যায়ন নিশ্চিৎ করার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

প্রচন্ড প্রতিকুলতার মধ্যেও জনগন যে ভাবে ব্যাংকটির উপর অবিশ্বাস্য আস্থা রেখেছে, তাদেরকে সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করে এই আস্থার জায়গাটাকে আরো মজবুত ও প্রশস্ত করতে হবে। ঈদানীং ব্যক্তিগত ভাবে এবং ভার্চুয়াল অঙ্গনে ব্যাংকের সেবার মান নিয়ে কিছু কথাবার্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে; হতে পারে তার সবটুকু সত্য নয়। কিন্তু এর সামান্যটুকুও সত্য হলে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। জনশক্তির একটি বাস্তব মুখী পরিসংখ্যানের মাধ্যমে প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারন করার বিষয়টি সেই ২০০৭ সাল থেকেই ঝুলে রয়েছে। গ্রাহকদের প্রচন্ড চাপ সামলাতে কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, এটি বাস্তবতা এবং এ কারনে গ্রাহক সেবার মান নিম্ন মুখী হতেও পারে। জনগন একবার মুখ ফিরিয়ে নিলে বিপদ কিন্তু সর্বগ্রাসী হবে।

দিকচক্রবালের কোথাও যখন ইসলামী ব্যংক ব্যবস্থার সফলতার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং এটাকে একটি ইউটোপিয়ান ধারনা বলে মনে করা হতো, সেই সময় যে মহতপ্রান মানুষগুলো দূর্দান্ত হিম্মত নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন একটি সুদ মুক্ত ইসলামী ব্যংক প্রতিষ্ঠায় শুধুমাত্র তাদের মালিকের সন্তুষ্টির আশায়, আর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীগণ নিশ্চিত জীবনের হাতছানিকে ভ্রুকুটি দেখিয়ে এ ব্যাংকে যোগদান করেছিলেন, তাদের মধ্যে যারা চলে গেছেন তাদের মালিকের কাছে, ব্যাংকের একজন প্রাক্তন কর্মী হিসেবে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লাহর কাছে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার কামনা করছি। আর এখন যারা এই বিশাল মহীরুহ সামাল দিচ্ছেন তাদের সফলতা, সার্বিক কল্যান এবং দুনিয়া আখিরাতের কামিয়াবীর জন্য হৃদয় ভরা দোয়া করছি।

সৌজন্যেঃ নুরুল ইসলাম খলিফা

Leave a Reply