আসছে ‘পুলিশ ব্যাংক’

0
1074

এবার নিজেদের নামে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক খুলতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত এ বাহিনী। অন্য বাহিনীর মতো কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এ সেবা চালুর চেষ্টা করছে পুলিশ।

এর আগে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে চালু হয় ট্রাস্ট ব্যাংক। গত বছর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে চালু হয় সীমান্ত ব্যাংক। ‘পুলিশ ব্যাংক’ অনুমোদন পেলে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৮ তে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ৪০০ কোটি টাকার মূলধন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ব্যাংক অনুমোদনের ক্ষমতা থাকলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তই এতে চূড়ান্ত। ২০১৬ সালে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ ৪০০ কোটি টাকা জোগান দিতে পারলে ব্যাংক স্থাপনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। এরপর থেকেই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে এ বাহিনী।

প্রথম দিকে সব পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে ব্যাংক করতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আশা করছে বাহিনীটি।

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক শোয়েব রিয়াজ আলম গতকাল শনিবার বলেন, ‘ব্যাংক করতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। যোগ্য এমডি পেলে আগামী মাসেই ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে প্রাথমিক আবেদন করা হবে। আগ্রহপত্র পেলে যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামী বছরের মার্চে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা আছে।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁর ১৯৮২-১৯৯০ পর্যন্ত মেয়াদে নয়টি বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় আটটি ব্যাংক অনুমোদিত হয়। ১৯৯৬-২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার ১৩টি ব্যাংক অনুমোদন দেয়। এরপর ২০০৯ থেকে দুই মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১০টি ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। এর মধ্যে অনিয়মের

জন্য এনআরবি কমার্শিয়াল ও ফারমার্স ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি খাতে অন্য ১২ ব্যাংকের অবস্থাও নাজুক।

এর বাইরে নতুন করে আরও দুটি তফসিলি ব্যাংকের অনুমোদন দিতে সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মধ্যে প্রস্তাবিত একটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন। অন্য একটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা সন্দ্বীপের এম এ কাশেম। এর কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply