কারো ব্যাংক একাউন্টে ১ লাখ টাকা জমা থাকলেই সে সম্পদশালী

0
269

অর্থমন্ত্রী বলেছেন- ‘যার ব্যাংক একাউন্টে একবার ১ লাখ টাকা জমা পড়েছে সে যথেষ্ট সম্পদশালী, তা থেকে ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক সে দিতে পারবে’। খবরটি শোনার পর হতে খুশিতে আগডুম বাগডুম করছি। লোকে আগে থেকেই কেন জানি আমাকে ‘যথেষ্ট সম্পদশালী’ ভাবে! এই মানবিক কার্পণ্যের বাজারে অন্যের হৃদয়ে উচ্চাসন পাওয়াটা এমনিতেই দুষ্কর- কে আর খামোখা অন্যের ভুল ভাঙিয়ে গরীব হতে চায়! নিজের নামে কোন জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাড়ি, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বিনিয়োগ, ব্যবসা- বানিজ্য, সুইস ব্যাংকে একাউন্ট কিছুই না থাকলেও অর্থমন্ত্রী কর্তৃক এই ‘সলভেন্সি সার্টিফিকেট’ পেয়ে নিজেকে বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এর সমপর্যায়ের মনে হচ্ছে! কেউ আমাকে ‘যথেষ্ট সম্পদশালী’ বললে আমি তখন মুচকি হাসি দেই- লোকের চোখে জেগে উঠা সম্ভ্রম রক্ষা হলো, আবার আমাকে মিথ্যে বলার ‘পাপ’ ও করতে হলো না!

এখন থেকে অবশ্য ‘পাপী’ হতে হবে। ‘আবগারি শুল্ক’ এর ইংরেজি নাম যে ‘Sin Tax’ সেটি আজ সকালেই জানলাম প্রথম আলোতে কামাল আহমেদ এর আর্টিকেলের মাধ্যমে। ব্যাংকে কারো একাউন্টে ১ লাখ টাকা বছরের যে কোন সময় জমা হলেই ‘যথেষ্ট সম্পদশালী’ হওয়ার ‘পাপ- ট্যাক্স’ হিসেবে ৮০০ টাকা কেটে নেওয়া হবে। সারা দুনিয়াতে ‘ইনকাম’ এর উপরে ট্যাক্স বসে, এই দেশেও প্রতিমাসে ‘ইনকাম- ট্যাক্স’ কেটে নেওয়া হচ্ছে কিন্তু কারো ১ লাখ টাকার ব্যাংক স্থিতির উপরে ‘পাপ- ট্যাক্স’ বসানোর নজির বিশ্বে বেনজির।

অর্থনীতির ছাত্র না হয়েও বুঝি যে ‘ইনকাম’ আর ‘ডিপোজিট’ এক নয়। কারো ব্যাংক একাউন্টে ১ লাখ টাকা জমা পড়া মানেই সেটি তাঁর ‘ইনকাম’ নাও হতে পারে। হতে পারে: পিতা-মাতা তাদের সন্তানের পড়াশোনার বার্ষিক খরচটি ব্যাংকে ‘ডিপোজিট’ করেছেন, হতে পারে দুরারোগ্য ব্যাধি আক্রান্ত কারো চিকিৎসা তহবিলে সাহায্যের অংকটি ‘ডিপোজিট’ করা হয়েছে।

আবার কারো ব্যাংক একাউন্টে কোন মাসে ১ লাখ টাকা জমা পড়ার অর্থতো এই নয় যে বছরের ১২ মাস ধরে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা তার আয়, লাখোপতি ঐশ্বর্যবান! কেউ হয়তো দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অমানুষিক পরিশ্রম করে সারা বছরে এই ১ লাখ টাকা সঞ্চয় করতে পেরেছে- তাঁর যক্ষের ধনে এমন তস্কর হানা!

বছরের কোন একদিনে ব্যাংক একাউন্টে ১ লাখ টাকা জমা পড়ার অপরাধে ‘পাপ- ট্যাক্স’ কেটে নেওয়ার পরে অর্থমন্ত্রী সার্টিফিকেট দিবেন- ‘আপনি যথেষ্ট সম্পদশালী’ আর কর্তিত টাকা জমা পড়বে সরকারি লোকসানি ব্যাংকের দারিদ্র্য সারাতে। তারপর ‘দেওলিয়া’ ঘোষিত কোটিপতি চোরেরা আমাদের রক্ত- ঘামে কামানো টাকা থেকে দেওয়া ৪ হাজার কোটি টাকা ম্যাজিকের মতো লোপাট করে নিয়ে যাবে আর আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী তখনো বলে যাবেন-

‘পৃথিবীর সব দেশের ব্যাংকেই চুরি হয় এন্ড ৪ হাজার কোটি টাকা ইজ নাথিং’!

লেখক: সাঈদ আহসান খালিদ।

Leave a Reply