ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হচ্ছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

0
562

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ পরিচালকদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে দুই স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। নতুন করে একজনকে পরিচালক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের পর তার নিয়োগ কার্যকর হবে। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, দুই জন পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে পর্ষদ সভা। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন পেলে সেটি কার্যকর হবে। অন্যদিকে নতুন করে একজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি হলেন- দুদকের সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

এ বিষয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরিচালক হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে কোনো কাগজপত্র আমার কাছে আসেনি’। গত ১১ মে তিনি নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পদত্যাগী পরিচালক সৈয়দ আহসানুল আলম জানান, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নিয়ে প্লাস-মাইনাসের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই পরিচালনা পর্ষদ ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার সরে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এরপর গত ১৩ মে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে স্বতন্ত্র এই পরিচালক কয়েকটি গণমাধ্যমকে জানান, যাকাতের ৪৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর যাকাত তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইফতারের ১৩ কোটি টাকা এবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সুবিধাভোগীদের তালিকাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খানকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। গত ১৭ মে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জবাব দিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম ব্যাংকের গোপনীয়তা ভেঙেছেন। পরিচালক হওয়ার সময় তিনি গোপনীয়তা রক্ষার যে শপথ করেছিলেন, তা লঙ্ঘন করেছেন। ব্যাংক নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। আমি তাকে পদত্যাগ করতে বলব না, উনি নিজে সরে গেলে সমস্যা নেই।’

এরপর গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) দুই পরিচালককে অপসারণের দাবি জানান উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা। এজিএম শেষে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় সৈয়দ আহসানুল আলমকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ পিপিএমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তারা তারা স্বতন্ত্র পরিচালক থাকবেন বলে জানান চেয়ারম্যান। এরপর গত ২৫ মে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান ওই দুই পরিচালক। বুধবার বোর্ড সভায় তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসে গত ৫ জানুয়ারি। নতুন পরিচালক নিয়োগ, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডিসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পদে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে ব্যাংকটিতে নানা পর্যায়ে অস্থিরতা দেখা যায়।

Leave a Reply