২৫ শতাংশ গ্রাহকই ইসলামী ব্যাংকিংয়েরঃ সিএসবিআইবি চেয়ারম্যান

0
1147

দরিদ্র ও বৈষম্যের জন্য প্রথাগত ব্যাংকিং পদ্ধতি দায়ী। এজন্য বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ইসলামী ব্যাংকিং সেবা নেয়ায় মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের এক-চতুর্থাংশ গ্রাহকই ইসলামী ব্যাংকিংয়ের। বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের (সিএসবিআইবি) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযীযুল হক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

রাজধানীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সিএসবিআইবি। এম আযীযুল হক ‘ইসলামী ব্যাংকিং শিল্পের অগ্রগতিতে মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন। সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইসলামিক ব্যাংকস কনসালটেটিভ ফোরাম (আইবিসিএফ) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম নুরুল ফজল বুলবুল। সভায় এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ সাংবাদিকদের উদ্দেশে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের পরিচিতি ও কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এম আযীযুল হক বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের। সব মিলে দেশের শিল্প খাতে মোট বিনিয়োগের ৩১ শতাংশই এসেছে ইসলামী ব্যাংকিং থেকে। দেশে এখন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক। সারা বিশ্বে দারিদ্র্য ও সম্পদের বৃদ্ধি— দুটোই সমান তালে হয়েছে। আর এর জন্য প্রথাগত ব্যাংকই দায়ী। কারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা সঞ্চয়ের জন্য ব্যাংকে অর্থ রাখছেন। এ অর্থ আবার ঋণ হিসেবে গ্রহণ করছেন সম্পদশালী উচ্চবিত্তরা। এ ঋণ কাজে লাগিয়ে তারা আরো সম্পদের মালিক হচ্ছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে যাদের টাকা আছে, তাদের কোনো সম্পদ হচ্ছে না। আবার যাদের সম্পদ আছে, তাদের টাকার পরিমাণ কম।

ইসলামী ব্যাংকিংয়ে এখনো অনেক পথ এগুতে হবে জানিয়ে এম আযীযুল হক বলেন, প্রথাগত ব্যাংক ক্যাপিটালিজমকে যেমন উস্কে দিচ্ছে, তেমনি আইন ও নীতিমালা না হলে ইসলামী ব্যাংকগুলোও ক্যাপিটালিমজকে উস্কে দেবে। তবে সেটা হবে ইসলামী কায়দায়। দেশের ব্যাংকিং খাতের সম্প্রসারণে সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারেন।

এ সময় ইসলামের অন্যান্য বিধান বাস্তবায়ন করা না গেলে দেশে ইসলামী ব্যাংকিংও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমানত ও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাংকিংয়ে আগেই সুদ ঘোষণা করা হয়। আর ইসলামী ব্যাংকিংয়ে বছর শেষে হিসাব করে মুনাফা বণ্টনের কথা বলা হয়ে থাকে। যদিও বাস্তবে সেটি করা যায় না। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়েই প্রচলিত ধারার ব্যাংক নির্ধারিত ঋণ ও আমানতের সুদ গ্রহণ ও পরিশোধ করতে হয়।

এ কে এম নুরুল ফজল বুলবুল বলেন, আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে কখনো কখনো ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অন্যতম কর্মসূচি হচ্ছে সামাজিক বৈষম্য দূর করা৷

Leave a Reply