খেলাপি ঋণ বেড়েই চলছে

0
281

ঋণ দিয়ে বিপাকে পড়ে গেছে ব্যাংকগুলো। বড় ঋণগুলো আদায় হচ্ছে না। অনেকে আদালতের আদেশে খেলাপি থেকে নিজেকে বিরত রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে গ্রাহক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও ব্যাংকগুলোর খারাপ সম্পদের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ।

এসব কারণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শেষ প্রান্তিকে (মার্চ-জুন) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩৯ কোটি টাকা। তাই গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

জুনভিত্তিক অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে বেশি তৎপর ছিল। এই সময়ে ঋণ নিয়মিতও হয়েছে বেশ। ফলে শেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কম বেড়েছে। এর মাধ্যমে বেশির ভাগ ব্যাংক ভালো মুনাফা দেখাতে পেরেছে। গত প্রান্তিকে শুধু বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, নতুন করে কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নগদ ঋণ আদায়ও ভালো হচ্ছে। মামলার কারণে যেসব ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না, ভালো আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে সেসব মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতের ঋণ বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। গত মার্চে ঋণ ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গত জুনে ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মোট ঋণের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশই খেলাপি।

এর মধ্যে সরকারি খাতের ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩৪ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। গড়ে ব্যাংকগুলোর ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ ঋণই খেলাপি। মার্চের তুলনায় গত জুনে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে।

বেসরকারি খাতের দেশীয় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ ঋণই খেলাপি। মার্চের তুলনায় এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১ কোটি টাকা।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকেরা নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। যে উদ্দেশ্যে এসব ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ঋণের অর্থ পাচারও হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। ফলে খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা প্রকাশ পাচ্ছে।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ জুন শেষে হয়েছে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ ঋণই খেলাপি। খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে এসব ব্যাংকে।

কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ২৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ ঋণই খেলাপি। মার্চের তুলনায় খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে এসব ব্যাংকে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বড় যেসব ঋণ পুনর্গঠন করা হয়েছিল, তার কয়েকটি খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ কারণে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে। আদালতের আদেশে অনেকে খেলাপি থেকে বিরত থাকছেন, কিন্তু ব্যাংকের খারাপ সম্পদের পরিমাণ তো বাড়ছেই। বন্যার কারণে সামনের দিনে খেলাপি ঋণ বাড়তে পারে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply