প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ইসলামী ব্যাংক

0
1020

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই ব্যাংকে সবসময় সন্তোষজনক তারল্য বিদ্যমান।

প্রকৃতপক্ষে ইসলামী ব্যাংকে বর্তমানে তারল্য উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, ব্যাংকে গত বছরে অতিরিক্ত তারল্য উদ্বৃত্ত ছিল যা এ বছর অধিকতর লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে সেজন্য শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ গত বছরের জুনের চেয়ে ঋনাত্মক দেখা যাচ্ছে কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। উল্লেখ্য আমানতের তুলনায় বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির কারণে ইতিপূর্বে জমাকৃত তারল্যের সুষ্ঠু লাভজনক ব্যবহার হয়েছে, যা দক্ষ তহবিল ব্যবস্থাপনার বহি:প্রকাশ। অধিকন্তু বিভিন্ন ইসলামিক ব্যাংক ও ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে দেয়া আছে। উল্লেখ্য ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর মাধ্যমে সিংহভাগ রেমিটেন্স আহরিত হয়ে থাকে বিধায় সার্বিক ভাবে দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব ব্যাংকের আমানতের উপর কিছুটা পড়েছে।

ব্যাংকের Investment Deposit Ratio (IDR) সব সময় অনুমোদিত সীমার মধ্যে ছিল:
ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ পরিপালনের মাধ্যমে ব্যাংকিং করে বিধায় দেশের অন্যান্য প্রচলিত ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সুদ ভিত্তিক ব-ে (Treasury Bond) বিনিয়োগ করতে পারে না। যার ফলে ২০১৬ সালের ৩০ শে জুন তারিখে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকা। এই উদ্বৃত্ত টাকার সিংহ ভাগই অতি অল্প লাভে (০.৭২%) Bangladesh Government Islamic Investment Bond (BGIIB)-এ বিনিয়োগ ছিল। ২০১৭ সালে ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরি পলিসিতে বর্ণিত বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ১৬.৫০% এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং ব্যাংকের বার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে এই উদ্বৃত্ত তারল্য অলস না রেখে দেশের অগ্রাধিকারযুক্ত উৎপাদনশীল খাতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকল ব্যাংকিং নিয়ম আচার পরিপালন করে বিনিয়োগ করেছে। যার প্রেক্ষিতে ব্যাংকের Investment Deposit Ratio (IDR) জুন ২০১৭ তে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৪৪% যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত সর্বোচ্চ সীমা ৯০% এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং বর্তমানেও আছে।

ইসলামী ব্যাংক কোন আগ্রাসী বিনিয়োগ করেনি:
২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিনিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাংক যে বিনিয়োগ বিতরণ করেছে তার অধিকাংশ বিনিয়োগই ২০১৬ সালের মঞ্জুরিকৃত। উল্লেখ্য এই সময়ে ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ছিল আমানতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। এ বিষয়ে বিগত ২৬ জুলাই প্রথম আলো পত্রিকায় একটি বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় এবং দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ গ্রাহকগণ আগের সময়ের চেয়ে এ বছর তাদের পূর্বের মঞ্জুরিকৃত বিনিয়োগ থেকে বেশি অর্থ উত্তোলন করেছে।

ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে:
ইসলামী ব্যাংকের আয় কমেনি বরং জুন ২০১৬ সালের তুলনায় জুন ২০১৭ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা প্রায় ২২০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ২০১৬ সালে পুন:তফসিলকৃত ও পুনর্গঠিত কিছু খেলাপি বিনিয়োগ ২০১৭ সালে (জানুয়ারি-জুন) এসে পুনরায় খেলাপি হয়ে যাওয়ায় সংস্থান (Provision) এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। যার ফলে এটি কর ও সংস্থান পরবর্তী মুনাফার উপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে Earning Per Share (EPS) কিছুটা কমে যায়। এ থেকে উত্তরনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুতই এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ”

Leave a Reply