ইসলামী ব্যাংকিং বিকশিত হচ্ছে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী

0
464

বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। ধর্মের প্রতি মানুষের সহজাত আগ্রহের কারণেই দেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাত বিকশিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। গত শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইসলামিক ব্যাংকস্ কনসালটেটিভ ফোরাম (আইবিসিএফ) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, গ্রামে গেলে মানুষ বলে ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখা দেন। আমরা সেখানে আমানত রাখতে চাই। ধর্মীয় অনুভূতির কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স পাঠায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে আগে নানা প্রশ্ন ছিল। সে পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার ইসলামী ব্যাংকে সংস্কার এনেছে। বর্তমান চেয়ারম্যান আরাস্তু খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ মিঞার নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আর্থিক অর্ন্তভূক্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিপূর্বে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব চালু করার উদ্যোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো প্রায় এক কোটি হিসাব চালু করেছিল। যদিও সেসব ব্যাংক হিসাবের বড় অংশই এখন অচল হয়ে গেছে।

আইবিসিএফের ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম নূরুল ফজল বুলবুলের সঞ্চালনায় ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইসলামি বিনিয়োগ: শ্রেষ্ঠতর বিকল্প’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধূরী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হামিদ মিঞা, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আবদুল হান্নান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদসহ আরও অনেকে।

সেমিনারে ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইসলামি বিনিয়োগ: শ্রেষ্ঠতর বিকল্প’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, সুদভিত্তিক ঋণ দেওয়া নেওয়া প্রদ্ধতির ভেতরে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকোচনের বীজ। প্রথাগত এ প্রদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে সংকট ডেকে আনে। সৃষ্টি হয় বেকারত্ব এবং সম্পদ মুষ্টিমেয়র হাতে কুক্ষিগত হয়। সে হিসেবে সুদভিত্তিক ব্যবস্থা সম্পদের সুষম বণ্টনবিরোধী এবং সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণপরিপন্থী’।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Leave a Reply