ইসলামী ব্যাংক ছাড়ছে ‘ইসলামিক সেন্টার’

0
2964

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ বিদেশি একাধিক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের পর এবার ইসলামী ব্যাংক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান (কর্পোরেট স্পন্সর) বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। ব্যাংকটিতে থাকা ইসলামিক সেন্টার তাদের শেয়ার চলতি মাসেই বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ডিএসই জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের কাছে ইসলামী ব্যাংকের ৩৭ লাখ শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানাটি ১ লাখ শেয়ার বিক্রি করবে। বিদ্যমান বাজার দরে পাবলিক মার্কেটে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ শেয়ার বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কুয়েত ফাইন্যান্স হাউজ ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ছিল ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮২টি শেয়ার। যা ব্যাংকের মোট শেয়ারের সোয়া ৫ শতাংশ।

এদিকে কুয়েত ফাইন্যান্স হাউজ সব শেয়ার বিক্রি করলেও ইসলামী ব্যাংকে এখনও কুয়েতের আরেক প্রতিষ্ঠান দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোস্যাল সিকিউরিটির নামে ১০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪১ শেয়ার রয়েছে। যা ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ারের প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ। গুঞ্জন রয়েছে এ শেয়ারও বিক্রি করে দেবে কুয়েত।

১৯৮৩ সালে বেসরকারি উদ্যোগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা হয়। সে সময় ব্যাংকটির মোট শেয়ারের প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল বিদেশিদের হাতে। তবে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিদেশি কোম্পানিগুলো ইসলামী ব্যাংকটির শেয়ার ছেড়ে দিতে শুরু করে। বর্তমানে বিদেশিদের কাছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার আছে ৩৫ শতাংশের মতো।

ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক ২০১৪ সালে ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়। ২০১৫ সালে সব শেয়ার বিক্রি করে দুবাই ইসলামিক ব্যাংক। এটিও ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসে। পরিবর্তনের পর গত মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক আইডিবি (ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংক) ৮ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদেশিদের কাছে ইসলামী ব্যাংকের যে শেয়ার রয়েছে তার মধ্যে-আল রাজি কোম্পানি ফর ইনস্টেমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড’র ৯ দশমকি ৯০ শতাংশ, আরাবাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট’র ৯ দশমকি ৯০ শতাংশ, আবদুল্লাহ আবদুল আল রাজি’র ৭ দশমকি ৫৮ শতাংশ, পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ, আইডিবি’র ২ দশমিক ১০ শতাংশ, জেপি মরগানের গ্রাহকের ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং আবদুল্লা আবদুল আজিজ আল রাজি’র ১ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

অপরদিকে দেশি শেয়ারের মধ্যে-এক্সেল ডাইং’র ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, মোর্তেজা অ্যাসেটের ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, আইসিবি’র ২ দশমিক ৪২ শতাংশ, ইবনে সিনা ট্রাস্টের ২ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং গ্র্যান্ড বিজনেস, আরমাডা স্পিনিং মিলস, জেএমসি বিল্ডার্স, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল, এবিসি ভেঞ্চার, প্লাটিনাম এনডেভেয়ার্স, এক্সেলসিওর ইমপেক্স ও মারশা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ’র ২ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। এছাড়া বায়তুল শরীফ ফাউন্ডেশন, ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরো ও বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের কাছেও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একদিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমেছে, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে পরিচালন নগদ অর্থের সংকট। চলতি বছরের তিন প্রান্তিকের মধ্যে সর্বশেষ প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সবচেয়ে কম মুনাফা হয়েছে ব্যাংকটির। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ার প্রতি মুনাফা (সমন্বিত) হয়েছে মাত্র ৩১ পয়সা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ১৫ পয়সা।

সূত্রঃ শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply