ব্যাংকিং ব্যবসার ২৫ শতাংশ পরিচালিত হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে

0
323

প্রশ্ন : বাংলাদেশের বর্তমান ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর : সিকি শতকের কিছু বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা আজ বাংলাদেশের একটি ক্রম বিকাশমান ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ধারা হিসেবে স্বীকৃত। শতাব্দী প্রাচীন প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং ব্যবসার প্রায় ২৫ শতাংশ পরিচালিত হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। দেশে ৮টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক ১ হাজারের বেশি শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। প্রায় ২০ হাজারের মতো জনশক্তি এই ব্যাংক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। দেশের ব্যবসাবাণিজ্য, কৃষিশিল্প, আমদানিরফতানিসহ সব খাতেই ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন : বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান প্রেক্ষাপট কেমন?

উত্তর : সারা বিশ্বেই ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি মজবুত ভিত্তি রচনা করে এগিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর বাইরেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে ৩শ’রও বেশি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে যে মারাত্মক মন্দা বা অর্থনৈতিক ধস নেমে এসেছিল, যেখানে শতাব্দী প্রাচীন বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা প্রদান করতে হয়েছিল, সেখানে ২৫/৩০ বছরের ইসলামী ব্যাংকগুলো যেভাবে কোনোরূপ রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়াই টিকে থাকার যোগ্যতা প্রদর্শন করেছে তা তাবৎ বিশ্বের সুধী, অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসারে অন্তরায়গুলো কী কী?

উত্তর : ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তির অভাব। ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা পরিচালনার আইনি কাঠামোর অভাব রয়েছে আমাদের দেশে। বিদ্যমান জনশক্তির মানোন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের অপ্রতুলতা রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক মানি মার্কেট, ইসলামী আর্থিক ইন্সট্রুুমেন্টের অভাব উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসারে কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

উত্তর : প্রথমেই দক্ষ জনশক্তির জোগানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে একটি অ্যাপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে তাদের জনশক্তিকে বিশ্বমানে উন্নীত করার চেষ্টা করতে পারে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ইসলামী মানি মার্কেট প্রতিষ্ঠা, ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী শরিয়া কাউন্সিল থাকা দরকার।

প্রশ্ন : একজন ইসলামী ব্যাংকারের কী কী গুণাবলি থাকা দরকার?

উত্তর : একজন ব্যাংকারের মৌলিক যে গুণাবলি দরকার তা একজন ইসলামী ব্যাংকারেরও দরকার। যেমনÑ সততা, নিষ্ঠা, আমানতদারি, ব্যাংকিং আইনকানুন সম্পর্কিত জ্ঞান ইত্যাদি। এর অতিরিক্ত একজন ইসলামী ব্যাংকারের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দরকার। তাকে সুদ বা রিবা সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা ও জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ইসলামী শরিয়া সম্পর্কেও তার পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর : বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল বলে আমি মনে করি। এ দেশের মানুষ ইসলামের বিধিবিধান মানার ব্যাপারে খুবই সতর্ক। সুদ পরিহার করে আর্থিক লেনদেন করার বিষয়ে এ দেশের মানুষ বহু বছর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান। সুদ বা রিবা হারাম এ কথা তারা বহুবার শুনেছে কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা পায়নি।

তাই যখনই ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে তখনই মানুষ তা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। এখন ইসলামী ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে এ ব্যবস্থা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিচালনাগত দক্ষতা অর্জন করা, ভুলভ্রান্তিগুলোর অপনোদন করা এবং শরিয়া পরিপালন নিশ্চিত করা।

লেখকঃ নুরুল ইসলাম খলিফা, প্রিন্সিপাল, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

সূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ

Leave a Reply