বাংলাদেশের উত্থানের পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে ইসলামী ব্যাংকঃ ইকোনমিস্ট

0
565

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ বাংলাদেশে সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ঢাকাভিত্তিক একটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবদুস সাত্তার জানান, ২০০৫ সালে তিনি যখন আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকে (এবি ব্যাংক) যোগ দেন তখন ব্যাংকটি ‘লোকসানে’ ছিল।

কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকের মতো এটাও বেশ মুনাফা করছে এবং সাধারণ ব্যাংকগুলোর তুলনায় ভালো চলছে। এবি ব্যাংকের মতো দেশে বর্তমানে ৮টি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যাংক রয়েছে। অন্যান্য সেবার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে এ ব্যাংকগুলো। দেশের অন্যতম প্রধান ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৯৮৩ সালে সৌদি ও কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সম্পদ ও ডিপোজিট অর্থের শতকরা ৯০ ভাগই ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানও এটি। এর রয়েছে ১৪ হাজার কর্মচারী ও ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক। ব্যাংকটির মোট মূলধন প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের। রেমিট্যান্স ও রেডিমেড গার্মেন্টের ওপর ভিত্তি করেই এর সফলতা তৈরি হয়েছে। চীনের বাইরে পোশাক শিল্পের প্রধান উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশের উত্থানের পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। বিশ্বের সববৃহৎ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পও পরিচালনা করে এটি।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক মনে করেন, ভবিষ্যতে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থাই সাধারণ ব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে যাবে। দেশের ১৭ কোটি জনগণের ৯০ ভাগই মুসলিম। বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতি ৩ জন বাংলাদেশির ১ জনের ব্যাংক হিসাব রয়েছে। সরকারের এক জরিপ মতে, দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশেষ করে শহরের যুবকদের মধ্যে। শহুরে যুবকদের ৮৪ ভাগই ইসলামী ব্যাংকিং পছন্দ করে। তবে এ ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সরকারের অনাগ্রহ রয়েছে। সরকারি প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভূমিকা নেই।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংকই একমাত্র ব্যাংক যেখানে ঘুষের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিকী করা হয়নি। অন্যদিকে সাধারণ ব্যাংকগুলোর রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজে ঋণ দেয়া ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্যাংকগুলোতে রাজনীতিকদের স্বজনপ্রীতি উৎসাহিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। খুব শিগগিরই নতুন একটি ব্যাংকিং আইন আসছে। আইনটি ব্যাংকের পরিচালকদের ৬ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগ করে দেবে। এছাড়া এ আইনের আওতায় একই পরিবারের ২ থেকে শুরু করে ৪ জন ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

চলতি মাসে কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ বছরের জুন পর্যন্ত সাধারণ ব্যাংকগুলোর মোট মুনাফা মাত্র ৪.৯ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ৪.৩ শতাংশের তুলনায় সাধারণ ব্যাংকগুলোর অকার্যকর ঋণ ৯.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৫৭টি ব্যাংকের ৯টিতেই মোট ঋণের ২০ শতাংশই অকার্যকর। স্থবির রফতানির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা মন্থর, ব্যাংকগুলোর বাজে ঋণ সমস্যা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। জুন পর্যন্ত গত এক বছরে তৈরি পোশাক রফতানি মাত্র ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে- যা ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্থর গতির। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ৩টি বৃহত্তম ঋণগ্রহীতা এক্ষেত্রে যদি ঋণ খেলাপি হয়, ২৩টি ব্যাংক দেওলিয়া হয়ে যাবে।

সূত্রঃ ইকোনমিস্ট

Leave a Reply