বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং বিশ্বে ১০ নম্বরে

0
390

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে ১০ নম্বরে। বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যাবস্থার মোট ১৯ দশমিক ৪ শতাংশই ইসলামী ব্যাংকিং। এ তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে সুদান ও ইরান। তারা শতভাগ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চলছে। বিশ্বের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যাবস্থায় দেশের অবস্থান তুলতে গিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকিংয়ে সৌদি আরবের অবস্থান চতুর্থ; যাদের ৫১ দশমিক ১ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকিং। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ১৩ নম্বরে। প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের চ্যালেঞ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো জঙ্গী অর্থায়নে অভিযুক্ত। এছাড়া ‘ইসলামী ব্যাংকিং এ্যাক্ট’ না থাকা, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং সেবার বহুমুখীকরণের অভাব এ ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বাধা। জঙ্গী অর্থায়নের অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা এবং গাইডলাইন মেনে চলতে হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালন অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়, অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকিং সবদিক দিয়েই লাভজনক। ২০১৬ সালে সাধারণ ব্যাংকিংয়ে নেট প্রফিট মার্জিন যেখানে ১ দশমিক ৯ সেখানে ইসলামী ব্যাংকিং এ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একইভাবে মোট সম্পদের বিপরীতে সাধারণ ব্যাংকিংয়ে আয় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিআইবিএম বলছে, ইসলামী ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের হারও অনেক কম। ২০১৬ সালে অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকিং এ খেলাপি ঋণের হার যেখানে ৯ দশমিক ২ শতাংশ সেখানে ইসলামী ব্যাংকিং এ ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর মত দেয়া হয়। ইসলামী ব্যাংকিং বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কোন আইন নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া এই ব্যাংকিং সেক্টরে লিঙ্গ বেষম্য দূর করতেও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। সারাবিশ্বে ইসলামী ব্যাংকের ৬০ শতাংশ অমুসলিম গ্রাহক রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোকে প্রফেশনাল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরামর্শক মোঃ আজিজুল হক। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যে, ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতি প্রফেশনাল না হয়ে ধর্মীয়ভিক্তিক হয়ে যায়। এটা ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকে শরীয়া কাউন্সিল শক্তিশালী নয়। সেখানে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন কঠিন। বিশেষ করে নতুন নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, এতো বছরেও ইসলামী ব্যাংকিং এ কোন আইন নেই। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের আদলে ইসলামী ব্যাংকিং আইন করতে হবে। যাতে সব ব্যাংক এক প্লাটফর্মের নিচে আসতে পারে। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বেশকিছু ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু, ব্যাংকগুলোর শরীয় কাউন্সিলের সদস্যদের ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা দুটোই কম। বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলী বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মূলত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেয়া হয়। তবে অনেকে এ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের ধোকা দিচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। তিনি ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply