রমজানের শিক্ষা: প্রকৃতি ও বিকৃতি ১ম পর্ব

0
239

রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতে বার্তা নিয়ে প্রতি বছরই আসে মাহে রমজান। হাদিসের ভাষায় মহিমান্বিত এ মাস মুসলিম উম্মাহর উৎসাহ এবং পরম আগ্রহের বিষয়। পবিত্র কুরান নাজিল, ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয়ের মত আলোড়ন সৃষ্টিকারি এবং বিপ্লবাত্নক ঘটনায় সমৃদ্ধ রমজান মাস যথাযথ উদ্দীপনারও সওগাত মুসলিম মানসে। মুসলমানদের নিকট সারা বছরই আগ্রহ এবং হিসাবের বিষয় হলেও রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয় রজব মাস থেকেই। মাহে রজব এলেই রাসূল সা: দোয়া শুরু করতেন এই বলে- “ আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা’বান ও বাল্লিগনা রমাজান। অর্থাৎ হে আল্লাহ আাপনি রজব এবং শা’বান মাসে আমাদের উপর বরকত নাযিল করুন এবং রমজান পর্যন্ত আমাদেরকে হায়াত দিন।” রমজান থেকে রমজান ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্তর জুড়ে অবস্থান করা প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হয়েও যেন হয় না শেষ। রজব এবং শা’বান রমজান মাসের প্রস্তুতিমূলক মাস। ১৫ শা’বানের রাত্রিতে বিশেষ ইবাদাত এবং দিনে নফল রোজা রেখে মুসলমানরা কার্যত: রমজানকে বরণ করার মহড়া দিয়ে থাকে।

রমজানের গুরুত্ব: আল্লাহ তায়াল মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। আবার ইবাদতের সমস্ত বিধানাবলীও এজন্যই প্রবর্তন করেছেন যাতে মানুষের মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জিত হয়। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন “ হে মানব মন্ডলী তোমরা ইবাদাত করো তোমাদের সেই রবের যিনি তোমাদের কে এবং তোমাদের পূর্ববর্তিদেরও সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার [সূরা বাকারাহ আয়াত নং ২১]। এতো গেল গোটা মানব জাতির জন্য ব্যাপক আহবান। শুধু মুমিনদের জন্য ইবাদাতের সম্পর্কের সাথে সফলতার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- হে ঈমানদারগণ তোমরা রুকু কর, সাজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদত কর এবং কলাণকর কাজ করো যাতে তোমরা সফলকাম, হতে পার [সূরা হজ্জ – আয়াত ৭৭]।

রমজানের সীয়াম সম্পর্ক বিবেচনায় তাকওয়ার খুব কাছাকাছি এবং প্রবর্তনের উদ্দেশ্যের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত। যেমনটি অপরাপর বিধানাবলির বেলায় এত সুষ্পষ্ট করে বলা হয়নি কোথাও। আল্লাহ তায়া এরশাদ করেন “ হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর সীয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ কার হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার -[সূরা বাকারা আয়াত নং-১৮৩]।

একটি কমন ভুল: হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী রমজান ইসলামের মৌল পঞ্চ স্তম্ভের একটি। সাধারণভাবে এটাকে তৃতীয় স্তম্ভ বলা হয়। আলেম গায়রে আলেম ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বলতে ১) কালেমা, ২)নামাজ ৩)রোজা ৪)হজ এবং ৫)যাকাৎ এই ধারাবাহিকতা মানেন। এটা কিন্তু ভুল। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী রোযার স্থান পঞ্চম হলেও আত্নিক পরিশুদ্ধতা এবং খোদাভীতি চর্চা বিবেচনায় এই বিধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হযরত ইবনে উমর অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি (এক) এই বলে স্বাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর অন্য কোন ইলাহ বা মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) তাঁর বান্দা ও রাসূল। (দুই) নামায প্রতিষ্ঠা করা। (তিন) যাকাত আদায় করা। (চার) হজ্ব করা এবং (পাঁচ) রমযান মাসে রোযা রাখা। বোধগম্য নয়, কেন এবং কীভাবে হাদিসের ধারাবাহিকতা ভেঙ্গে রোজা ৩য় স্থানে অবস্থান পায়।

সীয়াম সাধনায় মুসলমানদের ব্রত গোটা রমজান মাসে দৃশ্যত: অতি তৎপর রাখে। যদিও সেই তৎপরতা প্রকৃত লক্ষ্য ছেড়ে এখন যেন পথ হারা। সংযমের পরিবর্তে বেপরোয়া, পরিমিত বোধের বদলে অপচয় বাড়াবাড়ি এখন সর্বত্র। এটাকে রোজাদারের আচরণের বিকৃতি বললেও বোধ করি কম হয়। রোজার প্রকৃত শিক্ষা পরিপন্থি এসব বিকৃত আচরণের কতিপয় দিক নিয়েই এখনকার প্রয়াস।

রোজার বাজার: রমজানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোগ্য পণ্যের কেনাকাটার একটি বিকৃত দিক রমজানের ভাব গাম্ভির্যতাকে যেন তামাশায় পরিণত করে। আর তা হলো রমজান মাস আসার আগেই রোজার বাজার বলে বিত্তবানদের এক ধরণের ধুম ধারাক্কার বাজার করার মহাযজ্ঞ। প্রয়োজনীয় অপ্রোয়েজনীয় নানারূপ জৌলুশি বাজার সওদা করার প্রবণতার ফলে হুড়হুড় করে বাড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। এতে মুনাফাখোর মুজুদদারের ব্যবসার পোয়াবারো হয়। বিত্তবানরা এতে বিব্রত না হলেও বিপূল সংখ্যক মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং বিত্তহীনদের জন্য রমজান মাস হয় চিন্তার কারণ। অসুবিধায় পড়ে দেশে থাকা অপরাপর ধর্মে বিশ্বাসী লোকজন। রমজান আসলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে মুনাফাখোর মুজুদদার যেমন দায়ী তেমনি দায়ী রোজাদারের ভোজন বিলাসী মনোবৃত্তি, এবং এক সাথে বেশী পরিমাণে পণ্য ক্রয় করার প্রবণতা।

রমজানের খাবার: রমজান মাসের শিক্ষা এবং চেতনা বিরোধী একটি ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে এই মর্মে যে এ মাসে যা খাওয়া হবে পরকালে তার কোন হিসাব দিতে হবে না। এ ধারণা থেকেই রমজানে মাসে ইফতার, রাতের খাবার এবং সেহরী নিয়ে বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করার মত। আছে দিনে না খেতে পারার খেদ মেটানোর মনোবৃত্তি। যা পুষাতেই সাহরী ইফতার এবং রাতের খাবারে মারত্নক রকমের বাড়াবাড়ি রমজানের ভাগাম্ভির্যতাকে কালিমাযুক্ত করে। ইফতার বাজার নামে শহুরে নানা দৃষ্টিকটু আয়োজনও চোখে পড়ে। আয়োজনের বাড়াবাড়িতে থাকে প্রদর্শনেচ্ছা এবং একে অপরকে ছাড়িয়ে যাবার প্রবণতাও । খেতে পারুক আর নাই পারুক টেবিলে থাকা চাই জনমের আয়োজন। ইফতার শেষে উদ্বৃত্ত খাবারের ঠিকানা হয় বেশীর ক্ষেত্রে ডাস্টবিন। অথচ ইসলামে অপচয় সম্পূর্ণ হারাম। তা রোজার ইফতারে হোক কিংবা অন্য কোনে আয়োজনে হোক।

ধৈর্যের মাসের অধৈর্য্য: হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ি রমজান মাস হচ্ছে شهر الصبر তথা ধৈর্যের মাস। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ে পানাহার না করার যেমন ধৈর্যের বিষয়, তেমনি ধৈর্যের বিষয় পানাহারের সময় পরিমিতবোধ। সেই ধৈর্য এবং পরিমিতবোধের বিনিময়ও রাসূল সা: এর হাদিসে আছে। তিনি বলেন والصبر ثوابه الجنة অর্থ্যাৎ ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাৎ। রোজা ভাঙ্গার পর খাবারের ব্যাপারে আগ্রাসী মনোবৃত্তির ধারকরা রোজার এহেন ফজিলত থেকে মাহরূম হবেন তা হলফ করেই বলা যায়। কারণ একই হাদিসে পরবর্তি বাক্য হলো- وشهر المواساة অর্থাৎ এবং এটি সহমর্মিতার মাস। এটি দরিদ্রদের নিরন্ন থাকার কষ্টের অনুভুতিলব্ধ বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ এবং দরিদ্র জনগোষ্টির পাশে দাঁড়াবার মাস।

রমজান এক মাসের কঠোর অনুশীলন ক্যাম্প: বাস্তবে রমজান মাসটা একটি কর্মঘন রুটি আবদ্ধ মাস। যার প্রথম দিন শুরু হয় তারাবীহর সালাত দিয়ে। ঈশার নিয়মিত এবং নির্ধারিত সালাতের অতিরিক্ত ২০ রাকাত সালাতে তারাবীহ শেষে খুব কম সময়ই পাওয়া যায় সেহরী পর্যন্ত। ফলে রোজাদার তারাবীহর পর নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোতে যেতে পারেন না। নির্ধারিত সময়ে শেষ রাত্রে সাহরী খাবার খেয়ে আবার ফজরের নামাজের অপেক্ষা। রোজাদার বিচানার চুম্বকীয় টান উপেক্ষা করে ছুটে যান ফজরের সালাত জামাতে আদায়ের জন্য মসজিদে। ফজরের পর একটু প্রশান্তির ঘুম। এরপর দিন শুরু মানেই কর্ম শুরু। প্রকৃত রোজাদার কর্ম এবং এবাদতের মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেন। ইচ্ছা করলেও অতিরিক্ত ঘুম দিয়ে রাতের ঘুমের ঘাটতি কাটানেরা সুযোগ পায় না অধিকাংশ রোজাদার। কারো সুযোগ থাকলেও রোজাদারের অতিরিক্ত ঘুমকে অপছন্দনীয় রাখা হয়েছে। দিনের এ সময়ের সকল হিসেবে নিকেশ এবং কর্ম তৎপরতাও পরিচালিত হয় রোজাকে ঘিরে। সালাতুল যোহর, সালাতুল আসরের পর ইফতারের প্রহর গোনা। সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার শুরু করার পর আবার সালাতুল মাগরিবের তাড়া। সালাতুল মাগরিবের পর আবার তারাবীহ। এই যে এমন টাইট রুটিন সেটা কি শুধু জনমের মত খাওয়া আর ভোগের জন্য? যার প্রভাবে বাজারে পণ্যমূল্যে বৃদ্ধি ঘটবে?

সীয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন এবং চুড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তোষ অর্জন। রমজান সংযম আচার, সতর্ক পরিপালন, পরিমিতবোধ এবং সর্বোপরি আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার এক মাসের নিবিড় এবং কঠোর অনুশীলন ক্যাম্প। যার উপর ভিত্তি করে তার বাকি এগারোটি মাস আবর্তিত হওয়ার কথা। অথচ দূ:খজনক হলো এখন বিকৃত এবং বেপরোয়া আচার দিয়েই শুরু এবং শেষ হয় এখন রমজান মাস। মনে রাখতে হবে হারাম উপার্জন মিশ্রিত আয়ের সীমাহীন ভোগ প্রবণতা আর অপচয়ের প্রতিযোগতিা আর যাই হোক কোন রেযাদারকে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত হবার সুযোগ দেয় না।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধি: কথা হচ্ছে রমজানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে। বাস্তবে রমজানে কোনক্রমেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবার কথা নয়। বরং রোজাদারের কৃচ্ছতা এবং পরিমিত আহারের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে এক মাস ধরে নিম্নমুখি প্রবণতা বিরাজ করার কথা। ব্যবসায়ীরা বরং লোকসান কমাবার জন্য ছাড় মূল্যে পণ্য বিক্রির ঘোষণা দিয়ে রোজাদারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করার কথা ভাববে। তা ছাড়া রোজাটা তো শুধু ক্রেতার নয়, বিক্রেতারও। রোজাদার ক্রেতাকে কষ্টে রেখে বিক্রেতাও তার রোজাকে নষ্ট করতে চাইবেন না। রাসূলুল্লাহ সা: এর ঘোষণা وشهر يزداد فيه رزق المؤمن অর্থাৎ রমজান মাসে মুমিনে রিযিকে বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু কৃত্রিম সঙ্কট তৈরী করে হোক কিংবা বাজারে বর্ধিত চাহিদার সুযোগে হোক পণ্যমূল্যের দাম বাড়লে প্রকারান্তরে সীমিত সামর্থের ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়। এর দায়টা আসলে কার? এখানেও দায় সামর্থবান ক্রেতা এবং দূর্বৃত্তপরায়ণ বিক্রেতার। নচেৎ সমস্থ রোজাদার ঐক্যবদ্ধ হয়ে রোজার মাসেও যদি শুধু স্বাভাবিক বাজারটা এক সপ্তাহ ধরে চালায় তাহলেই মজুদদার এবং মুনাফাখোরদের উচিৎ শিক্ষাটা দেয়া যেতো।

ভেজাল প্রবণতা: রমজানে আরো যে বিষয়টা ভাবায় তা হলো পণ্যে ভেজালের আধিক্য। ফরমালিনের ফরমাল আর ইনফরমাল ব্যবহার ফল, মাছ, দুধসহ প্রায় সকল পণ্যকে বিষে পরিণত করার প্রবণতা রমজান মাসেও কিন্ত বন্ধ থাকে না। বন্ধ থাকে না পোড়া বিষাক্ত তেলে ইফতার ভাজা, ভেজাল উপকরণ, অস্বাস্থ্যকর এবং নোংরা পরিবেশে ইফতার তৈরীর মত জঘন্য কর্মকান্ড। দুধ, পানীয়, ভোজ্য তেল, মশলা এবং মুড়ি, চিনিসহ কোন পণ্যই ভেজালমুক্ত পাবার সম্ভাবনা থাকে না একেবারেই। অনেকটা জেনে বুঝে বিষ খাওয়ার অবস্থা, কি রোজার আগে কিংবা রোজার মাসেও। এহেন সকল তৎপরতার পেছনে ব্যবসায়িক সমাজের মনে রোজার এক মাসে সারা বছরের লাভ করার এক ধরণের মনোবৃত্তি কাজ করে। রমজানের রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য যেই তাকওয়া অর্জন তার ছিটে ফোটাও যদি একজন মুসলমান ধারণ করে তাহলে তো সে উৎপাদক, আমদানিকারক, বাজারজাতকারি, পইকারি কিংবা খুচরা ব্যবসায়িই হোন না কেন রোজাদারের কষ্ট হয় এমন কোন কাজ তো তার দ্বারা হতে পরে না। তদুপরি ধৈর্য এবং সহমর্মিতার সবক তো আছেই।

সত্যের রমজান মিথ্যার বেসাতি: রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো মিথ্যা কথা এবং তদনুযায়ি কাজকর্ম পরিত্যাগ করা। রাসূলে মকবুল সা: এরশাদ করেন – যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং তদনুযায়ি কাজ পরিত্যাগ করলো না তার পক্ষে খানা পিনা হতে বিরত থাকা আল্লাহর নিকট অর্থপূর্ণ নয়। রাসূলে মকবুল সা: অপরর এক হাদিসে এরশাদ করেন “ মিথ্যা বলা সকল পাপের মা”। জনৈক সাহাবী রাসূলে খোদা সা: এর নিকট পাপ থেকে বেচে থাকার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ চাইলে মিনি তাকে মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস ত্যাগ করতে বলেন মর্মে নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনায় এসেছে।

কুরানে পাকে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না। (সূরা বাকারা: আয়াত ৪২)। এই আয়াতে কারীমা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সত্য আর মিথ্যা এক হতে পারে না। সত্যকে লুকায়ে রেখে মিথ্যার প্রশ্রয়ে যাওয়া মানবতা বিরুদ্ধ কাজ। ক্ষেত্রবিশেষে অপ্রিয় হলেও সত্য তার সুরভী ছটায়, অকাট্য রূপে বহমান থাকে। সত্যকে যারা প্রত্যাখ্যান করে তারা মানুষের কলঙ্ক। হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহু বর্ণিত একখানি হাদিসে আছে যে, মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি, আর তা হচ্ছে যখন সে কথা বলে তা মিথ্যা বলে, ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে।

হযরত ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা অবশ্যই সত্যকে অবলম্বন করবে, কেননা সত্য সৎকর্মের দিকে ধাবিত করে আর সৎ কর্ম ধাবিত করে জান্নাতের দিকে। কোনো ব্যক্তি যদি সদা সত্য কথা বলে এবং সত্যের প্রতিই সদা মনোযোগ রাখে তা হলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেও সিদ্দীক (সত্যবাদী) হিসেবে তার কথা লিপিবদ্ধ হয়। তোমরা নিজেকে মিথ্যা থেকে রক্ষা করবে, কেননা মিথ্যা অন্যায়ের দিকে নিয়ে যায়, আর অন্যায় নিয়ে যায় জাহান্নামের দিকে। কোনো বান্দা যখন মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যার প্রতিই সে মনোনিবেশ করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেও কাযযাব (অতি মিথ্যুক) বলে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়। (তিরমিযী শরীফ)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সত্য হচ্ছে পবিত্রতা এবং পবিত্রতাই জান্নাতের পথ দেখায় আর মিথ্যা হচ্ছে অপবিত্রতা এবং অপবিত্রতাই জাহান্নামের পথ দেখায়। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)।

মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যাচার করা জঘন্য অপরাধ। মিথ্যা কখনও সুফল বয়ে আনে না। মিথ্যার পরিণাম হচ্ছে ধ্বংস। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিথ্যার অতিপ্রীতির কারণে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে, অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: সুতরাং পৃথিবী পরিভ্রমণ করে দেখো, যারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে তাদের পরিণাম কী হয়েছে? (সূরা নাহল: আয়াত ৩৬)।

মিথ্যা ঈমানকে ধ্বংস করে দেয় আত্মবিশ্বাস ও আত্ম অনুভূতিকে নির্মূল করে দেয় এবং মানবিক মূল্যবোধকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে। একবার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম খুতবা প্রদানকালে বললেন: হে মানুষ! মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার সমপর্যায়ের হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এরপর হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: ফাজতানিবুর রিজসা মিনাল আওছানি ওয়াজতানিবু কাওলাযুর- সুতরাং তোমরা বর্জন করো অপবিত্রতা এবং দূরে থাকো মিথ্যা বলা থেকে। (তিরমিযী শরীফ)।

অথচ আমাদের সমাজের মুসলমানদের কথা এবং কর্মে মিথ্যাশ্রয়ী মনোভাব এখন ডালভাত পর্যায়ে। এমনকি রমজানেও তা ছেড়ে দেবার ছিটেফোটা প্রবণতাও চোখে পড়ে না। অনেকে এমন মিথ্যাবাদিও আছেন আছেন যারা পণ্য বিক্রি বা অন্য কোন উদ্দেশ্য হাসিলে নিজের বক্তব্য অন্যের নিকট বিশ্বাসযোগ্য করা জন্য অবলীলায় বলে থাকেন “আরে ভাই রোযা রেখেও মিথ্যা বলবো?”

ক্রোধান্বিত হওয়া: রমজানের যে রোযার শিক্ষা ধারণ করে রোযাদার তার মুক্তির পথ খোজে পাবার কথা, এখন প্রায়শই শোনা যায় যে সেই রোযাই নাকি আবার রোযাদারকে ধরে। ফলে রোযাদারের মেজাজ খিটখিটে ধরণের হয়ে পড়ে। যার ফলে সে কারণে অকারণে মানুষের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। আর তখন কিছু লোককেও এটা সমর্থন করে কথা বলতে শোনা যায় এই রকম যে, সে তো রোযাদার তাই উল্টাপাল্টা কিছু বলে বা করে ফেলেছে। অথচ এটা রোযার শিক্ষার সম্পূর্ণ খেলাপ কাজ। রমজান মাসকে রাসূলুল্লাহ (সা:) সবর তখা ধৈর্যের মাস যেমন বলেছেন তেমনি বলেছেন-“ কেউ যদি কোন রোযাদারকে হত্যা করতে উদ্দত হয় কিংবা তাকে গালি দেয় তা হলে সে এই বলবে “আমি রোযাদার ব্যক্তি (তোমার সাথে খুনাখুনি কিংবা ঝগাড়য় লিপ্ত হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়)।” এ বক্তব্যে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে, রোযাদার কারো সাথে নিজে তো ঝগড়ার কারণ হবেই না তদুপরি অন্য কেউ গায়ে পড়ে তার সাথে ঝগড়া করতে চাইলে সে তা এড়িয়ে যাবে। আসল কথা হচ্ছে রোযাদারকে রোযা ধরবে না বরং রোজার শিক্ষাটা ধারণ করবে রোজাদার। এখানেই রোজার প্রকৃত উপকারিতা পাবার প্রশ্নটা জড়িত আবশ্যিকভাবে।

ঘুষের লেনদেন: ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন। অথচ অনেক রোজাদার উপার্জনে হালাল হারামের বাচ বিচার করেন না ; এমন কি রমজানেও না। ফলে ঘুষের লেনদেন রমজানে কমার পরিবর্তে বেড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষ্যে রাজপথ থেকে অফিস যতটাই কর্মে সরগরম থাকে ততটাই সরগরম থাকে ঘুষের লেনদেনে। রোজার পনের পার হলে ঘুষ হয়ে যায় ঈদের বকশিশ এবং পরিমাণেও তা বেড়ে যায়। রমজানে রোযাদারের তাকওয়া অর্জনের পথে হারাম লেনেদেন এই ঘুষ এক বড় বাধা। এতে ঘুষ দাতা এবং ঘুষখোর উভয়ের আমলই কুলষিত হয়। পরিণতিতে উভয়েই জান্নাতের পরিবর্তে জাহন্নামের পথে অগ্রসর হয়।

অশ্লীলতা: রমজান মাসের অতি বেদনাদায়ক অধ্যায়টি হলো নারীদের অশ্লীলতা এবং বেহায়াপনার মত গর্হিত কাজ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের মার্কেট, দোকানপাট, রাস্তাঘাট, অফিস আদালত সর্বত্রই নারীদের বেপরোয়া পদচারণায় মুখরিত থাকে গোটা রমজান মাস। হলে হলে অশ্লীল সিনেমা, রাস্তায় অশ্লীল বিলবোর্ড, টিভিতে অশ্লীল শো/ফ্যাশন শো, বিজ্ঞাপন এবং ইত্যকার বেলেল্লাপনা যেনো ঈদের পূর্বের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আর ঈদ ঘিরে বেলাল্লাপনার ষোল আনা আয়োজনের মহড়া টাও রমজান মাসেই নেয়া হয়। রমজান মাসের ভাবগাম্ভির্যতা ব্যাহত করা এই যে প্রচেষ্টা তা যেন দিনদিন বেড়েই চলছে। বাস্তবে ঈমান এবং অশ্লীলতা এক সাথে চলতে পারে না; তা রমজান মাসেই হোক কিংবা রমজানের বাহিরেই হোক। অথচ এখন যা হবার নয় তাই যেন মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে বেশী। অশ্লীলতায় যারা সুড়সুড়ি দেয়, যারা প্রচারে থাকে এবং যারা প্রমোট করে তারা কি কুরানের নির্দেশাবলির কথা জানে নাকি তার তোয়াক্কা করে? আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- “ নিশ্চয়ই যারা এটা পছন্দ করে যে মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না” [-সূরা নূর আয়াত নং-১৯]।

ব্যবসা না রমজান: গোটা রমজান মাস জুড়ে এক শ্রেণীর রোজাদার ব্যবসায়িকে রাতে ঈশা/তারাবীহর নামাজের সময় দোকানপাট খোলা রেখে ব্যবসা করতে দেখা যায়। বিশেষত; রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা রমজানের আবেগ এবং আমেজকে রাতের ক্রয় বিক্রয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ দশকে তা যেন সব আবেগকেই ছাড়িয়ে যায়। কোথায় ঈশা, তারাবীহ কিংবা লায়লাতুল কদর ? সবই যেন নস্যি তাদের ক’দিনে ব্যবসার কাছে। অবশ্য এসময়কার ক্রেতারাই বা মাসুম কেন ? তারা কিনতে না গেলে অধিকাংশ দোকানিই এসময় দোকানই বন্ধ করে নামাজে যেত। আবার দোকান বন্ধ থাকলে গ্রাহকরাও ওদিকে পা মাড়াত না ঘন্টা দেড়েক।

যাকাৎ বিকৃতি/যাকাত প্রদর্শণী: হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী রোজার মাসে নেক আমলের ফজিলত আল্লাহ তায়ালা সাতশতগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। একটি ফরজ পালনে সত্তরটি ফরজ পালনের সওয়াব মিলে। তাই যাকাত আদায়ে সবাই রমজান মাসটাকেই বেচে নেন। এটা নি:সেন্দহে ভালো দিক। কিন্তু মুদ্রার ওপিটে যা দেখা যায় তাতে তো ইসলামে যে উদ্দেশ্যে যাকাৎ ফরজ করেছে তা মারাত্নকভাবে ব্যাহত হয়। আর তা হলো যাকাৎ প্রদানের নামে যাকাৎ গ্রহিতাদের একত্রিত করে শাড়ি লুঙ্গি ইত্যাদি বিতরণ করা। রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং নবোত্থিত শিল্পপতিরা এসব আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের জশ খ্যাতি অর্জন করতে গিয়ে ইতিমধ্যে বহুলোকের প্রাণ হানির কারণ হয়েছেন। যাকাত আদায়ের এই প্রক্রিয়া কোন ক্রমেই ইসলাম সম্মত নয়। ইসলামী শরীয়া যাকাতকে ধনীর সম্পদে গরীবের হক (পাওনা) বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কারো কাছে অন্যের হক (পাওনা) থাকলে হকদার/পাওনাদারের নিকট তার হক/পাওনা যেমন সসম্মানে পৌঁছানো নিয়ম তেমনি যাকাতও গরিবের অবস্থানে গিয়ে দিয়ে আাসা যাকাত দাতারই দায়িত্ব। তদুপরি যাকাতের অর্থ সরাসরি যাকাৎ গ্রহিতাকে না দিয়ে তা দিয়ে শাড়ি/লুঙ্গি কিনে বিতরণ প্রকারান্তরে ইসলামের যাকাৎ বিধানকে বিকৃতি করারই নামান্তর। আর যাকাৎ গ্রহিতার সাথে সে এক নির্মম তামাশার নামান্তর।

খতম তারাবীহ: রমজান মাসে মসজিদে মসজিদে কুরানের খতম তারাবীহ হয়। অনেক মুসলমান নামাজে দাড়িয়ে কুরান শোনার আবেগ উচ্ছাস নিয়ে মাঝে কোন তারাবীহ মিস না করেই নামাজে কুরান খতমের ফজিলত লাভে ধন্য হতে চান। তবে অধিকাংশ মসজিদে তারাবীহর নামাজে হাফেজগণ যেই গতিতে কুরান তেলাওয়াত করেন তাতে নামাজে সওয়াব লাভের বদলে গোনাহ হতে বাধ্য। অনেক মসজিদের ইমাম কাম দ্রুতগতির তেলাওয়াত এবং ধুমধাম রুক সাজদাহর কারণে গেটলক হুজুর খ্যাতি লাভ করেছেন। অবাক করা বিষয় হলো অনেক অন্য মহল্লার মুসুল্লী আগ্রহ করে এই মসজিদে গেটলক তারাবীহ পড়তে আসেন।

অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরান তারতিল সহকারে থেমে থেমে সুষ্পষ্ট আওয়াজে পূর্ণ মাদ্দ এবং গুন্নাহসহ পড়তে বলেছেন। আল্লাহ এরশাদ করেন “ আর স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরান আবৃত্তি কর” -[সূরা মুজাম্মিল আয়াত নং-৪]। তারতিল’ মানে কুরআন থেমে থেমে পাঠ করাকেও বোঝায়। তাড়াতাড়ি বা দ্রুতগতিতে না পড়ে ধীরে ধীরে প্রতিটি শব্দ সুন্দরভাবে মুখে উচ্চারণ করার একটা মাহাত্ম্য আছে। তা হলো এক একটি আয়াত পড়ে থামলে বা বিরতি নিলে মন আল্লাহর বাণীর অর্থ ও তার দাবীকে পুরোপুরি উপলদ্ধি করতে পারবে এবং তার বিষয়বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হবে। তারতিলের ভেতর কুরআনের প্রতিটি শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণ করার বিষয়টিও রয়েছে। উচ্চারণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখার কথা। একটি হলো মাখরাজ বা উচ্চারণ স্থান। প্রতিটি ধ্বনি বাক প্রত্যঙ্গের ঠিক কোন স্থান থেকে উচ্চারিত হবে সেটি জানা এবং সিফাত বা শব্দের অবস্থা ও গুণাবলি অনুযায়ী উচ্চারণ করা। কারণ কুরআনকে সুন্দর করে সুরেলা কণ্ঠে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই খতমের তারাবীহতে আছে নামাজের কীয়াম, রুকু, সাজদা এবং বৈঠকাদি ধীরস্থিরভাবে না করার প্রতিযোগিতা যা তা’দীলে আরকান লঙ্ঘন করার শামিল। অথচ রাসূলে করিম (সা:)তা’দিলে আরকান ছাড়া নামাজ আদায়কারি মুসল্লীকে বলেছেন “তুমি (আবার) নামাজ পড়; কারণ তুমি তো নামাজই পড়নি।”

সাতাশের আগে পরে: তারাবীহসহ ঈশার নামাজ পড়তে মুসল্লীদের ভীড়ে প্রথম দিকে মসজিদে জায়গা সংকুলান কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দিন গড়াতে গড়াতে মৌসুমী মুসল্লী সংখ্যায় ভাটা পড়তে থাকে। পনের’র পর প্রথম দিনের মুসুল্লীর অর্ধেকে নেমে আসে অনেক জায়গায়। তবে সাতাশের রাত্রি যেন সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দেয়। সকল মসজিদ মুসুল্লীতে টুইটুম্বুর। এ রাতে নামাজে কুরান খতম শেষের মুনাজাতের আকর্ষণে অনেকেই আসেন মসজিদে। অনেকেই মধ্যরাত কেউ কেউ পূর্ণ রাত মসজিদে কাটিয়ে দেন। এ সাতাশের পরই বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মত সবাই ছুটেন মার্কেটের দিকে। কেনা কাটার ধুমে সব ভুলে যায় মুসলমান। ঈশার জামাতে মুসল্লী কমে প্রায় রমজানের আগে পরের হালতে চলে আসে। রমজান শেষ হবার আগেই মুসলমান ছাড়তে শুরু করে একমাস সীয়াম সাধনার শিক্ষা।

ঈদের কেনাকাটা: রমজান মাসে ঈদের কেনাকাটা বলে একটা ব্যাপারও বড় স্থান করে নিয়েছে মুসলিম সমাজে। ফলে রমজান মাস শুরু হবার পর থেকেই কাপড় চোপড়, জুতা এবং প্রসাধনির মার্কেট সরগরম হয়ে ওঠে। দিন যত এগুতে থাকে কেনাকাটার ধূমও ততই বাড়তে থাকে। আর দিবারাত্রির এসব কেনাকাটায় অগ্রণী ভূমিকায় থাকেন সবসময় এবং সর্বত্রই নারী। যাদের অধিকাংশের পোষাক এবং আচরণ দেখে বুঝারও উপায় থাকে না এর কি রোযাদার নাকি মুসলিম নারী?

লেখকঃ মো: মোসলেহ উদ্দিন
একজন ব্যাংকার

Leave a Reply