কর্পোরেট জীবনের শুরু যেভাবে

0
399

কর্পোরেট জীবনের প্রথম দিনগুলি হচ্ছে, আপনার ব্যাপারে আপনার বস ও কলিগদের ধারনা তৈরির সময়। আপনার ব্যাপারে এই সময়ে তাদের যেই মুল্যায়ন হবে সেটিই পরবর্তীতে কন্টিনিউ করবে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে।

কথায় আছে ‘ফার্স্ট সাইট ইজ দ্যা বেষ্ট সাইট’- ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশন ইজ দ্যা বেষ্ট ইম্প্রেশন’- তাই কর্পোরেট জীবনের প্রথম দিনগুলিতে যেন কারো মাঝে আপনার ব্যাপারে আপত্তিকর কোন মূল্যায়ন বা ধারনা তৈরি না হয় সেজন্যে নিজের এটিচ্যুডের ব্যাপারে চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, চাকুরী জীবনের প্রথমে তৈরি হওয়া ইতিবাচক ধারনাগুলোই আপনার পরবর্তী সাফল্যের সিঁড়ি হিসেবে কাজ করবে।

এ সময়ে আপনার ব্যাপারে আপনার বস ও কলিগদের মধ্যে একটি ইতিবাচক ধারনা তৈরির জন্য নিম্নোক্ত ৫টি কাজ করা যেতে পারে-

১. সময় ও পোষাকের জ্ঞান রাখুনঃ
সময় ও পোষাকের জ্ঞান, কর্পোরেট জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবেই আপনার ব্যাপারে নতুন অফিসে প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত প্রথমেই যে মূল্যায়নটি হবে, তা আপনার অফিস টাইম ও পোষাক আষাক নিয়ে। যথাসময়ে অফিসে আগমন ও প্রস্থান এবং ফরমাল অফিসিয়াল পোষাক আপনাকে একজন নিয়মানুবর্তী ও রুচিশীল স্মার্ট মানুষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিবে।

২. বেশি শুনুন, কম বলুনঃ
কর্পোরেট জীবনের প্রথমদিকে আপনাকে ৯০/১০ পলিসি এপ্লাই করতে হবে। অর্থাৎ আপনি ৯০ ভাগ শুনবেন আর ১০ ভাগ বলবেন। কিন্তু বলার ১০ ভাগও হবে জানার আগ্রহ থেকে প্রশ্নবোধক কোনকিছু। কম কথন ও বেশি শ্রবণ আপনাকে ব্যক্তিত্ববান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিবে, পাশাপাশি অতিকথনে আপনি হবেন হালকা ব্যক্তিত্বহীন।

৩. নিজেকে ব্যাখ্যা করবেন নাঃ
আপনার বস বা কলিগরা সবসময় আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে, একথাটিও সঠিক নয়। যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে কখনো নিজে থেকে নিজেকে ব্যাখ্যা করতে যাবেন না। মনে রাখবেন, আপনি কমপক্ষে ৩০ বছর এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন, তাই আজকেই আপনাকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। সময় ও পরিবেশ বুঝে বস বা কলিগের কাছে ওই একই বিষয়ের পরবর্তী ব্যাখ্যা আপনাকে জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানরূপে পরিচয় করিয়ে দিবে। তাই অস্থির হবেন না। তারচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, সবসময় কর্মের মাধ্যমে নিজেকে ব্যাখ্যা করুন, কথার মাধ্যমে নয়।

৪. ইতিবাচক থাকুন, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন নাঃ
এটিই রূঢ় সত্য যে, কর্পোরেট লাইফে আপনি সহযোগির পরিবর্তে প্রতিযোগি, কর্মীর পরিবর্তে সমালোচক এবং বন্ধুর পরিবর্তে স্বার্থবাদি পাবেন বেশি। এমনি একটি পরিবেশে ইতিবাচক থাকতে পারা যেমন কঠিন, তেমনি কোনরূপ নেতিবাচক এটিচ্যুড না দেখিয়ে নিজের ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করা খুব সহজ।
এখানে আপনি অযাচিত সমালোচনা, অনাকাঙ্ক্ষিত অবমূল্যায়ন এমনকি অপবাদেরও মুখোমুখি হতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে (S+S)=2S পলিসি এপ্লাই করতে হবে। মনে রাখবেন, 2S= Silence & Smile, Silence can avoid the problem while Smile can solve the problem.

৫. শিখুন, কাজ করুনঃ
দুনিয়ায় শেখানোর প্রবণতা প্রায় সবার মাঝেই আছে কিন্তু শেখার প্রবণতা কম। আর নতুন পরিবেশে একজন পিয়নও তার উর্দ্ধতণকে শেখাতে চায়। এক্ষেত্রে উৎসুক মন নিয়ে আপনি শিখে যাবেন, জানা জিনিসও পুণরায় শিখবেন। আপনার আগের অফিসে এ বিষয়ের আরো উন্নত সিস্টেম বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার পারদর্শীতার কথা বলে কাউকে প্রথমেই শেখাতে যাবেন না। তাহলে প্রথমেই হোচট খাবেন। তাই শিখুন, কাজ করুন। আপনার শেখার আগ্রহ আপনাকে ইতিবাচক মানুষ হিসেবে পরিচয় করাবে আর পরবর্তীতে এ বিষয়ে আপনার আরো উন্নত পারদর্শীতা সবার মাঝে আপনাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Leave a Reply